করোনা সংকটে ‘বাতিঘর’ কাউন্সিলর খোরশেদ (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৭ পিএম, ২৩ মার্চ ২০২০ সোমবার

করোনা সংকটে ‘বাতিঘর’ কাউন্সিলর খোরশেদ (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জে যখন শিল্পপটি ও টাকাওয়ালারা নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেছেন তখনই শুধুমাত্র জনসেবক হিসেবে থাকা কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নারায়ণগঞ্জে ‘বাতিঘর’ হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছেন। করোনা ভাইরাস সংকটে এবার খোরশেদের বাড়ি পরিণত হতে চলেছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানোর কারখানার মতই। কারণ দিনরাত এখানে চলছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি। ইতোমধ্যে শহরের বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লোকজন এখানে ভীড় করছেন স্যানিটাইজার তৈরির কলাকৌশল জানতে।

২৩ মার্চ সোমবার দুপুরে শহরের মাসদাইরে ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ‘কার্যালয়ের সামনে ২০ থেকে ৩৫ জন বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ মহাব্যস্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরিতে। বিনা পারিশ্রমিকে সময় ভাগ করে ব্যস্ত ছিলেন এটা তৈরিতে। কেউ উপকরণ মেশাচ্ছে, কেউ বা সেটা বোতলে ভরছেন। কেউ কেউ সেটা বোতলে স্টিকার মেরে বক্স করছেন।’

কিছু সময় পর পর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলবেধে হাজির হন সেখানে। নিতে শুরু করেন বক্সভর্তি হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

সেখানে থাকা লোকজন যারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে তারা জানান, নিছক জনসেবার জন্যই তারা এসেছেন। কোন ধরনের বিকল্প চিন্তা না করেই পরিশ্রম করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করা হচ্ছে।

খোরশেদ জানান, আমার ১৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য আমি ইতোমধ্যে নিজেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুত করে তা আমার কার্যালয় থেকে সকলকে দিচ্ছি। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার বোতল ৫০ এমএল পরিমানের এলাকাবাসী নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দের ফর্মূলা ব্যবহার করেছি। ইতোমধ্যে ১৫ হাজার বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। আরো ১০ হাজার বানানো হচ্ছে। আমার টার্গেট ৫০ হাজার বিতরণ করবো।

‘চিন্তা করেছিলাম শুধু নিজের ওয়ার্ডে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করবো কিন্তু এখন অন্য এলাকা থেকেও লোকজন আসছেন। তাদেরকেও দিতে হচ্ছে।’ যোগ করেন খোরশেদ।

তিনি বলেন, ‘নিজের অর্থায়নে কাজটি করতে হচ্ছে। বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে এটাকে বড় পরিসর করা সম্ভব।’

কাউন্সিলর খোরশেদ জানান, আমরা কেমিস্ট বন্ধুদের ফর্মুলা অনুযায়ী এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরী করছি। প্রতি ২৬ লিটারের জন্য আমরা ব্যবহার করছি আইসো প্রোফাইল এ্যালকোহল ১০ লিটার, গ্লিসারিন ২.৫ লিটার, পানি ১৩ লিটার, এলভেরা (ঘৃতকুমারী) জেল ৫০০ এমএল, এসেনসিয়াল ওয়েল ২৫ এমএল।

খোরশেদ ক্ষোভের সাথে জানান, এসব উপাদান ঢাকা মিটফোর্ড মেডিসিন মার্কেটে কিনতে গিয়েও চরম অভিজ্ঞতা হয়েছে। যে প্লাস্টিক বোতল ছিল ২টাকা সেটি কিনতে হয়েছে ১০টাকায়। স্যানিটাইজারের মূল উপাদান আইসো প্রোফাইল এলকোহল এতদিন ছিল ১২০ টাকা লিটার, আমাকে কিনতে হয়েছে ৩০০ টাকা লিটার। শুধু তাই নয়, দোকানদার বলে দিয়েছে আজই বেশী করে কিনে নেন, কাল থেকে ৬০০ টাকার এক টাকাও কম হবে না। আমার মনে হয় এদিকেও প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও