জন্ডিসের কবিরাজি চিকিৎসা করাতে গিয়ে শঙ্কটাপন্ন যুবক

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩১ পিএম, ৪ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার



জন্ডিসের কবিরাজি চিকিৎসা করাতে গিয়ে শঙ্কটাপন্ন যুবক

নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৮নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া এলাকায় কবিরাজ নামধারী স্বামী ও স্ত্রীর কাছে জন্ডিস রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে শঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছে এক যুবকের জীবন। তবে শুধু ওই যুবকই নন কবিরাজ নামধারী ওই স্বামী স্ত্রীর কাছে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে অনেককেই। প্রতারণার প্রতিবাদ করতে গিয়েও নাকাল হতে হচ্ছে অনেককে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৮নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া এলাকায় লাল দালানের পিছনে ২২৬নং বিকে রোডস্থ বাসায় স্বামী সুবল সাহা ও স্ত্রী মোহনী রানী দাস মিলে কবিরাজ পরিচয় দিয়ে জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করিয়ে থাকেন। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা না থাকলেও সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে তারা সিদ্ধহস্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষকে প্রতারণায় ফেলার পর অর্থ হাতিয়ে নিতে তাদের একটি সিন্ডিকেটও রয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। 

সম্প্রতি জন্ডিসে আক্রান্ত শহরের বাবুরাইল এলাকার মোশারফ হোসেনের পুত্র মনির হোসেন লোকমুখে ওই নামধারী কবিরাজ দম্পতির প্রশংসা শুনে তাদের কাছে জন্ডিসের চিকিৎসা করাতে যান। প্রায় তিন সপ্তাহ তিনি ওই কবিরাজ দম্পতির কাছে জন্ডিসের চিকিৎসা করান। কিন্তু কবিরাজ দম্পতির দেয়া ওষুধে তার কোন কাজতো হয়নি বরং তার জন্ডিস আরো প্রকট আকার ধারন করেছে। আর কয়েকদিন অতিবাহিত হলে তার লিভার সিরোসিস হওয়ার উপক্রম হতো। পরে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে বর্তমানে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।

অসুস্থ মনির হোসেন অভিযোগ করেন, শুধু তিনি একাই নন তার মতো এরকম ভুক্তভোগী অনেকেই রয়েছে। যার মধ্যে তার নিজ এলাকারই আয়েশা বেগম ও শিরিনা বেগমের নাম তিনি শুনতে পেয়েছেন যারা ওই নামধারী কবিরাজের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ওই নামধারী কবিরাজ আবার স্থানীয় কিছু বখাটে যুবকদের মাসোহারা দিয়ে থাকে যাতে কোন ভুক্তভোগী কিছু বলতে গেলে ভুক্তভোগীরা যাতে বাধার সম্মুখীন হন। মনির হোসেন এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এবং তার মতো কেউ যাতে এই ধরনের প্রতারণার শিকার না হন সে বিষয়ে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে কথিত কবিরাজ স্বামী সুবল সাহা ও স্ত্রী মোহনী রানী দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য জন্ডিস হলে কবিরাজের কাছে গিয়ে অনেকে ঝাড়ফুঁক করান। অনেক কবিরাজ আবার রোগীর হাত ধুয়ে হলুদ পানি বের করে দেখান। এতে নাকি জন্ডিস চলে যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসব বিষয়ের কোনো ভিত্তি নেই। যেমন : হেপাটাইটিস ই ও এ জন্ডিসের ক্ষেত্রে খুব প্রচলিত। এটা যদি লিভারকে আক্রান্ত করে, লিভার ইনফেকশন হয়, তাহলে যে জন্ডিসটা হয়, সাধারণত ডাক্তাররা এটা জানতে পারেন। ডাক্তাররা পরীক্ষা করেন। তখন যদি নির্ণয় হয় যে এটি হেপাটাইটিস ই বা এ ভাইরাস, তাহলে চিকিৎসক তাঁকে কিছু পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এভাবে চলবেন, এভাবে বিশ্রামে থাকেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে রোগী ঠিক হয়ে আসে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চললে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যায়। আমাদের শরীরের যে নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এর মাধ্যমে রোগটা যে ভালো হয়ে যায়, এর সুযোগটা আসলে কবিরাজরা গ্রহণ করছে। হাত ধুয়ে হলুদ পানি বের করে দেখাচ্ছে। এটি এক ধরনের প্রতারণা। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দিচ্ছে যা খাওয়া মোটেই উচিৎ নং বলে অভিমত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও