৩০০ শয্যা হাসপাতাল : যানজট ওষুধের টানাটানি, মোটরসাইকেল পার্কিং

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৮ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার

৩০০ শয্যা হাসপাতাল : যানজট ওষুধের টানাটানি, মোটরসাইকেল পার্কিং

নারায়ণগঞ্জের অন্যতম চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। তবে এখন চিকিৎসা সেবার চেয়ে দুর্ভোগেই বেশি পড়েন রোগীরা। হাসপাতালের প্রবেশের রাস্তায় রিকশার যানজট, হাসপাতালের ভেতরে ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তাদের মোটরসাইকেল পার্কিং, কাউন্টারের দালাল, রোগীদের লম্বা লাইন সহ নানা ভোগান্তিতে রোগী ও তাদের স্বজনেরা। তবে এ বিষয়ে উদাসীন কর্তৃপক্ষ।

২৪ এপ্রিল বুধবার সরেজমিনে শহরের খানপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের সামনের রাস্তায় রিকশা চালকদের ভীড়। এর মধ্যে উচ্ছেদ অভিযানের ফলে অবৈধ দোকানদের আর দেখা যাচ্ছে না। প্রায় ওষুধের দোকানগুলো বন্ধ করে চলে গেছে। তবে ওই রাস্তায় ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তাদের মোটরসাইকেলগুলো খানপুর হাসপাতালের ভিতরে খালি জায়গায় রাখা হয়েছে।

অনেক মটরসাইকেল হাসপাতালের সামনে রাখার ফলে জরুরী বিভাগে যাওয়া কিংবা চিকিৎসার জন্য যাওয়ার রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতাল থেকে রোগীরা ডাক্তার দেখিয়ে বের হতে না হতেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি তো আছেই। একই সঙ্গে একাধিকবার হাসপাতালে আটক হলেও এখনও সেসব দালালদের ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা হাসপাতাল থেকে রোগীদের ক্লিনিকে কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। এছাড়াও প্রচন্ড গরমে রোগীদের লাইন ধরে টিকেট কিনতে হচ্ছে। বসার মতো তেমন কোন আসনও নেই।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া না যে ভোগান্তি পোহানো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টিকেট নিতে হয়। তার উপর আবার ডাক্তারদের দরজায় দীর্ঘ লাইন। বসার কোন ব্যবস্থা নেই। গাছ তলায় যে বিশ্রাম নিবো সেখানেও মটরসাইকেল ও গাড়ি রেখে দিয়েছে। স্বস্তির কোন জায়গা নেই।

হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা আকলিমা বেগম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, কয়েকজন নারী আছে যারা কাছে এসে বলে ২০টাকা দিলে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। আগে টিকেট পাবেন। কিন্তু টিকেটের দাম মাত্র দশ টাকা। তারা কিভাবে লাইন না ধরে টিকেট পায়। আবার কয়েকজন বলে হাসপাতালে কোন চিকিৎসা হয় নাকি। ঢাকা থেকে বড় ডাক্তার আসে তাদের দেখান অল্প দিনে ভালো হয়ে যাবেন। এখানে দেখাবেন আর ভুগতে হবে। ক’ দিন পর তো আবার বড় ডাক্তার খোঁজবেন। পরে যখন বলছি না এখানেই দেখাবো তখন রাগ দেখিয়ে চলে গেলো। ডাক্তার দেখিয়ে বাইরে বের হয়েছি কয়েকজন ছেলে এসে প্রেসক্রিপশন দেখতে চাইলো। ভাবলাম হয়তো কোন সাহায্য করবে তা না মোবাইলে ছবি তুলে নিয়ে গেছে।

রহিম উদ্দিন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, যখনই হাসপাতালে আসি সামনের রাস্তায় রিকশা থেকে নামিয়ে দেয়। বলি যে অসুস্থ একটু সামনে নিয়ে দেই আসো। রিকশাওয়ালা রাজি হলেও যে ভাবে রিকশা, মটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাখে তাতে কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কাকে পাওয়া যায়নি। মটরসাইকেলগুলো যেভাবে রাখে তা দেখলে তো যে কেউ মনে করবে মটরসাইকেলের দোকান। একটা হাসপাতাল কি এমন থাকে?

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ইতোমধ্যে ৩০০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যা উন্নীতকরণের কাজ চলছে। ফলে হাসপাতালের ওয়ার্ড কমে গেছে। কিন্তু জায়গাও কম। অন্যদিকে চাপও বেশি। এছাড়াও নতুন তত্ত্বাবধায়ক কিছুদিন আগেই এখানে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে হাসপাতালের সুপারকে পাওয়া যায়নি।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও