অচল নারায়ণগঞ্জকে সচল রেখেছিল রিকশা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩০ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার

অচল নারায়ণগঞ্জকে সচল রেখেছিল রিকশা

শ্রমিকদের ডাকা অবরোধের ফলে নারায়ণগঞ্জে মোটরযান চলাচল বন্ধ ছিল। ২০ নভেম্বর বুধবার সকাল ৬টা হতে টানা ৮ ঘণ্টা চলমান এই অবরোধের মধ্যে শুধুমাত্র রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় কাজ সারতে রিকশা একেবারে মূল যানবাহনের তালিকায় উঠে আসে। কারণ রিকশা ছাড়া এ দিন আর কোন পাবলিক যানবাহন ছিল না। তাই যাত্রা যত দীর্ঘই হোকনা কেন যানবাহনের একমাত্র মাধ্যম ছিল রিকশা। এদিকে অনেকে রাজধানীতে পর্যন্ত গমণ করেছেন রিকশায় চড়ে। এতে করে একদিনের রিকশা ভ্রমণে নারায়ণগঞ্জবাসীর এক ব্যতিক্রমধর্মী অভিজ্ঞতার চিত্র দেখা গেছে।

এদিন সকাল ৬টা হতে টানা ৮ ঘণ্টা জনদুর্ভোগের পর দুপুর ২টায় অবরোধ তুলে নিয়েছে শ্রমিকেরা।  তবে এই অবরোধের সময়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। টানা ৮ ঘণ্টা অবরোধের কারণে লাখ লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এই সময়ে জনগণের চলাচলের একমাত্র যান হিসেবে রিকশা বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীরা চাষাঢ়া বাস টার্মিনালে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করেন। বাস থাকলেও বন্ধ থাকায় অনেকেই বাসায় ফিরে যান। আর যারা জরুরী প্রয়োজনে বের হয়েছে তাদের কেউ ট্রেনের জন্য আবার কেউ হেঁটে রওনা হন কিংবা রিকশায়। সিএনজি অটোরিকশাও চলাচলে বাধা দিতে দেখা যায় শ্রমিকদের। শুধু মাত্র প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা ও লেগুনা চলাচল করতে দেখা যায়।

শহীদুল ইসলাম নামে এক যাত্রী জানায়, প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা করি। কিন্তু সড়কে যানবাহন বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে রিকশায় করে রওনা দেই। প্রথমে রিকশায় করে নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাঢ়া ৪০ টাকা, সেখান থেকে সাইনবোর্ড ৬০ টাকা জনপ্রতি, সেখান থেকে কোনাপারা অটো রিকশাতে ২০ টাকা, সেখান থেকে গ্রিন মডেল টাউন ৩০ টাকা, সেখান থেকে নন্দিপাড়া ৭০ টাকা, সর্বশেষ বনশ্রীতে পৌঁছতে ৩৫ টাকা রিকশা ভাড়া লেগেছে। এভাবে সর্বমোট ২৫৫ টাকা রিকশা ভাড়া খরচ হয়েছে। এর সাথে রিকশায় চড়ার নতুন অভিজ্ঞতাও হয়েছে।

ব্যবসায়ী জাফর মিয়া বলছেন, ব্যবসায়ের জন্য সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়েছে। তবে কাছে কিংবা দূরে সকল স্থানে যাওয়ার জন্য একমাত্র রিকশা ব্যবহার করতে হয়েছে। কারণ আর কোন পাবলিক যানবাহন পাওয়া যায়নি। কারণ এদিন অবরোধের জন্য মোটর যানবাহন বন্ধ ছিল।

আরেক ব্যবসায়ী ছাদেক আলী বলছেন, প্রতিদিন প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন বায়ারদের সাথে সাক্ষাত করতে বিভিন্ন স্থানে যাই। তবে আজকে অবরোধের কারণে গাড়ি নিয়ে আসিনি। কিন্তু সড়কে অন্য কোন গাড়ি এমনকি সিএসজিও পাচ্ছিনা। তাই অনেকটা পথ রিকশায় চড়ে যাতায়াত করছি।

রোকসানা বেগম বলেন, সকাল থেকে মেয়েকে স্কুলে নিতে যাওয়া থেকে শুরু করে কর্মস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত সকল কাজ সারতে হয়েছে রিকশায় চড়ে। আর অন্যান্য যানবাহন বন্ধ থাকায় রিকশা ভাড়া বেশ চড়া ছিল। কোন কোন স্থানে দুই গুণেরও বেশি টাকা ভাড়া গুণতে হয়েছে।

নীলা বেগম বলছেন, সকাল থেকে পুরো নারায়ণগঞ্জ রিকশার নগরীতে পরিণত হয়েছে। পুরো শহরে রিকশা ছাড়া আর কোন পাবলিক যানবাহন পাওয়া যায়নি। একারণে নগরজুড়ে রিকশা আর রিকশা দেখা গেছে। রিকশা ছাড়া আর তেমন কোন পাবলিক পরিবহন চোখে পড়েনি।

জানা গেছে, নতুন সড়ক পরিবহন আইন স্থগিত রাখা সহ নয় দফা দাবিতে বুধবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ডাকে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ওই কর্মবিরতিতে সংহতি প্রকাশ করে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও সকল ধরনের গণপরিবহন বন্ধ ছিল।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও