সমঝোতায় ছাড়া পেলেন ডাক্তার অমলসহ আটক ৫ জন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৩ পিএম, ৯ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার



সমঝোতায় ছাড়া পেলেন ডাক্তার অমলসহ আটক ৫ জন

নারায়ণগঞ্জ শহরের নবাব সলিমুল্লাহ সড়কে বেসরকারী হাসপাতাল ‘মেডিস্টার জেনারেল হাসপাতালে’ প্রসূতি নারী রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালটিতে নিহতের স্বজনরা তুলকালাম কান্ড ঘটালেও রাতের আধারে পাল্টে গেছেন তারা। শহরের একটি ক্লাবে দেন দরবারের পার সমঝোতা হওয়ায় থানায় মামলা দায়ের করেনি নিহত রোগীর স্বজনরা। যে কারণে মুচলেকায় ছাড়া পেয়ে গেছে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর নাটের গুরু ডাক্তার অমলসহ আটককৃত ৫ জন। ফলে আবারো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে ‘কসাইখানা’ খ্যাত মেডিস্টার হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ৮ মার্চ দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের সলিমুল্লাহ সড়কে বেসরকারী হাসপাতাল মেডিস্টার জেনারেল হাসপাতালে নারী রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ ভুল চিকিৎসা করে ডাক্তার ও নার্সরা মিলে ওই প্রসূতিকে হত্যা করেছে। মৃত রোগীর নাম ঝুমা আক্তার (২৪)। সে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর মাসদাইরের গাবতলী এলাকার কামরুল হাসান শরীফের স্ত্রী। রোগীর দেবর শাহেদ আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় সন্তান প্রসবের জন্য রোগীকে অস্ত্রোপচারের পর জরায়ুর সমস্যার কারণে তাকে পর পর আরো তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই সময়েই ঝুমার মৃত্যু ঘটে। কিন্তু পরে ৪ ব্যাগ রক্তও আনায় ডাক্তার। তিনি আরো অভিযোগ করেন, আমরা বার বার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছি যদি আপনারা না পারেন রোগীকে ছেড়ে দিন আমরা ঢাকা নিয়ে যাই। তারপরও তাকে হাসপাতালে রেখে তারা ভুল চিকিৎসা করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার দুপুর ১টায় পর আমাদেরকে জানানো হয়েছে যে রোগী মারা গেছে। মৃত্যুর পর স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. জয়নাল জানান, পরিবারের অভিযোগ ঝুমাকে হত্যা করা হয়েছে। ওই অভিযোগে অস্ত্রোপচার করা গাইনি ডাক্তার অমল কুমার সহ ৫জনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ডা. অমল কুমারের দাবী করেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারণে রোগী মারা গেছে।

এদিকে ঘটনার পর সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় দেন মেডিস্টার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রভাবশালীদের দেনদরবার। শুরুতে নিহত রোগীর স্বজনরা যতটা ক্ষুব্দ ও উত্তেজিত ছিলেন বেলা না গড়াতেই তাদের মধ্যে নরম ভাব দেখা যায়। পরে রাতে শহরের একটি অভিজাত ক্লাবে বসে এ নিয়ে বৈঠক। এছাড়াও ছিল প্রভাবশালীদের ফোন। পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ বিষয়টি ধামাচাপা দেয় মেডিস্টার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যে কারণে নিহত রোগীর স্বজনরা থানায় মুচলেকা দেয় তারা কোন ধরনের মামলা করবেন না এবং বিনা ময়নাতদন্তেই লাশ নিয়ে যেতে চান। নিহতের স্বজনার কোন ধরনের মামলা না করায় এবং মুচলেকা দেয়ায় রাতেই ডাক্তার অমলসহ ৫জনকে ছেড়ে দেয় সদর মডেল থানা পুলিশ।

এছাড়াও সদর মডেল থানায় বিএমএ’র সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরীসহ অনেক চিকিৎসককেও ভীড় করতে দেখা গেছে। দুপুর থেকে রাত অবধি ওই প্রসূতির মরদেহ একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সেই পড়েছিল।

সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের আপোষনামা থানায় জমা দেয়ার পর আটককৃত ৫ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। লাশ বিনা ময়নাতদন্তে নিয়ে গেছে মৃতের পরিবার।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও