খানপুর হাসপাতের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে তত্ত্বাবধায়কের ফাঁকা বুলি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৬ পিএম, ২৭ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার

খানপুর হাসপাতের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে তত্ত্বাবধায়কের ফাঁকা বুলি

নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল হচ্ছে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। নারায়ণগঞ্জের আপামর জনতা যে কোনো সমস্যায় এই হাসপাতালেই ছুটে আসেন। যদিও কোন সময়ই এই হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি নারায়ণগঞ্জবাসী। হাসপাতালের ডাক্তারদের থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। তবে এত অভিযোগের মাঝেও আশার বাণী শুনিয়েছিলেন খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু জাহের। তিনি যোগদান করেই স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সেই আশ্বাস অবশেষে ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে। বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

জানা যায়, ডা. আবু জাহের গত ১০ এপ্রিল খানপুর ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগেও তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় অত্যন্ত দক্ষতার সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে যোগদানের পরপরই গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ডা. আবু জাহের হাসপাতালের দৃশ্যপট পরিবর্তন এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সাথে হাসপাতালের চারপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সহ নতুনভাবে সাজিয়েও ছিলেন তিনি।

ডা. আবু জাহের বলেছিলেন, আমি স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিতে কাজ করতে চাই। এই হাসপাতালে এসে কেউ যেন পুরোপুরি স্বাস্থ্যসেবা না নিয়ে চলে যেতে না হয় সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করে যাবো। বর্তমানে বাংলাদেশের চিকিৎসা এখন বিশ্বামানের। দিন দিন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত হচ্ছে। তার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও বজায় রাখতে চাই। এর আগে কি হয়েছে, তা আমি জানি না এবং জানতেও চাই না। আমি খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সার্বিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেছিলেন, আমি হাসপাতালে যোগদানের পরপরই জানতে পারলাম যে এখানে দালালদের তৎপরতা রয়েছে। তাই হাসপাতালে দালাল প্রতিরোধে কাজ করবো। আমি প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি, দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে হাসপাতালের যারা ডাক্তার রয়েছেন তাদেরকেও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের সেবা দানের ক্ষেত্রে ডাক্তারদের কোন গাফলতি থাকলে সেটা মেনে নেয়া হবে না।

কিন্তু গত ৩ মাসের মাথায় এসে ডা. আবু জাহেরের সেইসব প্রতিশ্রুতি ফাঁকা বুলিতে পরিণত হলো। হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা সেই আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছে। সেই সাথে দালালদের উৎপাতও কমে আসেনি।

সর্বশেষ গত ২৬ জুন বুধবার নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিজের ছেলের চিকিৎসা করাতে এসে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন দৈনিক যুগান্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি রাজু আহমেদ। পা কেটে রক্ত পড়া অবস্থায় ছেলেকে নিয়ে ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসেছিলেন। ৩০ মিনিট অসহায়ের মত জরুরি বিভাগে অপেক্ষা করেও তিনি ডাক্তারের দেখা পাননি। অসহায় হয়ে বারবার ডাক্তারের জন্য আকুতি মিনতি করেও ডাক্তারের কাছে আনতে পারেননি। এদিকে ছেলের পা দিয়ে রক্ত পড়তে পড়তে অজ্ঞান হবার উপক্রম। কোন উপায়ান্ত না পেয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা করাতে হয় তাকে।

এদিকে সকাল থেকে শুরু করে রাত অবধি নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চারপাশে দালালদের দৌরাত্ম্য থাকে। অনেক সময় রোগীদেরকে জোড় করেই তাদের হাসপাতালে ভীড়ায়। আর এসব দালালদেরকে মাসোহারার বিনিময়ে সহযোগীতা করে থাকেন ডাক্তার সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে দালালদের কেউ কিছু বললে উল্টো তাদেরকে হুমকির সম্মুখীন হতে হয়।

এর আগে ২০১৮ সালের ২০ জানুয়ালী ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল পরিদর্শন করেন ঢাকার মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ডা. মোঃ খলিলুর রহমান। ওই সময়ে তিনি হাসপাতালের জরুরী বিভাগ, প্যাথলজী বিভাগ, এক্সরে ও ইসিজি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, ব্ল্যাড ব্যাংকসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের জরুরী বিভাগ পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী অনেক ভদ্র বিধায় জরুরী বিভাগের ইট খুলে নেয়নি। নয়তো জরুরী বিভাগের যে অবস্থা তাতে এখানে অবকাঠামো ঠিক থাকার কথা নয়।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও