দৃষ্টিহীন আলাউদ্দিনের কণ্ঠে সুমধুর আযান

বন্দর করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩২ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার

দৃষ্টিহীন আলাউদ্দিনের কণ্ঠে সুমধুর আযান

হাফেজ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। আলাউদ্দিন জন্মান্ধ হওয়ার পরেও মাত্র আট মাসে কোরআনে হাফেজ হন। ২০০৯ এর প্রথম দিকে তিনি মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ঠিক ওই বছরের শেষ দিকে তিনি হাফেজ হয়ে যান। আলাউদ্দিনের বর্তমান পেশা ভিক্ষাবৃত্তি। থাকেন নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়।

১৯৯২ সালে মাগুরা জেলার মোহাম্মদ পুর থানার পলাশ বাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝামা বাজার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মো: আলী আফজাল ফকির ও মোছা: আলেয়া বেগমের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেন আলাউদ্দিন। যে ছেলে জন্ম নিয়ে ঘর আলোকিত করলো সেই ছেলেটিই জন্মের পরে আলোকিত পৃথিবী দেখতে পারছে না। মা বাবা অস্থির হয়ে উঠেন। মা আলেয়া বেগম কান্নায় মুর্ছা যায় বারবার। বাবা আলী আফজাল ফকির পাগলের মতো দিকবিদিক ছুটতে থাকেন। প্রথম পর্যায়ে কবিরাজ, হুজুর দিয়ে ঝাঁড়ফুক। তারপর ডাক্তারের শরনাপন্ন। জন্মের পর থেকেই অন্ধ হওয়াতে সকল পরিশ্রম ব্যর্থ হয়ে যায়। আলাউদ্দিনের আর পৃথিবীর আলো দেখা হয় না। তবুও তিনি কল্পনায় এই পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখার চেষ্টা করেন। নিখুত চিত্রশিল্পীর মতো মনের সব রং দিয়ে নিজের একটি পৃথিবী বানিয়েছেন। সেই পৃথিবীতেও বাস্তব পৃথিবীর সমান মানুষ, গাছপালা, নদী সমুদ্র সহ সব আছে। তিনিও খুব সকালে পাখির কিচির মিচির শব্দে জানালা দিয়ে তাকিয়ে পাখি দেখেন। বসন্তের কোকিলের সেই মধুর ডাক শুনে গাছের দিকে তাকিয়ে প্রতিটি মানুষের মতো তিনিও কোকিলের খোঁজ করেন।

গজল, আযান, কেরাত শুনতে তার ভিষণ ভাল লাগে। তাই শুনে শুনেই আযান, বিভিন্ন গজল, কেরাত তিনি শিখে ফেলেন। ২০০৭ সালে খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে আযান প্রতিযোগীতায় প্রায় ১৫০০ প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এরপর যতবার আযান, গজল, কেরাত প্রতিযোগীতায় নাম লিখিয়েছেন ততবারই প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ২০০৯ সালে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে হাফেজ হয়ে যান মাত্র আট মাসে। হাফেজ হওয়ার পর তিন বছর রমজান মাসে তারাবীর নামাজও পড়িয়েছেন।

২০১৭ সালের ১৭মে একটি প্রতিবন্ধী সংস্থায় শিক্ষকতা শুরু করেন। বছর খানেক কাজ করার পর তিনি চাকরিটি ছেড়ে দেন। চাকরি ছাড়ার প্রধান কারণ, প্রতিবন্ধী সংস্থার পরিচালক প্রতিনিয়ত মা বাবা তুলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন। খাবার খাওয়ার সময় প্রতিদিন খোটা দিতেন।

এ বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি কন্যা সন্তানের বাবা হন। মেয়ে হওয়াতে তিনি ভিষণ খুশি। মেয়ে বড় হয়ে যে বিষয়ে আগ্রহ দেখাবে সেই বিষয়েই মেয়েকে পড়াবেন বলে জানান তিনি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও