মুক্তিতে ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগীর আত্মীয়কে মারধরের অভিযোগ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

মুক্তিতে ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগীর আত্মীয়কে মারধরের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত বেসরকারি ক্লিনিক মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের অভ্যন্তরে এক রোগির আত্মীয়কে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা: সুজনের বিরুদ্ধে। ২৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা ও রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে নানা ধরনের টালবাহান শুরু করায় মারধরের শিকার ভুক্তভোগী তমাল আহমেদ আইনের আশ্রয় নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তবে এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ডা: সুজন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়েও তাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তমাল আহমেদ শহরের বালুরমাঠ এলাকার বাসিন্দা মৃত রেজান উদ্দিন আহমেদ এর কনিষ্ঠ সন্তান।

তমাল আহমেদ জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: মারুফের অধীনে তার এক নিকট আত্মীয়ের অপারেশন করানো হয় পঞ্চাশ হাজার টাকা চুক্তিতে। তবে অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি রোগীকে নিয়ে মুক্তি জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ডা: মারুফের সাথে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করেন। ডা: মারুফ ছয় মাস পরে আবার অপারেশন করার কথা বললে তমাল আহমেদ রোগীর আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে এ নিয়ে ডা: মারুফের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে পাশের রুম থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা: সুজন ছুটে এসে অতর্কিতে তমাল আহমেদ এর শার্টের কলার চেপে ধরেন। তমাল আহমেদকে এলাপাতাড়ি ঘুষি, লাথি মেরে ফ্লোরে ফেলে দেন। তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলাসহ চোখের চশমাটিও ছিনিয়ে নেয়া হয়।

এসময় হাসপাতালের আরো ছয় সাতজন কর্মকর্তা কর্মচারী এসে সবাই মিলে তমাল আহমেদকে আরেক দফায় মারধর করে একটি রুমে আটকে রাখেন। এ ঘটনার সাথে সাথে ডা: সুজন দ্রুত হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গিয়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পরে আহত তমাল আহমেদ মোবাইল ফোনে তার পরিবারের স্বজনদের বিষয়টি জানালে বড় ভাইসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে ছুটে আসেন। এসময় হাসপাতালে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যান। এক পর্যায়ে হাসপাতালের অংশীদার (পরিচালক) শাহেনশাহ ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানাভাবে চেষ্টা করেন। ডা: সুজনকে ডেকে এনে সন্ধ্যা ছয়টায় আলোচনায় বসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা: সুজন ঢাকায় চলে গেছে এবং তাকে আনা যাবে না টালবাহানা শুরু করলে তমাল আহমেদ ও তার স্বজনরা তাদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন এবং আইনের আশ্রয় নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

রাত আটটায় এ ব্যাপারে তমাল আহমেদ সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি জেলা সিভিল সার্জনের কাছেও লিখিতভাবে অভিযোগ দেবেন বলে জানান তিনি।

সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও