ভাষার মাসেও শহীদ মিনারে জুতা পায়ে অবাধ বিচরণ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৬ পিএম, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার

ভাষার মাসেও শহীদ মিনারে জুতা পায়ে অবাধ বিচরণ

এই বছরের বিশেষ একটি তাৎপর্য হচ্ছে বাঙালি জাতির মুক্তির কারিগর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী। সেই বছরে শুরু হয়েছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। কয়েকদিন পরেই খালি পায়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে আগমণ ঘটবে লক্ষ জনতার। কিন্তু এখনো ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পবিত্র স্থান শহীদ মিনারে দেখা যাচ্ছে জুতা পায়ে অবাধ বিচরণ। ফলে ম্লান হচ্ছে শহীদদের সম্মান।

৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় পবিত্র স্থানটির ভয়াবহ দৃশ্য। বিভিন্ন স্কুল কলেজের ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেনিপেশার মানুষ জুতা পায়ে অবাধে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উঠছে। কেউ কেউ আবার পবিত্র স্থানটিতেই ধূমপানের মত অপরাধ করছে। এছাড়া শহীদ মিনারের বেদিতে বসে হাসিঠাট্টা ও সেলফি তোলা যেন মামুলি ব্যাপার।

ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষকাল। ভারত উপমহাদেল থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব ও পশ্চিমে দুই ভূখ- নিয়ে ‘পাকিস্তান’ তৈরী হওয়ার পর ১৯৫২ সালে বাঙালির অধিকার হনন করে তাঁদের উপর চাপিয়ে দেওয়া চেয়েছিল উর্দু ভাষা। অথচ পাকিস্তানের সিংহভাগ জণগনের মাতৃভাষা ছিল পূর্বপাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাভাষি বাঙালিদের। বাঙালির মুখ থেকে মায়ের ভাষা ছিনিয়ে নেওয়ার থাবা যখন আসে তখন মাতৃভাষার স্বীকৃতি আদায়ে রাজপথে নামে বাঙালি জাতির বীর সন্তানেরা। পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ দিতে হয় রফিক, বরক, সালামকে। বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে আদায় করে এনেছিল মাতৃভাষা বাংলার অধিকার। বিশেষ এই তাৎপর্যের জন্য ফেব্রুয়ারিকে ঘোষণা করা হয় ভাষার মাস এবং ২১ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

শহীদ মিনারের মত পবিত্র স্থানে এ ধরণের কর্মকান্ডে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গণের মানুষরা। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, শুধু ভাষার মাস নয়। শহীদ মিনার সারা বছরই শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থান।

তিনি বলেন, শ্রদ্ধানিবেদনের স্থানগুলো নিরব শান্ত জায়গায় হওয়ার কথা। যেখানে গিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে শ্রদ্ধা জানানো যায়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে এমন জায়গা নেই। এছাড়া চাষাঢ়া এসমনিতেও জনবহুল এলাকা হওয়ায় এই জায়গাটি সবার মিলন মেলা হিসেবে পরিণত হয়েছে। কারণ নগরবাসীর কাছে বিকল্প জায়গা নেই।

তিনি বলেন, আমাদের অনেকের মধ্যেই সচেতনতা নেই। যে কারণে এই কাজগুলো হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয় সচেতন করা হলে এটি বন্ধ হবে। এর জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে একজন লোক রাখা যেতে পারে। যে এখানে আসা মানুষকে রুক্ষ ব্যবহার না করে সচেতন করবে। অথবা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা যত্রের মত একটি যন্ত্র স্থাপন করা যেতে পারে। এটি অনেক বেশি কার্যকর হবে এবং এর প্রভাব অনেক বেশি স্থায়ীত্ব হবে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও