চাষাঢ়ায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে সাহায্য তুলে পথশিশু (ভিডিও)

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১১ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

চাষাঢ়ায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে সাহায্য তুলে পথশিশু (ভিডিও)

আল আমিনদের কোন ঠিকানা হয় না, খোলা আকাশই হয়ত তাদের ঠিকানা। শুধু আল আমিন নয়, ইমনদের মত আরো অনেক শিশু রয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহর জুড়ে যাদের ঠিকানা খোলা আকাশ। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনার থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন, চাষাঢ়া রেল স্টেশন, লঞ্চ ঘাট সহ বিভিন্ন শপিং মলের সামনে এই পথ শিশুদের দেখা যায়। এই পথ শিশুরা মানুষের কাছে গিয়ে আকুতি জানিয়ে হাত পাতে কিছু পাওয়ার আশায়। অসহায় এসব পথ শিশুদের সাথে অনেকের সখ্যতা গড়ে ওঠে। শিশুটির বয়স মাত্র ছয় বছর। মায়ের সাথে থাকে চাষাঢ়া শহীদ মিনার ও ফতুল্লা থানার মাসদাইর টাগারপাড় এলাকার। এ রেল স্টেশনে থাকে। বাবার মারা গেছে অনেক আগেই।

এই বয়সে শিশুটিকে কোন স্কুলের বারান্দায় বা খেলার মাঠে দেখতে পাওয়ার কথা থাকলেও দেখা যাচ্ছে মার্কেটের সামনের ফুটপাতে। শিশু আল আমিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে ভিক্ষা করে। প্রতিদিন তার মা রাতে এসে টাকা সহ তাকে নিয়ে যায়।

সমবায় মার্কেট এলাকার একজন ব্যবসায়ী জানায়, শিশুটি বোন এসে তাকে ফুটপাতে শুইয়ে দিয়ে যায় এবং এভাবেই সে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে।

তিনি আরো জানায়, ‘আজ এই শিশুটি (আল আমিন) শুয়ে আছে, আরেক দিন অর ছোট ভাইকে শুইয়ে দিয়ে যায় আবার অনেক সময় অর বড় বোন শুয়ে থাকে। এই ভাবেই অরা সাহায্য তোলে বা ভিক্ষা করে।’

শহীদ মিনার এলাকার এক পথশিশু জানায়, আল আমিনের মা তাকে ঘুমের ওষুধ সেবন করিয়ে মার্কেটের সামনে রেখে যায় এবং টাকা ওঠলে পরে তাকে নিয়ে যায়।

সমবায় মার্কেটের এলাকার এক ব্যাগ বিক্রেতা জানায়, বাচ্চাটার দুই তিনজন ভাই বোন আছে প্রতিদিন সন্ধার সময় শিশুটি রেখে যায় এবং রাতে এসে টাকাসহ নিয়ে যায়, পরের দিন আবার এসে রেখে যায়। আমি প্রতিদিন ব্যাগ বিক্রি করতে এসে দেখি। কোথায় থাকে তা আমি জানি না।

পথটারী নাজমা জানায়, এই বাচ্চার আরো ভাই বোন আছে, আমরা এই শিশুটিকে নিয়ে চেয়েছিলাম। নিজের সন্তানের মত বড় করতাম। অর বাবা রিক্সা চালায় তাই আমাদের দেয়নি।

পথশিশু বৈশাখী জানায়, আল আমিন এখানে ভিক্ষা করে এবং অর মা শহীদ মিনারে বসে থাকে ৫’শত টাকা হলে অরে নিয়ে যায়। সে আরো জানায় অর বাবা নেই মা আছে।

শিশু আল আমিনের মা জানায়, আল আমিন নিজেই এসে ভিক্ষা করে। আমি না করি, মারি তার পরও আসে। আমার দুই ছেলে, আল আমিন আজ প্রথমই এসেছে। আমি বাজারে কাজ করি।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মনোয়ারা সুরুজ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, যে শিশুরা রাস্তায় ঘুরে বা বাবা মা তাদের দিয়ে পেশা হিসাবে ব্যবহার কওে তাদের আমরা ভবপুরে অথবা সমাজ সেবার এতিমখানা এদেরকে দিব যাতে লেখাপড়া করে সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে পারে। এই শিশু তো পৃথিবীতে একা এসেনি, এই শিশু দেশের সম্পদ। এই সম্পদকে রক্ষা করার জন্য যেটুকু করার দরকার আমি ডিসি স্যারের সাথে কথা বলে সেই চেষ্টা করে যাব।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও