১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০৬ অপরাহ্ণ

UMo

নারায়ণগঞ্জ বিএমএ নির্বাচন নিয়ে ট্র্যাইব্যুনাল গঠন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০১:৫০ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার


নারায়ণগঞ্জ বিএমএ নির্বাচন নিয়ে ট্র্যাইব্যুনাল গঠন

ডাক্তারদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাচনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) মনোনীত ইকবাল বাহার ও দেবাশীষ সাহার নেতৃত্বাধীন ২৩ জনের পূর্ণ প্যানেল জয়ী হলেও সেটার কার্যক্রম স্থগিত করা হতে পারে।  গত ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে মারামারি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। আর এতে করে গত ৬ সেপ্টেম্বর যে ভোট হয়ে গেল সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ হলো

জানা গেছে, দীর্ঘ ২৫ বছর পর ডাক্তারদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাচনে এবার রাজনীতি হানা দেয়। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের দুটি গ্রুপ উভয় প্যানেলকে সমর্থন করায় এ রাজনীতির শেষ অংশে এসে ভোটের দিন ৬ সেপ্টেম্বর তুমুল মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বেশ সরব দেখা গেছে।

এবারের নির্বাচনে জয়ী ইকবাল বাহার ও দেবাশীষ সাহার প্যানেলের পক্ষে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়েছিলেন এমপি শামীম ওসমান। বিপরীতে আতিকুজ্জামান সোহেল ও নিজাম আলী প্যানেলের পক্ষকেও সমর্থন দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত সহ অন্যরা। ফলে এ ভোটেও কার্যত রাজনীতি চলে আসে।

৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরের রাইফেল ক্লাব প্রাঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশে ওই ভোটগ্রহণ হয় যেখানে ৩৮৭ ভোটারের মধ্যে ৩১৫ জন ভোট প্রদান করেছেন যারা সকলেই চিকিৎসক।

জানা গেছে, বিএমএ নারায়ণগঞ্জ শাখার নির্বাচনে দীর্ঘ ২৫ বছর পর ডাক্তাররা ভোট দেয়ার সুযোগ পেলেন। সর্বশেষ ভোট হয়েছিলো ১৯৯৩ সালে। দুই যুগে বহুবার নির্বাচন হলেও ভোট প্রদানের কোন সুযোগ ছিল না। প্রার্থীরা সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে ২৩ পদের বিপরীতে দু’টি প্যানেল অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৩ জনের পুরো প্যানেল দিয়েছে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) মনোনীত সভাপতি পদে ডা. ইকবাল চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে ডা. দেবাশীষ সাহার নেতৃত্বাধীন প্যানেল। অপরটি সভাপতি ছাড়া বাকি ২২ জনের প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন সহ-সভাপতি পদে ডা. আতিকুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক পদে ডা. নিজাম আলী। আর সভাপতি পদে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেন দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে সভাপতির পদে আসীন থাকা বর্তমান সভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরী।

দিনব্যাপী ভোটগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও রাত ১১টায় গণনা চলাকালে হঠাৎ করেই একটি ব্যালটকে কেন্দ্র করে চিৎকার করে উঠেন একটি প্যানেলের সহ সভাপতির প্রার্থী আতিকুজ্জামান সোহেল। এক পর্যায়ে সে ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে ভেতরে প্রবেশ করতে যাওয়া বিপরীত প্যানেলের দফতর সম্পাদক ইউসুফ আলী সরকারের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন। তখন সে ইসুফ জানান ওই সময়ে অবধি ভোট গণনায় তারা ভোট প্রাপ্তিতে এগিয়ে ছিলেন। তারা অন্তত বেশী ভোটে জিতবেন। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ঘটে। পরে ইউসুফ আলীকে মারধর করে সোহেলের সঙ্গে থাকা লোকজন। এ হাতাহাতি পরে রূপ নেয় ইকবাল বাহার ও সোহেলের মধ্যে।

খবর পেয়ে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হলে সেখানে তুমুল বাকবিতন্ডা ঘটে। চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়। এছাড়া ইকবাল বাহারের সঙ্গে থাকা নারায়ণগঞ্জের বাইরের জেলার একজন এএসপি কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। তিনি ছিলেন সাদা পোশাকে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এদিকে নির্বাচনের নীলনকশা করে পুরো প্যানেল জয়ে অভিযোগে কেন্দ্র কমিটিকে লিখিত দেয় সোহেল-নিজাম পরিষদ।  নির্বাচনে পরাজিত ডাক্তার আতিকুজ্জামান সোহেল সত্যতা জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন সকল কিছু ও কমিটি পরিচালনা স্থগিত করা হয়েছে। এবং তিন সদস্যের ট্রাইব্যুন্যাল গঠন করা হয়েছে

নির্বাচনে ৩৮৭ ভোটের মধ্যে ৩১৫টি ভোট কাস্ট হয়। এর মধ্যে সভাপতি পদে ইকবাল বাহার পেয়েছেন ১৮৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ১২৬ ভোট। সেক্রেটারী পদে দেবাশীষ সাহা পেয়েছেন ২১১ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি নিজাম আলী পেয়েছেন ১০৪ ভোট। সহ সভাপতি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। এখানে ইকবাল ও দেবাশীষ প্যানেলের বিজয়ী গোলাম মোস্তফা পেয়েছেন ১৩৯ ভোট। বিধান চন্দ্র পোদ্দার পেয়েছেন ২০০ ভোট। পরাজিতদের মধ্যে আতিকুজ্জামান সোহেল পেয়েছেন ১৩০ ভোট ও হাফিজুর রহমান পেয়েছেন ১৩৭ ভোট। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দোহা সঞ্চয় পেয়েছেন ১৭৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলক কুমার সাহা পেয়েছেন ১৩৭ ভোট। কোষাধ্যক্ষ শেখ ফরহাদ পেয়েছেন ২১১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আশীষ কুমার দে ৯৯ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন ২০৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেকার আলম পেয়েছেন ১০৩ ভোট। বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক কুমার তানসেন পেয়েছেন ২০২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুর রহমান ১০৮ ভোট। দফতর সম্পাদক ইউসুফ সরকার ২১১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল ইসলাম ১০১ ভোট। প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক কামরুল আশরাফ ১৮৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আলী আরাফাত ১২৮ ভোট। সমাজকল্যাণ সম্পাদক অমিত সরকার ২০৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দেবব্রত ঘোষ ১০৫ ভোট। সংস্কৃতি ও আপ্যয়ন বিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান ২৪৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রেয়সি রাণী সাহা ৬৫ ভোট। গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক জহিরুল হক ১৯৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মালেক ১০৯ ভোট পেয়েছেন। ইকবাল-দেবাশীষ প্যানেলে সদস্য পদে জাহাঙ্গীর আলম ২২৬ ভোট, জিএম ফরিদ ২৪৩ভোট, অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য ১৭৬ ভোট, এবিএম জহিরুল কাদের ভূইয়া ১৮৫ ভোট, তানভীর আহমেদ চৌধুরী ২০৯ ভোট, আমির হোসেন ১৮৭ ভোট, তনয় কুমার সাহা ২০২ ভোট, মতিয়ার রহমান ১৮৩ ভোট, আবু শাহেদ শুভ ১৮৯ ভোট ও মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন ১৭৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

সোহেল নিজাম আলীর প্যানেলের সদস্য পদে টিআইএম নুরুন্নবী ১২৫ ভোট, ক্যাপ্টেন (অব.) আবুল ফাতান ১১৭ ভোট, অনিল কুমার বসাক ১২৪ ভোট, মুহাম্মদ মাহবুব হোসেন ১০৮ ভোট, আল ওয়াজেদুর রহমান ৬১ ভোট, পলক কুমার মহন্ত ৯৭ ভোট, আব্দুর রব ৭৯ ভোট, মো. মাসুদুজ্জামান ৮৮ ভোট, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ১০০ ভোট ও সিনথিয়া তাসনিম ১০০ ভোট।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

স্বাস্থ্য -এর সর্বশেষ