অন্ধকার কবরে ‘আলোকে’ দেখলেন বাবা রাব্বি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৫ পিএম, ৭ মার্চ ২০২০ শনিবার

অন্ধকার কবরে ‘আলোকে’ দেখলেন বাবা রাব্বি

সন্তানহারা পিতার মনের আর্তনাদ ও হাহাকার যে কত বড় পাহাড়সম এবং হৃদয় বিদারক, বুকের রক্তক্ষরন তার বহিঃ প্রকাশ। সব কিছু থেকেও এ অমূল্য রতন হারানোর ব্যর্থ তিনি ছাড়া কেউ বুঝবেন না। তাই সবাই যখন শ্রদ্ধা জানাতে ব্যস্ত তখন অশ্রুসিক্ত নয়নে নিঃশ্চুপ বাবা শুধু সন্তানের কবরের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। সেই কবরেই চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছেন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। ত্বকীর নামের অর্থ আলো। এক মুঠো আগরবাতী জ্বালিয়ে কবরের পাশে মাটিতে গুজে দেন। দুই হাতে কবর স্পর্শ করে চুম্বন দিয়ে চোখ মুছেন।

৬ মার্চ শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় সিরাজ শাহর আস্তানা কবরস্থানে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর কবরে এমনি ভাবে ভালোবাসা জানান হতভাগা বাবা রফিউর রাব্বী। পরে দুই হাত তুলে সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেন।

এরপরই ত্বকী হত্যার সাত বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অশ্রু, ফুল ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ। এসময় সকলেই ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি জানান। সেখানে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর কবরে ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মিলদা অনুষ্ঠিত হয়।

ত্বকীর কবরে ফুল দিয়ে অন্যান্যদের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে তাঁরই ব্যক্তিগত সহকারী আবুল হোসেন, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ।

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের পক্ষে সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির পক্ষে জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, শহর কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই শরীফ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সেক্রেটারী শাহিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির পক্ষে সেক্রেটারী হিমাংশু সাহা, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, মহানগরের সভাপতি অঞ্জন দাস, বিপ্লবী নারী সংহতি জেলার সভাপতি পপি রানী সরকার, ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষে সভাপতি শুভ দে। এছাড়াও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রফিক ও প্রথম আলো বন্ধু সভার সদস্যরা।

প্রসঙ্গত ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে সুধীজন পাঠাগারে যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে অপহরণ করা হয়েছিল। ৭মার্চ (নিখোঁজের একদিন পর ও লাশ উদ্ধারের একদিন আগে) এ লেভেল পরীক্ষার রেজাল্টে পদার্থবিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৭ পেয়েছিল যা সারাদেশে সর্বোচ্চ। এছাড়া ও লেভেল পরীক্ষাতেও সে পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষাতে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল। দুই দিন পর ৮ মার্চ সকালে শীতলক্ষ্যা নদীর খালের পাড় থেকে পুলিশ ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে। ত্বকী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ৮জনই পলাতক। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু এ হত্যাকান্ডের ৭ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত এ মামলার অভিযোগ পত্র দেয়া হয়নি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও