‘রণজিৎ ফার্মেসী’ ভেঙ্গে দেওয়ায় বিপাকে শিশু রোগীর মায়েরা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৪ পিএম, ২৭ মে ২০১৯ সোমবার

‘রণজিৎ ফার্মেসী’ ভেঙ্গে দেওয়ায় বিপাকে শিশু রোগীর মায়েরা

ঠান্ডাজ্বরে আক্রান্ত অসুস্থ মেয়কে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ২৭ মে সোমবার সকাল ৯টায় রণজিৎ ফার্মেসীতে আসেন আয়েশা বেগম। তবে ফার্মেসীর বর্তমান অবস্থা দেখে হতভম্ব হয়ে পরেন তিনি। ফার্মেসীর অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছেন না। সব কিছু ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ শিশুকে নিয়ে কোথা যাবেন তা নিয়ে চিন্তায় মাথায় হাত দিয়ে সেখানেই বসে পড়েন। আয়েশা বেগমের মত আরো অনেকেই চিকিৎসা নিতে এসে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গরীব রোগীদের সবসময় সহায়তা করতেন রণজিৎ মোদক। কেউ অসুস্থ রোগী নিয়ে আসলে নিজ উদ্যোগে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতেন। অসহায়দের থেকে টাকা কম রাখার জন্য ডাক্তারের কাছে সব সময় অনুরোধ করেন। তাই ফতুল্লা রেল লাইন, ফতুল্লা পোষ্ট অফিস, লালপুর, দাপা, পানগাও এলাকার নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তসহ সব শ্রেনির মানুষের পছন্দের জায়গা হচ্ছে ‘রণজিৎ ফার্মেসী’।

২৬ মে রোববার দুপুরে ফতল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সংবাদিক, কলামিস্ট ষাটোর্ধ্ব রণজিৎ মোদকের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফতুল্লার ডিআইটি মাঠ এলাকার ওষুধের দোকান ‘রণজিৎ ফার্মেসী’ ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা।

ভুক্তভোগী আয়েশা বেগম বলেন, মেয়ের বয়স মাত্র দুই বছর। জন্মের পর থেকে যে কোনো সমস্যা হলেই এখানে নিয়ে আসতাম। তিনি কম খরচে দেখাতে নিয়ে যেতেন। রোগের ধরন অনুযায়ী তিনি পরামর্শ দিতেন কোথায় গেলে ভালো হবে। অনেক সময় তিনি সাথে করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতেন। টাকা পয়সা না থাকলে তিনি ডাক্তারের পরামর্শে বিনামূল্যে ওষুধ দিতেন। তাই বাচ্চাদের অসুখ নিয়ে কখনই চিন্তা করতে হতো না। কিন্তু ফার্মেসী ভেঙ্গে দেওয়ায় আমরা অনেক বিপাকে পরেছি। বাচ্চাকে নিয়ে কোথায় যাব কিছুই বুঝতেছি না। ফার্মেসী ভেঙ্গে দেওয়া ঠিক হয় নাই।

আয়েশা বেগমের মত অসংখ্য মানুষ রোগী নিয়ে এসেছেন। ফার্মেসী ভাঙ্গা দেখে সবাই হতবাক হয়ে পড়েন। কোনো উপায় না পেয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া ফার্মেসীর সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন সবাই। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হলেও রণজিৎ মোদক আসেন না। এরপর বাধ্য হয়ে রোগরি স্বজনরা ফোন করে ডেকে আনেন রণজিৎ মোদককে। আকুতি মিনতি করে অনুরোধ করেন যাতে যে কোনো ব্যবস্থা করে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

ভুক্তভোগী খালেক মিয়া বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা বাচ্চাটাকে নিয়ে দাঁড়ায়া আছি। কিন্তু রণজিৎ সাহেব আসেন নাই। এসেই বা কি করবেন সবকিছুতো ভেঙ্গেই দেওয়া হয়েছে। কোনো উপায়ান্ত না পেয়ে আমরা সবাই মিলে রণজিৎ সাহেবকে ফোন দেই। এবং অনুরোধ করি যাতে যে কোনো ব্যবস্থা করে হলেও আমাদের রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

সময় রণজিৎ মোদক নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমার জীবনের শেষ সম্বলই ছিল এ দোকান। শিক্ষকতা করে টাকা জমিয়ে এ দোকান দিয়েছিলাম। দোকান ভেঙ্গে দেওয়ায় আমি সংসার কিভাবে চালাবো এই চিন্তায় ভেঙ্গে পড়েছি। সকালে রোগীর স্বজনরা যখন ফোন দেয় তখন তাদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এখানে এসেছি। এসে দেখি অসংখ্য রোগী ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া ফার্মেসীর সামনে অপেক্ষা করেছন।

তাঁদের ভোগান্তি দেখে আমি ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্যদের সাথে কথা বলি। সবার পরামর্শ নিয়ে রিপোর্টার্স ক্লাবেই অস্থায়ী ভাবে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও