৩০০ শয্যায় তত্ত্বাবধায়ক সহ দশ কর্মকর্তা কর্মচারীর বিদায় সংবর্ধনা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩২ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

৩০০ শয্যায় তত্ত্বাবধায়ক সহ দশ কর্মকর্তা কর্মচারীর বিদায় সংবর্ধনা

অশ্রুসিক্ত নয়নে বেদনায় ভরা হৃদয় নিয়ে শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩০০শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সহ দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত বিদায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ২৬ ফেব্রুয়ারী দুপুরে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র কনসালটেন্ট, গাইনী ডা. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি বিধান চন্দ্র পোদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয় সহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

বিদায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোতালেব মিয়া তিনি হাসপাতালটিতে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে যোগদান করেছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বয়সসীমা ১৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার মাধ্যমে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন সিনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া) ডা. একেএম নুরুজ্জামান, সিনিয়র কনসালটেন্ট (নাক কান গলা বিভাগ) ডা. মো. খোরশেদ আলম, সিনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন) ডা. পলক কুমার মোহন্ত, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী হেলাল উদ্দিন, নার্সিং সুপারভাইজার মোহসীনা আক্তার, ইন্সট্রমেন্ট টেকনিশিয়ান মোঃ মোসারেফ হোসেন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মীর মাহবুব আলী, ওয়ার্ড বয় মোঃ সোহরাব হোসেন, আয়া রুবিনা বেগম।

বিদায় সংবর্ধনায় উপস্থিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরী হয়। এসময় বিদায়ীদের মধ্যে প্রথমেই বক্তব্য দিতে আসেন ওয়ার্ড বয় মোঃ সোহরাব হোসেন। বক্তব্যের শুরুতেই হাতে মাইক নিয়ে দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। এরপর বলেন, আমরা জানি একটা সময়ে সবারই চাকরি থেকে বিদায় নিতে হয়।’

কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে আর কিছু বলতে না পেরে, ‘আমি দুঃখিত, আমি আর কিছু বলতে পারব না’, বলেই চোখ মুছতে মুছতে স্টেজ থেকে বিদায় নেন তিনি।

দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া) ডা. একেএম নুরুজ্জামান বলেন, হাসপাতাল থেকে আমি যা পেয়েছি তা হচ্ছে আন্তরিকতার সম্পর্ক। প্রত্যেকটি বিভাগ থেকে আমরা সহযোগিতা পেয়েছি। কখনো কখনো আমরা একে অপরের উপর একটু অভিমান করলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। একটি পরিবারের মতই থেকেছি। আমাদের সেবার তুলনায় রোগীদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। যে কারণে প্রায় সময় অনেকেই বলেন যে হাসপাতালে সঠিক সেবা পান না। তাদের উদ্দেশ্যে বলব আমাদের সক্ষমতা একটু বিবেচনা করবেন। হাসপাতালের নিম্ন শ্রেনি থেকে উচ্চ শ্রেনি পর্যন্ত সকলকেই বলব নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন সেবা প্রদানের জন্য।

এরপর আর কেউ বক্তব্য দেওয়ার জন্য স্টেজে উঠেনি। বিদায় বেলায় সকলের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলার জন্য মাইক হাতে নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মোতালেব মিয়া। হাসি ঠাট্টা করে কথা বলতে বলতে হঠাত চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে থাকে তাঁর।

কান্নাজড়িত ভারি কণ্ঠ নিয়ে তিনি বলেন, কেউ কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছি আপনারাও আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।

এসময় হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র কনসালটেন্ট গাইনী ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসপাতালটিকে আপনারা অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে এসেছেন। আজ আপনাদের বিদায় বেলা। তবে একেবারে বিদায় দিচ্ছি না। আরো সামনে এগিয়ে নিতে আপনাদেরকে প্রয়োজন। আপনারা দোয়া করবেন যাতে হাসপাতালটিকে আরো এগিয়ে নিতে পারি।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও