১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, সোমবার ২৮ মে ২০১৮ , ৩:৫৮ অপরাহ্ণ

আড়াই বছরের শিশুর প্রেসক্রিপশনে হাই পাওয়ারের ক্যাপসুল


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৯ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৮:৩০ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার


আড়াই বছরের শিশুর প্রেসক্রিপশনে হাই পাওয়ারের ক্যাপসুল

নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকের কান্ডে হতবাক রোগীর অভিভাবক স্বজন এবং ওষুধ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহল। আড়াই বছরের এক শিশুর প্রেসক্রিপশনে লেখা হয়েছে হাই পাওয়ারের ক্যাপসুল। এর মধ্যে প্রেসক্রিপশনে শিশুটির জন্য একদিনে ৫০০ মিলিগ্রাম পাওয়ারের ৪টি এন্টিবায়োটিক লেখা হয়েছে। এছাড়া আরো দু’টি ক্যাপসুল লেখা রয়েছে ৩ বেলার জন্য। অথচ একজন পুর্নবয়স্ক রোগীর জন্যও দিনে ৫০০ মিলিগ্রাম পাওয়ারের ৪টি এন্টিবায়োটিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যমে ফেসবুকে এই বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। জরুরী বিভাগের ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন অনেকে। এদিকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল হক।

জানা গেছে, শনিবার ২১ এপ্রিল মোঃ রিপন ও বিথি আক্তার দম্পত্তির রাহি নামের আড়াই বছর বয়সী এক কণ্যা শিশুকে মাথা ফেটে যায়। তাকে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়া হলে ওই শিশুটির মাথায় ৩টি সেলাই করে দেয়া হয়। পরে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা ইমন ওই আড়াই বছরের শিশুর প্রেসক্রিপশনে হাই পাওয়ারের ক্যাপসুল লিখে দেন। এর মধ্যে ফ্লুক্সিক্যাপ নামের ৫০০ মিলিগ্রাম পাওয়ারের ক্যাপসুল লিখেছেন দিনে ৪টি করে যা এক সপ্তাহে অর্থাৎ ২৮টি খেতে বলেছেন। এছাড়া টডেল ১০ মিলিগ্রাম পাওয়ারের ক্যাপসুল লিখেছেন প্রতিদিন ৩টি করে এবং ইসাপ ২০ মিলিগ্রাম পাওয়ারের ক্যাপসুল প্রতিদিন ২টি করে খাওয়ার জন্য মোট ৫দিন খেতে বলেছেন।

এদিকে শনিবার বিকেলে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যমে ফেসবুকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের কান্ড লিখে প্রেসক্রিপশন ও শিশুটির ছবি আপলোড করেছেন শিশির নামের এক ব্যক্তি। আর ওই পোস্টের নিচে ইতিমধ্যে বেশ কিছু কমেন্টসও পড়েছে। যাতে অনেকেই ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কোন সুস্থ মস্তিস্কের চিকিৎসক শিশুদের ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট দিতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। বিশেষ করে হাই পাওয়ারের ওষুধ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বলেই বিবেচিত। শিশুদের সাধারণত সিরাপ জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডা. গোলাম মোস্তফা ইমন মুঠোফোনে কল করা হলে জানান, আড়াই বছরের কোন শিশু ক্যাপসুল খেতে পারবেনা। আমার বিশ্বাস করি আমি এ ধরনের কোন প্রেসক্রিপশন করিনি। আমার ভুল হতেও পারে। আমি মানুষ। যদি আমি কোন শিশুর প্রেসক্রিপশনে ক্যাপসুল লিখে থাকিও তারপর ওই শিশুর পরিবার ফার্মেসীতে গিয়ে ভুল ধরতে পেরে আর আমার কাছে কিংবা হাসপাতালে ফেরত আসেনি। এ ধরনের প্রেসক্রিপশন আমার করার কথা না। আমি তো মানসিক প্রতিবন্ধী না।

এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডা. গোলাম মোস্তফা ইমন মুঠোফোনে কল করা হলে জানান, আড়াই বছরের কোন শিশু ক্যাপসুল খেতে পারবেনা। আমার বিশ্বাস করি আমি এ ধরনের কোন প্রেসক্রিপশন করিনি। আমার ভুল হতেও পারে। আমি মানুষ। যদি আমি কোন শিশুর প্রেসক্রিপশনে ক্যাপসুল লিখে থাকিও তারপর ওই শিশুর পরিবার ফার্মেসীতে গিয়ে ভুল ধরতে পেরে আর আমার কাছে কিংবা হাসপাতালে ফেরত আসেনি। এ ধরনের প্রেসক্রিপশন আমার করার কথা না। আমি তো মানসিক প্রতিবন্ধী না।

হাসপাতালটির চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল হক জানান, এ বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। আহত শিশুটির পরিবারও আমাকে কোন অভিযোগ করেনি। তবে গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিব।

বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. দেবাশীষ জানান, আমি কখনোই কোন চিকিৎসক শিশুদের জন্য এন্টিবায়োটিক ক্যাপসুল লিখেছেন এমনটি শুনিনি। এটা প্রথমই শুনলাম। ওই চিকিৎসক নিশ্চয়ই কোন ভুল করেছেন। এছাড়া আড়াই বছরের শিশু ক্যাপসুল কিভাবে খাবে। সাধারণত ৮ বছর বয়সী শিশুদের এন্টিবায়েটিক দেয়া হলেও সেটা ওজনের উপর নির্ভর করে দেয়া হয়। আমরা সাধারণত শিশুদের ইনজেকশন ও সিরাপ দিয়ে থাকি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্বাস্থ্য -এর সর্বশেষ