ফুলের রাজ্যে আলু চাষ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১০ পিএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার

ফুলের রাজ্যে আলু চাষ

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরের ফুলের রাজ্য হিসেবে পরিচত সাবদী ও দিঘলদি এলাকা এখন প্রায় মৃতপ্রায়। নানা সমস্যায় ও লোকসানের বোঝা বহন করতে হয়। ভুর্তকী দিয়ে চাষীরা আর ফুল চাষ করতে চাচ্ছে না। ফুলের রাজ্য হিসেবে পরিচিত এলাকা এখন আলু চাষের রাজ্য বললেও ভুল হবে না।

প্রতিবছর বসন্ত বরণ, ভালোবাসা দিবস, বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষ, স্বাধীনতা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মতো দিনগুলোতে ফুলের অতিরিক্ত চাহিদা থাকে। আর এ চাহিদার মেটাতে চেষ্টা করে বন্দর উপজেলার দখলদী এলাকার ফুল চাষিরা। যার কারণে দিন দিন বন্দরে ফুল চাষ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে বন্দর উপজেলার দিঘলদি ও সাবদী গ্রামের প্রায় ২৫০ কানি (বিঘা) জমিতে এখন চাষ হচ্ছে গাঁদা, গ্লাডিয়াস, চ্যারী, জাপানী, চন্দ্রমল্লিকা সহ নান জাতের ফুল। মাঠের পর মাঠ লাল গাদা ও গ্লাডিয়াস ফুলের দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। আর এখন শতাধিক বিঘা জমিতে চাষ হয় মাত্র।

ব্যবসায়ীরা বলেন,‘বর্তমানের একটি গ্লাডিয়াস ফুলের বাজার দাম মাত্র ৩ থেকে ৪টাকা। কিন্তু আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন হিসাবে তার দাম হবে ১০ থেকে ১৫ টাকা। আর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এজন্যই এখন তেমন বেশি ফুল কাঁটা হচ্ছে না। চেষ্টা করছি যেসব ফুলগুলো যতদিন পর্যন্ত ক্ষেতে রাখা যায়। আর যে ফুল গুলো কোন ভাবেই ক্ষেতে রাখা সম্ভব না সেগুলো কেটে এখন কম দামে বিক্রি করছি।’

চাষীদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জে একটিও ফুল সংরক্ষণের মতো ব্যবস্থা নেই। শহরের উকিলপাড়ায় আগে ফুল বিক্রি করতাম এখন জিয়া হলের সামনে বসতে দিলেও সকাল ৯ টার পর বসতে দেয় না। যে কারনে ঢাকা শাহবাগে গিয়ে বিক্রি করতে হয়। যাতে খরচের পরিমান আরো বেড়ে যায়।আর ফুল গাছেও রাখা যায় না। এসব কারণে ফুল চাহিদা না থাকলেও বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের যে কয়টা সংরক্ষণাগার আছে সেগুলোও ফুল সংরক্ষনের জন্য উপযোগী না। এছাড়াও এলাকার রাস্তাঘাটের ভালো না থাকার অভিযোগ করেছেন। যার কারণে ঢাকার বড় বড় ফুল ব্যবসায়ী কিংবা দূরের ব্যবসায়ীরা নারায়ণগঞ্জ বন্দর সাবদী এলাকায় আসতে পারছেন না। চাষীদের ক্ষেত থেকে ফুল কেটে নিয়ে ঢাকা গিয়ে ফুল বিক্রি করতে হবে। যার ফলে ন্যায্য দাম না পেলেও নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ফুলের খরচ হিসাবে আবু হাসেম বলেন, এক বিঘা জমি এক বছরের জন্য ভাড়া দিতে হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। তারপর এক বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বীজ, ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার কীটনাশক, ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সার সহ পানি, শ্রমিকের মজুরি সহ প্রায় আরো ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ আছে। এসব কিছু দিয়ের পর একশ ফুলের লহর বিক্রি করতে হয় ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। এছাড়াও গ্লাডিয়াস একটি ফুলের চাষে এরচেয়ে দ্বিগুণ খরচ। তারপরও একটি ফুল বিক্রি করতে হয় ৪ থেকে ৫টাকা। যাতে চাষাবাদের খরচের টাকা উঠে কিন্তু লাভ হয় না।

ফুলের চাহিদা বাড়লেও স্থানীয় ফুলচাষি মোঃ সোহেল মিয়া জানান, এলাকার কৃষকরা কষ্ট করে ফুল উৎপাদন করলেও প্রায় তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। মধ্যভোগী ব্যবসায়ীরা কম দামে কিনে অনেক লাভবান হয়। কিন্তু ফুল সংরক্ষনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষকরা কম দামে তাদের হাতে ফুল তুলে দেয়।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও