হাসপাতালে ‘সেবা’ ছাড়া সব আছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৮ পিএম, ২১ জুন ২০১৯ শুক্রবার

হাসপাতালে ‘সেবা’ ছাড়া সব আছে

নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স সহ পরীক্ষা নিরিক্ষার উন্নত মেশিনারিজ সবই রয়েছে কিন্তু রোগিরা সেবা পাচ্ছেনা। চিকিৎসকরা  অফিস চলাকালীন বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে রোগী দেখেন। এমনকি হাসপাতাল থেকে ওষুধ সরবরাহ না করে অন্যত্র থেকে সংগ্রহ করতে বাধ্য করেন। রোগ নির্ণয়ক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে দালালদের মধ্যেমে পরীক্ষা নিরিক্ষা করা সহ নানা অভিযোগ ও অনিয়মের মহামরিতে ধুঁকছে হাসপাতালটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাপাতালে প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা অনুমোদিত পদে সংখ্যা ৫১ জন জনবল রয়েছেন। ৪৪ শূন্যপদে রয়েছে ৭, এছাড়া চিকিৎসক সংযুক্ত রয়েছে ৮ জন, ২য় শ্রেনীর কর্মকর্তা অনুমোদিত পদে সংখ্যা ১৯৮ জনের মধ্যে জনবল রয়েছে ১৮০ জন। শূন পদে রয়েছেন ১৮। ৩য় শ্রেনীর  কর্মচারী অনুমোদিত পদে সংখ্যা  ৫০ জন কিন্তুজনবল রয়েছেন ৪২ জন। ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী অনুমোদিত পদে সংখ্যা ১৩৯ জন জনবল রয়েছেন। ৯৯ জন শূন পদে রয়েছেন ৪০ জন। মোট হাসপাতালে ১ম শ্রেনীর কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী জনবল  রয়েছেন ৩৭৩ জন ।

রোগীদের অভিযোগে জানা যায়, হাসপাতাল থেকে ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও তা করা হয় না। কর্তব্যরত নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের যোগসাজসে রোগীদেরকে দিয়ে বাহির থেকে কৌশলে ওষুধ কেনানো হয়।

এছাড়া জরুরি বিভাগে যেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকার কথা সেখানে ব্রাদার বা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিরাই জরুরী বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। আর চিকিৎসক থাকেন বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ও প্রাইভেট হাসপাতালে। কোনো গুরুতর রোগী এলে ফোন দিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারদের ডেকে আনেন কর্মচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জে যতগুলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতাল রয়েছে প্রত্যেকটি হাসপাতালের ২-১ জন করে বিশেষ প্রতিনিধি ডাক্তারের চেম্বারের সামনে ঘুরাঘুরি করেন। তারা ডাক্তারদের বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় অফার দিয়ে রোগীদের তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠাতে বলেন। অভিযোগ রয়েছে প্রত্যেক ডাক্তার তাদের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতালে চুক্তিবদ্ধ থাকেন।

হাসপাতালে ভর্তি মরিয়ম নামের এক রোগী জানান, গাইনী সমস্যা নিয়ে এখানে এসেছি। ডাক্তার মাঝে মধ্যে আসলেও নার্স আসে না বললেই চলে। নার্সরা কয়েকজন একত্রিত হয়ে এক সাথে হয়ে খোশগল্পে সবসময় ব্যস্ত থাকে। কোন প্রয়োজনে তাদের ডাকলেও আসে না। কিছু বলাও যায় না। এ নিয়ে কিছু বললে তারা উল্টো ধমক দিয়ে রোগীদের শাসায়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. আবু জাহের বলেন, হাসপাতাল দালালমুক্ত করার জন্য স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়া দালাল মুক্ত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে আলাপ হয়েছে। তারা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের বিতারিত করা হবে বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, কতিপয় কয়েকজন ডাক্তার যে অনিয়ম করছেন তা সত্য। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া নার্সের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও