সেতুর পিলার দাঁড়িয়ে, পানি মাড়িয়ে চলাচল

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৫৩ পিএম, ২২ জুলাই ২০২০ বুধবার

সেতুর পিলার দাঁড়িয়ে, পানি মাড়িয়ে চলাচল

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঐরাবো কান্দাপাড়া এলাকার সেতু নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে হওয়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে ১০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার বসিন্দা।

জানা যায়, ২০১৯ সালের শেষের দিকে এলজিইডির অধীনে ঐরাবো কান্দাপাড়া পুরনো সেতু ভেঙ্গে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যায় ধরে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ সেতুটির দরপত্র পান পিপিএল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্রীজটি ভাঙ্গার পর সাধারণ মানুষের চলাচল ও ছোট ছোট যানবাহনের জন্য সেতুটির নিচ দিয়ে খালের উপরে একটি রাস্তা করে দেওয়া হয়।

২০১৯ সালে সেতুর কাজ শুরু করলেও সঠিক সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ করতে না পারায় বর্ষার মৌসুম চলে আসায় স্বল্প বৃষ্টিতেই খালের পানি বেড়ে গিয়ে রাস্তাটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর নিচে নির্মিত রাস্তাটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে পানি দিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে।

এমনকি রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন অনেক কষ্টে চলাচল করছে। জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলের রাস্তাটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অনেকে আবার পারাপার হচ্ছেন নৌকা দিয়ে। বর্তমানে মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। সেতুর কাজটি দ্রুত সম্পন্ন না হলে পেরাবো, তাজমহল, ঐরাবো, মাসাবো, কান্দাপাড়া, বেলাবো, আমবাগ, ওটমাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০,হাজার মানুষের যাতায়াত দিনদিন বাড়তে থাকবে। এ রাস্তাটি ঢাকা সিলেট মহাড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের গাজীপুর-মদনপুরের শাখা রোড।

পেরাবো এলাকার নাঈম মিয়া বলেন, আমাদের এ রাস্তা ছাড়া বিকল্প আর কোন রাস্তা নাই। সেতুটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন না হলে আমাদেরকে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হবে। তাছাড়া চলাচলের জন্য সেতুর নিচের যে রাস্তাটি করে দেয়া হয়েছিল সেটিও এখন পানির নিচে। তাই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিন্তা করে সেতুটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হলে আমাদের অনেক উপকার হতো।

এলাকার বাসিন্দা রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, সকাল হলেই আমাদের কাজের জন্য এ রাস্তা দিয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ না করলে আমাদের দুর্ভোগ শেষ হবেনা। বিকল্প রাস্তা না থাকায় সোনারগাঁও থেকে রূপগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করা না হলে আমাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়তে থাকবে।

স্থানীয় তারাবো পৌর কাউন্সিলর রাসেল শিকদার বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছেনা। আর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় আশপাশের অনেক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মানুষের এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে আমরা গিয়েছিলাম কিন্তু তারা মানুষের ভোগান্তি বুঝতাছেনা। তারা তাদের নিজের সুবিধা মতো সেতুর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সেতুটির নির্মান কাজ দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহ নেওয়াজ বলেন, সেতুটির নিচে মানুষের চলাচলের জন্য একটি রাস্তা করে দেয়া হয়েছিল। জলাবদ্ধতার কারনে সেই রাস্তাটিও পানিতে ডুবে যায় তাই বিকল্প হিসেবে মানুষের চলাচলের জন্য একটি বাশের সাকো তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এ সাকো দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারলেও যানবাহন চলাচল আপাতত করতে পারবেনা। এ বছরের মধ্যেই সেতুরটির কাজ সম্পন্ন হবে।

সদ্য যোগদানকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নূসরাত জানান বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। যদি কোন লিখিত আবেদন অথবা অভিযোগ পাই তাহলে এ বিষয়টি দ্রুত সমাধানর চেষ্টা করব।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও