৩০০ শয্যা হাসপাতাল ভাঙা শয্যা ছাড়পোকা নোংরা পরিবেশ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৩ পিএম, ৬ জুন ২০১৮ বুধবার



৩০০ শয্যা হাসপাতাল ভাঙা শয্যা ছাড়পোকা নোংরা পরিবেশ

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের এখন ত্রাহি দশা। হাসপাতালের বেশীরভাগ শয্যাগুলো ব্যবহারের অনুপযোগি। সেখানে রয়েছে ছাড়পোকা, তেলাপোকার বাসা। দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে ধরতে হয়। শয্যাগুলোর পায়াগুলো ভাঙা থাকায় সেখানে দিয়ে রাখতে হয়েছে ইট। রোগীদের অভিযোগ এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই তাদের চিকিৎসা গ্রহণ করতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জাপানের সহযোগিতায় ১৯৮৬ সালে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে নির্মাণ করা হয়। পরে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও এখানে শয্যা আছে ২৭১টি। যার মধ্যে ১৮নং গাইনী ওয়ার্ডে ৬৭টি। ১৯নং সার্জারী ওয়ার্ডে ৬০টি। ২১ নং পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫০টি। ২২ নং মেডিসিন মহিলা ওয়ার্ডে ৫৮টি। ২৩ নং শিশু ওয়ার্ডে ২৬টি। আর প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে সর্বনি¤œ ২টি করে শয্যা ভাঙা। তবে এ তুলনায় ২২ নং ওয়ার্ডটিতে ১২টি বিছানার একটি করে পা ভেঙে গেছে। সেগুলো হলো  ৬, ১০, ১৮, ১৯, ২৭, ২৯, ৩০, ৩৩, ৩৬, ৪২, ৪৩ ও ৪৭ নাম্বার বিছানা।

দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতালের ২২ নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে বিছনায় শুয়ে আছেন বিভিন্ন সমস্যায় চিকিৎসাধীন রোগীরা। কারো হাতে স্যালাইন লাগানো আবার কাউকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুমিয়ে রাখা হয়েছে। যারা জেগে আছেন তারাও খুঁজে খুঁজে ছাড়পোকা মারছেন। তদের মধ্যে কেউ বা আবার হাসপাতালের তেলাপোকা মারছেন। বেশ কয়েকজনকে বিছানা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে।

সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কাছে যেতেই চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের স্বজনরা বলেন, ‘হাসপাতাল নিয়ে লেখেন। বিছানা ভালো না গন্ধ বের হয়। শুয়ে থাকা যায় না রাত দিন ছাড়পোকা কামড় দেয়। আর রাত হলে তেলাপোকা উড়ে। একদিনও হাসপাতালের রুম ভালো ভাবে পরিষ্কার করে না। ময়লা থেকেই যায়।’

৫দিন আগে পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শেফালী বেগম বলেন, রাত দিন সারাক্ষণ ছাড়পোকা কামড়ায়। আর রাতে তেলাপোকা উড়ে এসে শরীরে বসে। বিছানায় দুর্গন্ধ। একটি রোগী চলে গেলে আর বিছানার চাদর পরিবর্তন করে না। নোংরা অবস্থায় পড়ে থাকে। যখন নতুন রোগী আসে সেখানেই থাকতে দেয়।

গত শনিবার সকালে পিত্তথলির পাথর অপারেশন জন্য ভর্তি হওয়া ফারজানা আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে হাতেগোনা কয়েকটি বিছানা ছাড়া বাকি সবগুলোর পরিবর্তন প্রয়োজন। না হলে যেকোন সময় রোগীরা ভেঙে পড়তে পারে। এভাবে ইট দিয়ে ক’দিন চলতে পারবে।’

রোববার অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জান্নাত বলেন, নার্সদের অনেক বলেছি বিছানা পরিবর্তন করে দিতে। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। পরে বাসা থেকে চাদর এনে বিছিয়ে নিতে হয়েছে। আমার মতো অনেকেই বাসা থেকে চাদর নিয়ে এসেছেন।’

চাকরি হারাতে হবে এমন দাবি করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২২ নং ওয়ার্ডের নার্স বলেন, ‘বিছানার কাপড়গুলো ভালো মানের না। যার ফলে একবার ওয়াশ করলেই ছিড়ে যায়। আমরা বলি যাতে ভালোভাবে রোগীদের বিছানা ও রুম পরিস্কার করা হয়। কিন্তু ওয়াশের কাজের লোকগুলো তা শোনেন না। আর কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিছানায় ছাড়পোকা ধরেছে। এসব সমস্যাগুলো আমরা সুপারকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। তবে এখনও পর্যন্ত কোন প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোতালেব মিয়া বলেন, নতুন শয্যার জন্য অর্ডার হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও