ভুয়া ডাক্তার নড়ে চড়ে থামেনি

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৬ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৮ রবিবার



ভুয়া ডাক্তার নড়ে চড়ে থামেনি

মানব দেহকে যন্ত্রাংশের সঙ্গে তুলনা করেছেন বাংলাদেশের অনেক গায়ক, লেখক ও শিল্পীরা। এ মানব যন্ত্রে ত্রুটি দেখা দিলে শেষ ভরসার স্থল হলো ডাক্তার। তবে দিনের পর দিন ডাক্তার নামে প্রতারকদের খপ্পরে পরে অর্থ সম্পদের পাশাপাশি মূল্যবান প্রাণও হারাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আর এ থেকে কোন ভাবেই মুক্তি মিলছেনা নগরবাসীর।

১৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী ১০ থেকে ১২টি বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এক জন ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিয়মিত আইনে তাকের সাজা প্রদানের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় পাঠানো হয়। এছাড়াও ওইদিনের অভিযানে ৭টি মামলা, ১ জনকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও প্রয়োজনীয় সনদ না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় পৃথক ভাবে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

কিন্তু একদিনের অভিযানের ভুয়া ডাক্তাররা নড়ে চড়ে বসলেও তাদের প্রতারণা থেমে যায়নি। জনমনেও লাগেনি স্বস্তির কোন হাওয়া। বরং সাধারণ মানুষের দাবি এ অভিযান একদিনের না হয়ে ধারাবাহিক ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা শতাধিক। তবে এর কয়টিতে নিয়ম অনুযায়ী ডাক্তার, নার্স, সহকারী কিংবা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেই হিসেবও পাওয়া যায়নি বিএমএ নেতাদের কাছ থেকে। বরং তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়েই এসব ভুয়া ডাক্তাররা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে এসব ভুয়া ডাক্তাদের ক্লিনিক হাসপাতালের জন্যই নারায়ণগঞ্জে বড় দুইটি সরকারী হাসপাতালেও ঠিক ভাবে সেবা নিতে পারছেন না বলেও মনের করেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান জানান, ১৪ মার্চ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত অভিযানে শহরের আশশিফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিপ্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সম্রাট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেন্ট্রাল জেনারেল হাসপাতাল, নেপচুন ল্যাবরেটরিস ও বিভিন্ন অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল আইনে ৭টি মামলা, ১ জনকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও প্রয়োজনীয় সনদ না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় পৃথক ভাবে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

তিনি আরো জানান, শহরের খানপুরে ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সনদ না থাকায় এস এম জালালকে আটক করা হয়। তিনি ডাক্তার না হয়েও এমবিবিএস পরিচয় দিয়ে রোগীদের আল্টাসনোগ্রাম করাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও খানপুর আশশিফা ডায়াগসন্টিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় কর্মচারী শহিদুল ইসলামকে আটক করে এক মাসের কারাদন্ড ও অনাদায়ে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনের প্রতারণার মামলা হয়েছে। বর্তমানের ওই ব্যক্তি জেল হাজতে আছে।

বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন, ‘১৪ মার্চ জেলা প্রশাসনের অভিযানকে স্বাগত জানাই। আমরা চাই এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকুক। এর জন্য বিএমএ’র পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাইলে করা হবে। এছাড়াও এসব ভুয়া ডাক্তারের জন্য বিএমএ’র পক্ষ থেকে কোন তদবির করা হলেও সেটার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই ক্ষেত্রে আমি নিজে হলেও লিখবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে ঠিক কতটি ক্লিনিক, ডায়াগনেস্টিক সেন্টার আছে তার সঠিক হিসেব দিতে সময়ের প্রয়োজন। কারণ নামে বে নামে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। এসবের অনুমোদন দেন জেলা সিভিল সার্জন। সেখানে ডাক্তার নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের কোন অধিকার দেওয়া হয়নি।’

কখনো ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচি দেখা যায় না? প্রতিবেদকের প্রশ্নের জব্বাবে শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমরা সব সময়ই জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলে এসেছি। কিন্তু তারা যখন মনে করে তখনই অভিযান চালায়।’

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন এহসানুল হকের মোবাইলে একাধিক ফোন দিলেও তারা বন্ধ পাওয়া যায়।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও