আলীরটেকে কৃষকদের মাথায় হাত

হাফসা আক্তার, স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩৬ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২০ সোমবার

আলীরটেকে কৃষকদের মাথায় হাত

চর আলিরটেক নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাধীন আলিরটেক ইউনিয়নের একটি গ্রাম। কৃষিই বুড়িগঙ্গাও ধলেশ্বরি বেষ্টিত এ গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা। সারা বছরই জমিতে বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ফলান এ কৃষকেরা যা সাধারণ মানুষের সারা বছরের সবজি এবং চালের চাহিদা পূরণ করে থাকে। অথচ এবছর সেই কৃষকদের কপালেই হতাশা ছাড়া কিছু জোটেনি। আগাম বন্যার কারণে তাদের সকল ধান ও সবজি নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

তারা জানান, আগাম বন্যার পানিতে ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও নষ্ট হয়েছে মৌসুমি সবজি। যার মধ্যে আছে পুইশাক, ডাটা শাক, পাট শাক, ঢেড়স, মুলা, ঢুলা, লাউসহ অন্যান্য সবজি। তবে কিছু যায়গায় পানি থাকলেও ধানের চারা এখনো ভালো রয়েছে। শীগ্রই পানি শুকিয়ে গেল সেখান থেকে সামান্য কিছু ধান পাওয়ার আশা করছেন তারা। কিন্তু সে ধানে নিজ পরিবারের কয়েকেমাসের চালের যোগান দেয়াই শুধু সম্ভব।

১৩ জুলাই সোমবার সকালে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরি বেষ্টিত গ্রামটিতে সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পানিতে কৃষকদের ধানের চারা পঁচে গিয়েছে। ঢেড়স গাছ নষ্ট হয়েছে, যার ফলে ঢেড়স সংগ্রহ করা যায়নি। একটি অংশের পানি কমে যাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে যে, সেখানে লাল শাক সহ কয়েক ধরনের শাক চাষ করা হয়েছিল যা পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

সাড়ে ৪ একর জমিতে মোট ৫ ধরনের ধানের চাড়া রোপন করেছিলেন কৃষক গোলাম হোসেন। ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষও করছিলেন তিনি। তবে বন্যার পানিতে তার প্রায় সকল ফসলই নষ্ট হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করছিলাম এই ধানের পিছনে। যার পুরাটাই নষ্ট হইয়া গেছে। অন্যান্য বছর আমরা এই চাইল খাইয়াও অনেক চাইল বাজারে বিক্রি করি। অথচ এই বছর মনে হয় দুই মাস পর নিজেগোই কিন্না খাইতে অইবো। এখনো কয়েক শতাংশ জমির ধান বাচান সম্ভব। যদি আর পানি না উঠে, আর এই পানিডা তারাতারি নাইমা যায় তাইলে। নয়তো এ বছর আর ফসল তুলতে পারবো না।’

তিনি নিজের জমির পঁচে যাওয়া ধানের চারা তুলে প্রতিবেদককে দেখান। আর বলেন, ‘ধানি ক্ষেতে এখন রইছে শুধুমাত্র শালুক। উপর থেইকা দেইখা বুঝা যায়না যে ভিতরে পঁচা আলি (ধানের চারা) রইছে।’

গোলাম হোসেনের জমি থেকে কিছুটা এগিয়ে যেতেই আরেক কৃষক ফালান মিয়াকে পানির মধ্যেই ঢেড়স সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লক ডাউনের কারণে উস্তা করলা চাষে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হন তিনি। ক্ষেতেই তার ফসল নষ্ট হয়ে যায়। তার পরে তিনি ৩ থেকে ৪ বিঘা জমিতে ঢেড়স চাষ করেছিলেন। পাশাপাশি ধানও রোপন করেছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পানির কারণে এবার ফসল ভালো হয় নাই। আমার ধান ক্ষেতের এক অংশ একটু উচা যায়গায় হওয়ায় পানি বেশি উঠে নাই। তবে যা উঠছে তাতে আলি (ধানের চারা) নষ্ট হইতাছে। যদি পানি তারাতারি না নামে তাইলে এই ধানও বাঁচান যাইবো না।’

‘তবে এতো ক্ষতি হয়ে গেলেও সরকারের তরফ থেইকা কোনো সাহায্য পাইনা আমরা। শুনছিলাম, এই করোনাকালে নাকি কৃষকগো নাকি সরকার সাহায্য করছিল। এইটাও পাই নাই। আমরা কক্ষনো কিছু পাইনা।’ এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রামের আরেক কৃষক মো. নাসির।

তিরি আরও বলেন, ৪-৫ কানিতে ধান, ভেন্ডি (ঢেড়স), মুলা, লাল শাক, পুইশাকসহ আরও কয়েক ধরনের সবজি লাগাইছিলাম। সেগুলি তো নষ্ট হইছেই, লগে ধানের আলিও সব নষ্ট হইছে। তাই আবার যে চাষ করবো, ওই অবস্থাও নাই।’

উক্ত এলাকার কৃষির পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমানকে ফোন করা হয়। তবে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি আর এ বিষয়ে কথা বলতে চান না এবং অসুস্থতার কথা বলে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে ফোন দিলেও তাকে আর পাওয়া যায় না।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল গফফারকে ফোন দেয়া হলে তিনি বদলি হয়েছেন বলে জানান। পরবর্তীতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এবছর আগাম বর্ষনের কারণে এই সমস্যাটা দেখা দিয়েছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে জানিয়েছি। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা হয়ে গেলে শীগ্রই এই সমস্যা কেটে যাবে।’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও