দলিত সম্প্রদায় বলে আমরা অসহায় নির্যাতিত নিপীড়িত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৩ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

দলিত সম্প্রদায় বলে আমরা অসহায় নির্যাতিত নিপীড়িত

নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন এলাকায় রেলওয়ে কর্তৃক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে বহু দোকান-পাট, গুদাম ঘর বিশেষ করে বহু প্রজন্ম ধরে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায় সহ প্রায় ১১১টি পরিবারকেও উচ্ছেদ করা হয় তাদের বসতবাড়ী থেকে।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় শুরু করে উচ্ছেদ অভিযান। উচ্ছেদের পূর্বে কোন ধরনের নোটিশ না দেয়ার অভিযোগ করেছে উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্তরা।

এদিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় রেল স্টেশনের পশ্চিম ও পূর্ব পাশের বহু স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। হরিজন বা দলিত সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি সহ বহু দোকান পাট এই উচ্ছেদের আওতায় পরে। উচ্ছেদের কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা না থাকায় সেখানে বসবাসরত মানুষের মধ্যে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিতে হঠাৎ হুলুস্থূল লেগে যায়। এর মধ্যে কেও নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিলেও অনেকে নিজ মালামাল সরিয়ে নিতে সক্ষম হননি।

নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন কলনীতে বহু প্রজন্ম ধরে বসবাস করে আসছেন রেলওয়ে কলোনীর শ্রী শ্রী শিব ও শীতলা মায়ের মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শান্তি রঞ্জন দাস (৫০)।

হরিজন সম্প্রদায়ের বসতবাড়ী নিয়ে কথা বলার সময় তার চেহারায় ফুটে উঠেছিল সংশয় আর অনিশ্চয়তা। তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘আমার জন্ম আর বেড়ে উঠা এখানেই, দাদা বাবাদের এখানে থাকতে দেখেছি। রেলওয়ে স্টেশন কলোনীতে হরিজন সম্প্রদায়ের ৩২টি পরিবারের ঘর ছিল যেখানে ছিল প্রায় দুইশ’র অধিক মানুষের বসবাস। বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেদ হয়ে এই পরিবারের লোকজনের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেল। সংখ্যালঘু হরিজন বা দলিত সম্প্রদায় বলে আমরা সেভাবে সাহস নিয়েও আমাদের অধিকারের কথা তুলে ধরতে পারি না।’’

অন্যদিকে কথা হয় নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে কলোনীর পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য শহীদের সাথে। তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘‘বস্তিবাসীদের নির্ধারিত স্থানে পুনর্বাসন করে উচ্ছেদ করার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বলে থাকেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে দেখা যাচ্ছে তার কথার কোন কার্যকারিতা নাই।’’

তিনি আরো জানান, রেলওয়ে কলোনীর মন্দিরের আশেপাশের ৬৩০০ বর্গফুটের মধ্যে যত বসতবাড়ী বা স্থাপনা রয়েছে তা না ভাঙ্গার জন্য উচ্চা আদালত থেকে আমরা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এসেছি। কিন্তু উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আমাদের ঘরবাড়ী ভেঙ্গে ফেলা হলো।

ব্যবসায়ী এবং হরিজন কলোনীতে বসবাসকারী কাউকেই কোনো ধরণের নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘আমাদের কোনো নোটিশ নেওয়া হয় নাই। ১১টার দিকে গাড়ি নিয়ে এসে ভাঙ্গা শুরু করে। আমরা কোনো কিছু বের করতে পারি নাই। আমাদের সব কিছু ধ্বংস নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এখন কোথায় যাবো কি করব কিছুই বুঝতেছি না। আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’’

রেলওয়ে কলোনীর পঞ্চায়েত কমিটির এক সদস্য নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এই কলোনীতে ৩২টা হরিজন সম্প্রদায়ের পরিবার সহ মোট ১১১টা পরিবার থাকতো। এরা সবাই গরিব একেবারে নিম্নবিত্ত পরিবার। তাঁদের যেটুকু সহায় সম্বল ছিল সব এই কলোনীতেই ছিল। পরিবারগুলা একেবারে পথে বসে গেলো। এদের আর যাওয়ার মত কোনো জায়গা থাকলো না।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। সম্প্রতি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ডাবল রেললাইন প্রকল্পের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শহরে প্রশাসনের সহযোগিতায় নিজ জায়গা উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিজান চালিয়ে আসছে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও