৩০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগ : অবসরের পরেও বিনা বেতনে চিকিৎসক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:০৭ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার

৩০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগ : অবসরের পরেও বিনা বেতনে চিকিৎসক

হাসপাতাল থেকে অবসর নিয়ে চলে গেছেন প্রায় বছর দুয়েক আগে। বয়স হয়ে গিয়েছে অনেক। চোখেও তেমন একটা দেখেন না। তারপরেও তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। আবার কোন কোন সময় একটানা দায়িত্বও পালন করে থাকেন তিনি। তাও আবার জরুরি বিভাগে। অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। বাস্তবে বিষয়টি অবিশ্বাস্য হলেও এমনই ঘটনা ঘটছে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে।

ওই চিকিৎসকের নাম ডা. আব্দুল মান্নান। তবে তার এই সেবার পিছনে রহস্য কি? মানব সেবা নাকি অন্য কোন লোভনীয় সুবিধা। আর এই রহস্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে যতসব অজানা কাহিনী। ডা. আব্দুল মান্নানের এই কথিত মানব সেবার পিছনে রয়েছে প্রত্যেক মাসে লাখ লাখ টাকার ওষুধ বাণিজ্য। তিনি কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলা দিয়ে এই রমরমা ওষুধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জরুরি বিভাগে রোগীরা ঠিকিৎসা নিতে আসলে ডা. আব্দুল মান্নান রোগী না দেখেই প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। আর এসব প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধগুলো হাসপাতালে প্রচুর পরিমাণে সরকারী সরবরাহে থাকলেও ডা. মান্নান অন্য ওষুধ লিখে বাইরে থেকে আনতে বলেন। রোগীর আত্মীয় স্বজনেরাও আর কোন কিছু চিন্তা না করেই ডাক্তারের কথা অনুযায়ী বাইরে থেকে ওষুধ এনে দেন। অথচ এসকল ওষুধ বিনামূল্যেই হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

প্রেসক্রিপশনে প্রায়শই ডা. আব্দুল মান্নান নির্দিষ্ট ওষুধ ও ইনজেকশন (মেরোপিনায়ম ৫০০) নাম লিখে দেন। বিনিময়ে সে এসব ওষুধের ফাইল হতে কমিশন নেন। প্রতিদিন তিনি শত শত প্রেসক্রিপশনে ঠুকে দেন এসব ওষুধের নাম। এভাবে তার মাসিক আয় গিয়ে দাঁড়ায় লাখ লাখ টাকা। আর এজন্যই মূলত হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে তার কথিত চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন ডা. আব্দুল মান্নান।

অনেক সময় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সমস্যা খানপুর হাসপাতালে সমাধান সম্ভব হলেও ডা. আব্দুল মান্নান কারসাজি করে ঢাকা পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ঢাকা যাওয়ার পরে দেখা যায় সামান্য চিকিৎসাতেই রোগী ভাল হয়ে গেছে। অথচ মাঝখানে তাকে মোটা অংকের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া গুনতে হয়েছে। যার জন্য রোগীর আত্মীয় স্বজনকে কতই না কাঠখড়ি পোহাতে হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী জানান, ডা. আব্দুল মান্নান ঠিকমতো চোখেই দেখেন না। তিনি রোগীদের কথা ঠিকমতো শুনেন না এবং বুঝেনও না। অনেক সময় কোন কিছু না বুঝে না দেখেই অনুমানের উপর ভিত্তি করেই প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে থাকেন। ফলে কখনও কখনও হিতে বিপরীতও হয়ে থাকে।

গত কয়েকদিন পূর্বে খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন এক রোগী। তখন ডা. মান্নান ডিউটিরত অবস্থায় ছিলেন। মান্নান রোগীকে দেখেই অযথা চেঁচিয়ে উঠেন। কোন কিছু জিজ্ঞেস না করেই দামী দামী কয়েকটি ইনজেকশন লিখে দিয়ে দেন। এসকল ইনজেকশন হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও ডা. মান্নান রোগীর আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে বাইরে থেকে ওষুধ আনান।

খানপুর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে শহরের খানপুর হাসপাতাল থেকে অবসর নিয়ে চলে যান জরুরি বিভাগের ডা. আব্দুল মান্নান। বর্তমানে তিনি অবৈতনিক প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

কিন্তু হাসপাতালের ডাক্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকালীন সময়েও তিনি জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করে কিভাবে আবার জরুরি বিভাগেই অবৈতনিক প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে চিকিৎসা দেন সেটা সত্যিই অবাক বিষয়।

তবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোতালেব হোসেন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে অবসর নেয়ার পরও ডা. মান্নানের চিকিৎসা দেয়া সম্পর্কে তিনি অবগত নয়। যদি এখনও থেকে থাকেন তাহলে আগামীকালই (বৃহস্পতিবার) নোটিশ করবেন। এভাবে চিকিৎসা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও