২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৭:১৩ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুইপার দিয়ে রোগীদের রান্না ও খাবার বিতরণ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:৫৩ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার


স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুইপার দিয়ে রোগীদের রান্না ও খাবার বিতরণ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুইপার দিয়ে রান্না ও রোগীদের খাবার বিতরণ করায় রোগীদের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

১৮ নভেম্বর শনিবার রোগীদের দুপুরে রোগীর আত্বিয়রা এর প্রতিবাদ করায় রোগী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে অশ্লালীন আচরন করেছে সুইপার সখিনা। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডা. মোঃ আব্দুল কাদেরের কাছে রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন।

শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সুইপার সখিনা হাসপাতালের রোগীদের জন্য রান্না করছে। এ সময় সাংবাদিকরা তার ছবি তুলতে গেলে সে সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপে যায়। স্থানীয় এলাকার হওয়ায় ও দীর্ঘ ১৮ বছর একই স্থানে কর্মরত থাকায় সে প্রভাব বিস্তার করে রোগীদের সাথে খারাপ আচরন করে বেড়ায়। যার কারণে অনেক রোগী কাউকে কিছু না বলেই হাসপাতাল ত্যাগ করে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এ ধরণের অশ্লালীন আচরনের ফলে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর দিয়ে জেলা সিভিল সার্জন দফতরে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান রহমান মুকুল বলেন, যেখানে অনিয়ম সেখানেই প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে। আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি জেলার মিটিংয়ে এ বিষয়ে কথা বলব ব্যবস্থা নিতে।

বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডা. মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, জনবল সংকটের ফলে অনেক সময় এক জনের কাজ অন্যজনকে দিয়ে করা হয়।

তিনি সুইপার দিয়ে রোগীদের খাবার বিতরণের কথা স্বীকার কলে বলেন, বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আগে ছিল ৩১ শয্যা। বর্তমানে ৫০ শয্যা হলেও জনবল নেই। ৩১ শয্যায় যে জনবল দরকার তার চেয়েও কম রয়েছে। এ দিয়ে আমরা সেবার মান আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি করেছি। যেখানে আগে মাসে ৩ থেকে ৪টি নরমাল ডেলিভারী হতো আর এখন আমাদের চেষ্টায় ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাসে ৯ থেকে ১০টি নরমাল ডেলিভারী করাতে সক্ষম হয়েছি। এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে করে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা খরচ থেকে বেঁচে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বন্দর উপজেলায় ১৫ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও মাত্র ১১ জন ডাক্তার রয়েছে। ৪টি পদই শূন্য। এভাবে ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে এ হাসপাতালে। তাই চিকিৎসা সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ চিকিৎসার মান কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও সেবার মান বৃদ্ধি পায়নি। যেমন সুইপার দিয়ে খাবার বিতরণ, প্রহরী না থাকায় ছিচকে চোর ও মাদকসেবীদের উপদ্রব রয়েছে হাসপাতালে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: এহসানুল হক বলেন, সরকার ২০১৩ সাল থেকে নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। আমরা মন্ত্রণালয়ে লেখালেখি করছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন নিয়োগ চালু করলেই শূন্যপদে নতুন নিয়োগ দেয়া শুরু হবে। সুইপার দিয়ে খাবার বিতরণ বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্বাস্থ্য -এর সর্বশেষ