সরকারী হাসপাতালের কর্মকর্তা যখন দালাল!

৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, বুধবার ১৫ আগস্ট ২০১৮ , ১:২১ অপরাহ্ণ

সরকারী হাসপাতালের কর্মকর্তা যখন দালাল!


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৭ পিএম, ৪ জুন ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০২:০৭ পিএম, ৪ জুন ২০১৮ সোমবার


সরকারী হাসপাতালের কর্মকর্তা যখন দালাল!

সরকারী হাসপাতালে দালাল চক্র নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগী ও তার স্বজনদের মাঝে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করে। তবে হাসপাতালের বাইরের দালাল থেকে পরিত্রাণ পেলেও ভেতরের দালাল থেকে পরিত্রাণ পাওয়া বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে। আর যদি চিকিৎসকের সহকারীরা পেশার আড়ালে দালালি পেশায় মুখোশ উন্মোচন করে তখন রোগিদের ভোগান্তি অন্ত থাকেনা। এভাবেই সরকারী হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তারা দালালি পেশার মাধ্যমে মাস শেষে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের ৩শ শয্যা হাসাপাতালে।

ঘটনাটি ঘটেছে সজীব দেওয়ান নামের এক রোগির সাথে। আর এই ঘটনার তথ্য উপাত্ত সবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপে প্রকাশ পেয়েছে।

জানা গেছে, সজীব দেওয়ান গত ২৩ মে সকালে খানপুর ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে এক চিকিৎসকের সেবা নিতে গেলে তার সহকারী অন্য একটি বেসরকারী হাসপাতালে যোগাযোগ করার রিসিপ্ট দেয়। এর ফলে রোগিকে বাধ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের স্ট্যাটাস থেকে জানা গেছে, বেসরকারী কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের একটি রিসিপ্ট দিয়েছিল ওই রোগিকে। আর সেই রিসিটের উপরের অংশে ডা. কামরুল আশরাফ বাপ্পীর নাম পদবী সহ রোগী দেখার সময় ও চেম্বার সংক্রান্ত অনেক তথ্য লেখা ছিল। এর নিচেই সরকারী হাসপাতালের একটি রিসিপ্ট দেখা যায়।

একাধিক সূত্র বলছে, ‘সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের সহকারী সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা মাস শেষে নামে মাত্র একটা অংকের টাকা বেতন পায়। কিন্তু মাস শেষে তাদের উপার্জন প্রকৃত মোট অংকের কথা প্রকাশ পেলে অনেকেই বিষ্ময়ে বিহবল হয়ে পড়ে। কারণ এক কর্মকর্তাদের অনেকে তাদের প্রকৃত পেশার আড়ালে দালালি পেশাকে বেছে নিচ্ছে। আর সেই পেশার কমিশন বাণিজ্যে মেতে উঠছে। এভাবেই মোটা অংকের হাতছানিতে এরা দিনের পর দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।’

রোগীদের একাংশ অভিযোগ করে বলছেন, ‘সরকারী হাসপাতালে রোগীদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। বাইরের দালাল থেকে কোনরকমে ছাড়া পেলেও চিকিৎসকের সহযোগি পেশার দালালরা রোগিদের জিম্মি করে তাদের নির্দিষ্ট বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য করছে। আর রোগীরাও অনেকটা বাধ্য হয়ে জরুরী উপশমের জন্য সেখানে যাচ্ছে। এতে করে রোগিদের জিম্মি করে দালালির মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্যের ব্যবসা এখন তুঙ্গে। আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের বাইরের দালালদের ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও ভেতরের এসব দালালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে কমিশন বাণিজ্য করে যাচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকারী হাসপাতালে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারী হাসপাতালের দালাল চক্র প্রবেশ করলে তা নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এর কারণে সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সহকারী সহ অনেক কর্মকর্তদের বেসরকারী এসব প্রতিষ্টান কমিশন বাণিজ্যের লোভনীয় নানা প্রস্তাব দিয়ে থাকে। যার ফলে একদল অসাধু কর্মকর্তারা এই সুযোগকে লুফে  নেয়। এদিকে সরকারী হাসপাতালের কোন এক পেশায় নিয়োজিত থাকার ফলে দালাল প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ থাকেনা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এসব কর্মকর্তারা দালালি পেশার মধ্য দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর অন্যদিকে রোগি ও তার স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়ছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্বাস্থ্য -এর সর্বশেষ