‘আমাগো নাম হেগো কাম’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪০ পিএম, ২০ জুন ২০২০ শনিবার

‘আমাগো নাম হেগো কাম’

‘সরকারের কোনো দোষ নেই। সরকার ঠিকই সাহায্য দিচ্ছে আমাদেরকে। কিন্তু নেতারা সে সকল সাহায্য সহযোগিতা আমাদের দিচ্ছে না। আমাদের নাম দিয়ে নেতারা পকেট ভারী করছে। আমাগো নাম হেগো কাম। আমাদের ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে। নাম ঠিকই নিয়েছে কিন্তু কোনো ত্রাণ দেয়নি আমাদের।’ ঠিক এভাবেই বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ মজিবুর।

পেশায় তিনি একজন কাঠমিস্ত্রী। বিগত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে তিনি এই কাজ করে আসছেন। পরিবারের ৬ জন সদস্যদের নিয়ে এই করোনাকালিন সময়ে তিনি বেশ বিপাকে পড়ে গেছেন। এমতাবস্থায় তাদের সহযোগিতায় এলাকায় কোনো জনপ্রতিনিধি কিংবা কোনো নেতা এগিয়ে আসেননি বলে জানান মোঃ মজিবুর।

মোঃ মজিবুর জানান, ‘প্রতিদিন সকাল ৭ টায় কাজের আশায় নতুন পালপাড়া এলাকার প্রবেশমুখে তার যন্ত্রপাতি নিয়ে বসেন। করোনার পূর্ববর্তী সময়ে দৈনিক হাজিরা কিংবা চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করে যে টাকা তা দিয়ে মোটামুটিভাবে তার সংসার চলে যেত। কিন্তু এই করোনাকালিন সময়ে কাজ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। কাজের আশায় প্রতিদিন এখানে আসলেও এখন আর আগের মতো কাজ জুটে না। এমনও সপ্তাহ যায় যে সপ্তাহে কোনো কাজই জুটে না।‘

ফলশ্রুতিতে এই করোনাকালীন সময়ে পরিবারের ৬ জন সদস্যদের নিয়ে তার অনেক কষ্টেই দিন যাপন করতে হচ্ছে। কিন্তু করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো সাহায্য পাননি।

কাঠমিস্ত্রী মো আকবর বলেন, তিনিও এ পর্যন্ত কারও কোনো সাহায্য কিংবা সহযোগিতা পাননি। তিনি বন্দর এলাকায় বসবাস করেন। করোনাকালীন সময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন যাপন করলেও এলাকার কোনো নেতা কিংবা কোনো জনপ্রতিনিধি কেউ এগিয়ে আসেননি। করোনার কারণে টানা তিন মাস কোনো কাজ করতে পারেননি। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আগের মতো তেমন আর কাজ জুটছে না। প্রতিদিন কাজের আশায় যন্ত্রপাতি নিয়ে নতুন পালপাড়া এলাকার প্রবেশমুখে বসে থাকলেও কাজ জুটছে না।

জানা যায়, গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর নারায়ণগঞ্জে প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু গত ৩০ মার্চ। এরপর থেকেই নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের বাড়তে থাকে। সেই সাথে বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যাও। প্রায় প্রতিদিনই দুই থেকে তিনজন করে নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে থাকেন।

ফলশ্রুতিতে প্রথম সতর্কতা শুরু হয় নারায়ণগঞ্জ থেকেই। যার সূত্র ধরে গত ৭ এপ্রিল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ৮ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সম্পূর্ণরুপে অবরুদ্ধ (লকডাউন) ঘোষণা করা হল।"

আর এই ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বাভাবিক জীবনে স্থবিরতা চলে আসে। কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজনদের। বিশেষ করে যারা দিন আয় করেন দিন খরচ করেন তারা বেশি বিপাকে পড়ে যান। তাদের সকল কার্জকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। আর সেই অবস্থায় এখনও বলবৎ রয়ে গেছে। ফলে এখনও পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টেই দিনযাপন করছেন শ্রমিকরা।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও