রান্নার গ্যাসে বাড়ছে দুর্ঘটনা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৩২ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২০ শনিবার

রান্নার গ্যাসে বাড়ছে দুর্ঘটনা

নারায়ণগঞ্জে প্রাকৃতিক গ্যাস দুর্ঘটনার ঘটনা কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না। সবশেষ ১৪ মার্চ সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরে একটি বাসায় রান্না ঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধ দম্পতি দুজনই শ্রমজীবি মানুষ। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জে মারা গেছেন একই পরিবারের ৫ জন। এখনো কাঁতরাচ্ছেন তাদের সঙ্গেই দগ্ধ বাকি তিনজন।

গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেকের প্রাণ গেছে। কেউ বার দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কাঁতরাচ্ছেন। অনেকেই অসহায় হয়ে পড়েছেন। আহত হয়ে মৃত্যু শয্যায় কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক গ্যাস অনেক নিরাপদ। বিশেষ করে পাইপ লাইনে যেটা সরবরাহ হচ্ছে। কিন্তু দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ অসচেতনতা। আর সে কারণেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।

১৪ মার্চ শনিবার সকাল ৭টায় উপজেলার কাঁচপুর এলাকার একটি ভবনের নিচ তলার বাসায় দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন আফতাব হোসেন (৪৫) ও তার স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩৫)।

স্থানীয়রা জানান, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের সোনাপুর এলাকায় গুলজার হোসেনের এক তলা বাড়ির এক রুমের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে কয়েক বছর যাবত বসবাস করছেন জেলার বন্দর উপজেলার মদনপুরে অবস্থিত ইপিলিয়ন গ্রুপের নিরাপত্তা কর্মী আশরাফুল ইসলাম (৪১) ও তার স্ত্রী রোজিনা (৩০)। রোজিনা সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডের পোশাক কারখানা উর্মি গ্রুপের শ্রমিক। শুক্রবার রাতে রান্নাঘরের চূলার বার্ণার বন্ধ না করেই তারা ঘুমিয়ে পড়েন। ফলে সারারাত গ্যাস বের হয়ে পুরো ফ্ল্যাটে ছড়িয়ে পড়ে জমাট বেধে থাকে। শনিবার ভোরে রোজিনা সকালের নাশতা তৈরি করতে রান্নাঘরে গিয়ে চূলায় আগুন ধরালে বিকট শব্দে জমাট গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। পুরো ঘরে আগুন ধরে যায়। এসময় রোজিনা ও তার স্বামী আশরাফ গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন ও এলাকাবাসী এসে দগ্ধ দম্পতিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

আগুনে তাদের দুইজনের গায়ের পোশাক ও বিছানাপত্রসহ ঘরের সমস্ত আববাপত্র পুঁড়ে গেছে। কোন কিছুই আর ব্যবহারের উপযোগি নেই। এছাড়া বিস্ফোরণে রান্নাঘরের জানালা ও টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে চূর্ণ হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ এতোটাই প্রকট ছিলো আশপাশের প্রায় সবগুলোর বাড়ির মানুষ ঘুম থেকে জেগে উঠে আতংকিত হয়ে পড়েন।

ডেমরা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল মান্নান জানান, অসাবধানতার কারণেই এই অগ্নিকান্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘুমানোর আগে চুলার বার্ণার বন্ধ করে রাখলে গ্যাস ছড়িয়ে জমাট বেধে থাকতো না। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন জানিয়ে সবাইকে আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চুলার গ্যাস থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারী মারা যান হিরণ মিয়া (২৩) ও আপন (১২)। এর আগে আপনের দাদি নুরজাহান (৬০) ও বাবা কিরণ (৪৬) ও ভাই আবুল হোসেন ইমনের (২৫) মৃত্যু হয়।

নিহত নুরজাহানের প্রতিবেশী ও মেয়েদের সঙ্গে সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাহেবপাড়া এলাকায় দিনের বেলা গ্যাস থাকে না। মধ্যে রাত থেকে ভোরবেলা পর্যন্ত গ্যাস থাকে। বছরের বেশিরভাগ সময়ই ওই এলাকার বাসিন্দরা গ্যাস সংকটে ভোগেন। বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকার কারণে অনেকই চুলার সুইচ সচল করে রাখেন। সোমবারও নুরজাহান বেগমদের চুলার সুইচ দেয়া ছিল। ভোরবেলা তড়িগড়ি করে রান্না শেষ করার জন্য নুরজাহান বেগম প্রথমে চুলায় যান। চুলার সুইচ দেয়া থাকায় পুরো ঘরে আগে থেকেই গ্যাস ছড়িয়ে যায়। কারণ ঘরের সবকটি দরজা জানালা বদ্ধ অবস্থায় ছিল। সেটি আন্দাজ করতে পারেননি বয়ষ্ক নুরজাহান। তাই তিনি আগুন ধরাতে গেলেই বিস্ফোরণ হয়ে যায়। আগুনের ধাক্কা এসে ড্রথমে তার ওপর লাগে। পরে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। এছাড়া গ্যাসের আগুন হওয়াতে দ্রুত বাসা সবকটি কক্ষে আগুন ছড়িয়ে যায়। এতে করে বাসার অন্যান্য স্বজনরাও টের পেয়ে যান। পরে তারাও দগ্ধ হয়ে যান।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও