২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

৩০০ শয্যায় টিকেট কালো বাজারীদের খপ্পরে


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৩ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার


৩০০ শয্যায় টিকেট কালো বাজারীদের খপ্পরে

নারায়ণগঞ্জের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল হচ্ছে ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। হাসপাতালের নানা সমস্যা আর দুর্ভোগের মধ্যে এবার নতুন করে যোগ হয়েছে বহির্বিভাগে কালো বাজারে টিকেট বিক্রি। স্থানীয় লোকজন ও হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তার সিন্ডিকেট চলে এ কারবার। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগীকে। আর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের দাবী কিছু স্থানীয় লোকজন প্রভাব খাটিয়ে এ কাজটি করে যাচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু লোকজন ও হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তাদের সাথে মিশে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করে। টিকিট কাউন্টারের সামনে যেখানে দেখা যায় লম্বা সারি। সেখানে ভেতর থেকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে টিকিট।

মঙ্গলবার ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে দুপুরে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে সরেজমিনে ঘুরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। হাসপাতালটির বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার প্রশাসনিক শাখার কক্ষ নং-১৬/২ এর সাথে যুক্ত। কিছুক্ষণ পরপর সেই কক্ষে কয়েকজন প্রবেশ করছে এবং হাতে করে টিকিট নিয়ে বেরিয়ে আসছে। এই টিকিট বাইরে আগে থেকে কথা বলে রাখা রোগীর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এমন অবস্থাতেও কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের সাথে আসা স্বজনেরা।

ভুক্তভোগী এক রোগী বলেন, ‘এক ঘণ্টা হইছে এই গেইটের (প্রশাসনিক শাখার কক্ষ নং-১৬/২) সামনে দাঁড়াইয়া আছি। খুব বেশি দূর আগাইতে পারি নাই। কিন্তু আসার পর থেইকা দেখতাছি লোক ভিতরে ঢুকতাছে আর টিকিট নিয়া বাইর হইতাছে। আবার টাকা দিয়া বিক্রি করতাছে। এইগুলা দেখার কি কেউ নাই?’

কালোবাজারে টিকিট কেনা এক রোগী বলেন, ‘আমার সামনে একজন রোগী ছিল। তার টাকা দিয়া টিকিট কিনা দেইখা আমিও একটা কিনা দিতে বললাম। ৫০ টাকা চাইছিল। আমি ৩০ টাকা দিছি। আর টিকিটের ১০ টাকা আলাদা দিতে হইছে।’

এই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত একজন নাম না বলার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বাসা এই এলাকাতেই। আমরা এখানকার স্থানীয়। অনেক দিন ধরেই এই হাসপাতালে যাওয়া আসা করি। অনেকের সাথেই ভালো সম্পর্ক হইছে। কিন্তু আমরা টিকিট বিক্রি করি না। পরিচিত কেউ আসলে তখন টিকিট নিয়া দেই। তারা খুশি হইয়া কিছু দেয়।’

ভেতর থেকে টিকিট নেওয়ার কথা স্বীকার করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল মোতালেব। তবে টিকিট বিক্রির কথা অস্বীকার করেন তিনি।

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ভিআইপিদের জন্য এই সুবিধা রয়েছে। তবে তারা সরকারের উচ্চ পদের কর্মকর্তা অথবা রাজনৈতিক ব্যক্তি হতে হবে। তবে স্থানীয় কিছু মানুষ প্রভাব খাটিয়ে ভিতর থেকে টিকিট নেয়। যদি তাদের টিকিট দেওয়া না হয় তবে বাইরে থেকে হমকি ধমকি দেয়।’

টিকিট না দিলে বলে ‘হাসপাতাল থেকে বাইরে আসিস তখন দেখা যাবে’। বাইরে থেকে বকাবকি করে। এইভাবে ঝুঁকি নিয়ে তো আর কাজ করা যায় না। কাউন্টারে যারা বসে তাদের কেউ তো বাইরে যেতে হবে। তখন যদি তারা কিছু করে? তাই বাধ্য হয়ে তাদেরকে টিকিট দিতে হয়। তবে টিকিট বিক্রির ব্যপারে আমরা জানি না।’

এসময় তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত সবাইকে বলি দালালদের কাছে যাবেন না। রোগীরা যদি না যায় তাহলে দালালরা টিকিট বিক্রি করতে পারবে না। তারা এর সুযোগও পাবে না। তাদের এই সুযোগতো আমরাই তৈরী করে দিচ্ছি। আমরা যদি সচেতন হই তবেই এসব বন্ধ হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্বাস্থ্য -এর সর্বশেষ