গরমে নারায়ণগঞ্জে বাড়ছে ডায়রিয়া, আক্রান্ত বেশী শিশুরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৮ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার

গরমে নারায়ণগঞ্জে বাড়ছে ডায়রিয়া, আক্রান্ত বেশী শিশুরা

প্রচন্ড গরমে একের পর এক বেড়েই চলেছে ডায়রিয়া, ঠান্ডা, জ্বর, সহ বিভিন্ন ধরনের রোগ। তবে নারায়ণগঞ্জে এসব রোগের চেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। আর আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা সব থেকে বেশি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি সর্বোচ্চ ১০জন ও সর্বোচ্চ অর্ধ শত শিশু চিকিৎসা নিতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে সেই অনুযায়ী আসন সংখ্যা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।

২৪ এপ্রিল বুধবার সকালে সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখে গেছে, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে একটি শয্যায় তিনজন শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তাও মা কিংবা স্বজনদের কোলে শুয়ে। গুটিশুটি হয়ে কোন রকমে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে থাকতে হচ্ছে। এর মধ্যেই চলছে স্যালাইন, ইনজেকশন সহ সকল চিকিৎসা। আর এভাবে চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খেতে হয়েছে নার্স সহ ডাক্তারদের। আসন সংখ্যা কম থাকায় কিছুটা সুস্থ হলেই রোগীদের হাসপাতাল ছাড়তেও বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। তবে হাসপাতাল ছাড়লেও কতটা সুস্থ হয়েছে আদৌ কি আবার অসুস্থ হয়ে পড়বে কি না সেই বিষয়ে সংশয় রয়ে যাচ্ছে স্বজনদের মধ্যে। তবে নার্সরা বলছেন, শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক রয়েছেন তারা। যাকেই হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হচ্ছে তার বিষয়ে যথেষ্ট যাচাই বাছাই ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহ বাসায় করণীয় বলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভয় না পাওয়ার জন্য স্বজনদের তারা অভয় দিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জন শিশু চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। গত এক সপ্তাহে গড়ে ২০জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মধ্যে প্রতিটি শিশুই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে এর মধ্যে ডায়রিয়া আক্তার রোগীর সংখ্যাই বেশি।

নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রিংকু বলেন, গত দুইদিন আগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় আড়াই বছরের শিশু সৌরভ। দুইদিন বাসায় ওষুধ খাওয়ানো হলেও সুস্থ হচ্ছে না। পরে বাধ্য হয়ে বুধবার সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে যায়।

তিনি জানান, এতো বড় একটি হাসপাতাল কিন্তু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে মাত্র ৬টি সিট আছে। এ সিটে ৩ থেকে ৪জন বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তাও বিছানায় শোয়াতে পারছি না। কোলে নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। অবিলম্বে এ ওয়ার্ডের জন্য আসন সংখ্যা বাড়ানোর উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স বলেন, তীব্র গরমের কারণে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও পানি পান করার কারণেও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে শিশু রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। গরম কমে গেলে এর সংখ্যাও কমে আসবে।

তিনি বলেন, বছরে অর্ধেকের বেশি সময় সট খালি পড়ে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সকলের জন্য আসন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বাচ্চাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাদের মায়েরা পাশে থাকলেই ভালো। এজন্য একটু কষ্ট হলেও চিকিৎসার জন্য সুবিধা। তাই তাদের পাশে থাকতে বলা হয়েছে। সেজন্য এক সিটে তিনজন করে বসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, রোগী সবাই গুরুতর হলেই হাসপাতালে আসে। কিন্তু চিকিৎসার পর ভালো হলে তাদের আর হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে না। তাদের যথাযথ পরামর্শ ও ওষুধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে এখনও পর্যন্ত এমন হয়নি যে রোগীকে ঢাকায় রেফার্ড করতে হয়েছে। বাসায় ভালোভাবে দেখাশোনা করলে হয়তো এ ডায়রিয়া সহ জ্বর ঠান্ডা হওয়ার কোন আশঙ্কা থাকবে না।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও