৩০০ শয্যায় যে কৌশলে দালালদের তৎপরতা, রয়েছে উচ্চ শিক্ষিতরাও

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৯ পিএম, ২০ মে ২০১৯ সোমবার

৩০০ শয্যায় যে কৌশলে দালালদের তৎপরতা, রয়েছে উচ্চ শিক্ষিতরাও

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ঘিরে অন্তত ডজন খানেক দালাল চক্র সক্রিয় আছে। দীর্ঘদিন ধরেই এসব দালালের হাতে জিম্মি রোগী ও তাদের স্বজনেরা। এসব দালালের উৎপাতে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফুসলিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে দালাল চক্র।

স্থানীয় মাধ্যম ও প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আসপাশে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি বেসরাকরি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অন্তত ডজন খানেক দালাল হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়। এসব দালাল চক্রের মধ্যে শিক্ষিত ঘরের নারীও রয়েছে। যাদের দেখে বোঝার উপায় নেই এরা দালাল চক্রের সদস্য।

এসব সদস্য ডাক্তারের চেম্বারের সামনে এমন ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে দেখে মনে হয় তাঁরা ডাক্তারের সহযোগী। ভেতর থেকে কোন রোগী বাইরে বের হওয়া মাত্রই তাদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে নেন। এরপর রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য করেন। একদল আরার বেশি অসুস্থ রোগী দেখলেই চিকিৎসা পেতে দেরি হবে বলে বাইরের ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করেন।

সোমবার ২০মে সরেজমিনে হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঘুরে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংঘবদ্ধ দালাল চক্রটি দুটি অংশে কাজ করে। এক অংশ হাসপাতালের বহির্বিভাগে কাজ করে। আরেক অংশ কাজ করে হাসপাতালের বাইরে। হাসপাতালের চিকিৎসকের থেকে যখন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বের হয় তখন ভেতরের দালাল চক্রটি রোগীদেরকে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার জন্য বলে।

আরেক দল থাকে বাইরে যারা বাইরে খুব বেশি অসুস্থ রোগী হাসপাতালে ঢুকতে দেখলে হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যাবে না বলে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

দালাল চক্রের খপ্পরে পড়া একজন ভুক্তভোগী হচ্ছেন বিশ্বনাথ। দীর্ঘদিন ধরে বাম পায়ে ব্যাথার কারণে চিকিৎসা নিতে এসেছেন তিনি। চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে দালাল চক্রের এক সদস্য ডেকে সাইডে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর হাতে গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের একটি স্লিপ ধরিয়ে দেন এবং সেখানে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে সেখানে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হাসপাতালে এসে যানতে পারেন যে টাকা তার খরচ হয়েছে তার অর্ধেক টাকায় তিনি এই হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারতেন।

পরিচয় গোপন করে দালাল চক্রের নারী সদস্যের সাথে কথা হয় নিউজ নারায়ণগঞ্জের প্রতিবেদকের। প্রতিবেদকের কাছে পরিচয় দেন তার নাম লিপি এবং তিনি বন্দর থাকেন। রবি, বাদল, তসলিমা, রাজিয়া, ফয়েজ মুস্তাফিজ সহ বেশ কয়েকজন দালালের নাম তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে।

প্রথমে অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে স্বীকার করেন তিনি গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের হয়ে দালালি করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার আছেন যারা গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে বসেন। রোগীরা যাতে বাইরে তাদের কাছে চিকিৎসার জন্য যায় সেই জন্য আমরা এখানে কাজ করি।  তবে এসব ডাক্তারের নাম বলতে চাননি তিনি।

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন পাই। রোগীর খরচ যত বেশি হয় আমাদের কমিশন তত বেশি হয়।

এসব দালাল চক্রের সদস্যকে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের কথা জানিয়েছেন সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত খানপুর ৩০০শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ আবু জাহের।

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, হাসপাতালে আসার পরেই আমি সবার সাথে মিটিং করেছি। হাসপাতালের দুর্নীতি দমনে আমরা বদ্ধপরিকর। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। হাসপাতালের এসব দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার, নার্স পরিচ্ছন্ন কর্মী ও অন্যান্য সকল কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নৈতিকতার সাথে কাজ করার জন্য জানানো হয়েছে। এসব দালালদেরকে চিহ্নিত করার কাজ করা হচ্ছে। চিহ্নিত করা হলেই এদেরকে পুলিশে দেওয়া হবে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও