সাকির চতুর্থ জন্মদিন, সন্তানের শোক ভুলেনি পরিবার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩৬ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২০ রবিবার

সাকির চতুর্থ জন্মদিন, সন্তানের শোক ভুলেনি পরিবার

‘অবুঝ শিশু সাদমান সাকি। সবে মাত্র কথা বলতে শিখছিলো। তাও বাবা-মা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারতো না। এই পৃথিবীর আলো বাতাস কোন কিছুই তার জ্ঞাত ছিল না। ১৬ মার্চ সোমবার তার তিন বছর পূর্ণ হয়ে ৪র্থ বর্ষে পদার্পন হতে চলল। গত তিন বছর আগের এইদিনে সে তার বাবা-মায়ের সাথে জন্মদিন পালন করেছিল। কিন্তু আজ সে তার বাবা-মার কাছে নেই। কারণ সে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। জানে না কোন অপরাধে কে বা কারা তাকে তার বাবা-মায়ের আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত করছে।’

এই অবুঝ শিশু সাদমান সাকির খোঁজে তার বাবা-মা পাগল প্রায়। প্রায় প্রতিনিয়তই নগরীর অলিগলিতে তার খোঁজ করা হচ্ছে। কিন্তু কোথাও দেখা মিলছে না তার। সন্তানের শোকে তাদের পুরো পরিবার ধ্বংসের প্রান্তে পৌছে গেছে। কোনভাবেই তারা নিজেদেরকে শান্ত রাখতে পারছেন না।

সাকির খোঁজে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরে বেড়ালেও তার কোন খোঁজ মিলছে না। পুলিশের ব্যর্থতায় বর্তমানে এই মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তাধীন ছিল। কিন্তু সেখানেও সন্তোষজনক উত্তর মিলছে না। বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে।

সাকির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ এপনের বরাত দিয়ে পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্য ছিল, এ ঘটনাটি কাছের লোকজনই ঘটিয়েছে। সেই সূত্র ধরে কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে জেলা পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েছিলেন এপন। কিন্তু সেখানেও সাড়া মিলেনি। মানবন্ধন অনশন সহ সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

সাদমান সাকির বাবা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ ওমর খালেদ এপন জানান, আমাদের অনেক আদরের একমাত্র সন্তান সাদমান সাকি। আমি মানুষের সেবার জন্য দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। আমার জানামতে আমি কারো ক্ষতি করেনি। তারপরেও যদি ক্ষতি করে থাকি, তাহলে সে শাস্তি আমাকে দেয়া হোক। কিন্তু আমার এই অবুঝ শিশুর কি অপরাধ। শিশুটির জন্য তার মা সারাক্ষণ কান্নাকাটি করে থাকে। ঠিকমতো খাওয়া ধাওয়া করে না। সংসারের কোন কাজে তার মনযোগ নেই। আমি কোন কিছু করতে পারছি না। সবসময় আমার সন্তানের কন্ঠ কানে বাজে। জানি না আমার ছেলেটি কি অবস্থায় কোথায় আছে। তবে আমি বিশ্বাস করি একদিন আমার ছেলের খোঁজ অবশ্যই পাবো।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ ইচ্ছা করলে পারে না এমন কোনো কাজ নেই। আমার ছেলেকে কাছের মানুষই অপহরণ করেছে এবং এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা।

মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিআইডি ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছিল। আমরা সেই রিপোর্টের উপড় নারাজি দিয়েছি। সেই নারাজির ভিত্তিতে ১২ মার্চ আদালতে শুনানি হয়েছে। সেই শুনানীর আদেশ ২৪ মার্চ দিবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুর দেড়টায় ঘরের বাইরে খেলার সময় দেওভোগ কাঠের দোতলা বড় জামে মসজিদ এলাকা থেকে শিশু সাদমান সাকি নিখোঁজ হয়। সাদমান সাকির খোঁজে নগরীতে সর্বস্তরের জনগণের ব্যাপারে মানববন্ধন এবং নিখোঁজের ১৩ দিন পর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাদমান সাকির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ এপন একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও