১৫ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ শয্যা হাসপাতাল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৬ পিএম, ৩ মার্চ ২০১৯ রবিবার

১৫ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ শয্যা হাসপাতাল

দীর্ঘ ১৫ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের শ্রমঘন এলাকা হিসেবে পরিচিত ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে দু’টি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প। অধিগ্রহণের জন্য বারবার জমি চেয়েও জমি বরাদ্দ না পাওয়ায় নির্মিত হয়নি হাসপাতাল দু’টি। অথচ নারায়ণগঞ্জের মধ্যে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা শিল্পঘন হওয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। তবে হাসপাতালের জন্য জমি চেয়ে বরাদ্দ না পেলেও প্রস্তাবিত সরকারী খাস জমি বেসরকারী কোম্পানীর কাছে বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের মোট জনসংখ্যা ৩০ লাখের উপরে। ফতুল্লার ৫ টি ইউনিয়নের সর্বমোট জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। তবে স্থানীয়দের মতে ভাসমান জনসংখ্যা রয়েছে লক্ষাধিক। ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি অত্যন্ত শ্রম ঘন এলাকা। ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর ৭১৪টি প্লটের সবগুলোতেই শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। অপরদিকে আদমজী ইপিজেডেও গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা। এছাড়াও ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গার্মেন্ট, টেক্সটাইল মিল, স্পিনিং মিল, রিরোলিং মিলসহ সহস্রাধিক কারখানা রয়েছে।

ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা গার্মেন্ট কর্মী কবির হোসেন বলেন, ফতুল্লায় কিছু প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য চিকিৎসাসেবা অপ্রতুল। কোন ধরনের দূর্ঘটনা ঘটলে তাদেরকে ছুটতে হয় শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল অথবা মন্ডলপাড়ায় অবস্থিত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে। বেশী গুরুত্বর হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটতে হয়। সড়কপথে প্রতিনিয়ত যানজটের কারণে দেরী হওয়ায় আহতদের অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

পিলকুনী তক্কার মাঠ এলাকার আল আমিন বলেন, ফতুল্লার মোট জনসংখ্যার বেশীরভাগই শ্রমিক। কম খরচে চিকিৎসার জন্য তাদেরকে যেতে হয় শহরে দু’টি হাসপাতালে। নয়তো প্রাইভেট ক্লিনিকে। কিন্তু সেখানেও তাদেরকে প্রতিনিয়ত দালালদের খপ্পড়ে পড়ে ভুল চিকিৎসার মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়াও রয়েছে ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম।

সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন জানান, সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে যেকোন সমস্যায় ছুটতে হয় ৩০০ শয্যা হাসপাতাল নয়তো প্রাইভেট ক্লিনিকে। সামান্য কাটাছেড়ার জন্যও ছুটতে হয় ৩০০ শয্যা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। যানজটের কারণে অনেক সময়ই রোগীর জীবন সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। দেখা যায় প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও সেবা মেলেনা। অনেক সময় ভুয়া চিকিৎসকের খপ্পড়েও পড়তে হয়। কয়েকদিন আগে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি হাসপাতাল এক ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে দু’টি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। ওই দু’টি হাসপাতালের জন্য জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনাও দেয়া হয়। তৎকালে বেশ কিছু জমি অধিগ্রহণের জন্য চিহ্নিতও করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণও হয়নি। তবে তৎকালে জেলা প্রশাসনে যেসকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছে তাদের মধ্যে প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়নের সদিচ্ছার অভাব ছিল বলেও জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতি মাসেই উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। যাতে আলোচ্য সূচীতে রয়েছে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে দু’টি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়টি। কিন্তু অদ্যাবধি জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি আর নিস্পত্তি হয়নি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল হক জানান, ২০০৩ সালে প্রকল্প দু’টি অনুমোদন হয়েছিল। ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ একর জমি প্রয়োজন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ শিল্পঘন এলাকা হওয়ায় জমির দাম অনেক এবং খালি জায়গা তেমন একটি নেই। আমরা এর আগে অনেকবারই জমি অধিগ্রহণের জন্য পছন্দ করে মাপঝোঁকও করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনী জটিলতার কারণে ওই প্রকল্প দু’টি আর বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা এখনো প্রকল্পটি উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উত্থাপন করে যাচ্ছি। জমি পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য বিভাগ ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে দু’টি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত রয়েছে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও