৩০০ শয্যায় বাড়ছে রোগী, ফ্যান সংকটে দুর্ভোগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৫ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

৩০০ শয্যায় বাড়ছে রোগী, ফ্যান সংকটে দুর্ভোগ

‘এক সপ্তাহ ধরে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছে শিশু সোহেল রানা। স্থানীয় ডাক্তার দেখানোর পরও যখন সেরে উঠছিল না তখন বাধ্য হয়ে ফতুল্লা থেকে সন্তানকে নিয়ে মা রমিজা বেগম শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য আসেন। কিন্তু ডাক্তার দেখানোর জন্য নিয়ম অনুসারে সিরিয়াল ধরে টিকেট কিনতে গিয়ে ভ্যাপসা গরমে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা হাসপাতালে বাইরে বসে থাকেন। শুধু রমিজা বেগম নয় এমন অসংখ্য রোগী হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসে অসুস্থ হয়ে ফ্লোরে বসে থাকেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। বরং এ বিষয়ে বক্তব্য দিতেও অস্বস্তি বোধ করেন।

২৭ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের বর্হিবিভাগে গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য। যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েক শতাধিক নারী পুরুষ। যাদের অনেকের কোলে শিশুও ছিল। আবার অনেকে বয়োবৃদ্ধ। টিকেট কাউন্টারের সামনে দুটি বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরলেও তা এতো মানুষের জন্য পর্যাপ্ত নয়। কারণ লাইন কাউন্টার ছাড়িয়ে কয়েক ভাগ হয়ে যায়। ফলে এতো বড় লাইনের চার ভাগের তিন ভাগই ফ্যান ছাড়া গরমের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে করে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন রোগী ও তার স্বজনেরা।

কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এ দুর্ভোগের মধ্যে সেবা নিতে লাইনে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর একই দৃশ্য হাসপাতালের টিকেট কাউন্টার থেকে ডাক্তাদের চেম্বারের সামনেও।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ শতাধিক মানুষ বিভিন্ন রোগের সেবার জন্য হাসপাতালে আসেন। যার মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি। এসব রোগীদের সকাল ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত টিকেট কাউন্টার থেকে টিকেট কিনে ডাক্তার দেখাতে হয়। আর এসব রোগীদের জন্য হাসপাতালের কাউন্টারের সামনে ও দ্বিতীয় তলায় মাত্র ১২টি ফ্যান রয়েছে। নেই পর্যাপ্ত বসার আসনও।

হালিমা বেগম বলেন, ‘‘এক ঘণ্টা টিকেট কিনতে আরেক ঘণ্টা শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর জন্য দাঁড়িয়ে আছি। অসহনীয় গরম। বাচ্চাটা গরমে কান্না করছে। লাইন ছেড়ে গেলে অন্যজন দাঁড়িয়ে যাবে। তখন আরো দেরি হয়ে যাবে তাই কষ্ট হলেও দাঁড়িয়ে আছি।’’

তিনি বলেন, এখানে অনেক রোগীর সঙ্গে স্বজনেরাও গরমে অস্থির হয়ে উঠে। কিন্তু হাসপাতালের কেউ এ বিষয়ে কর্ণপাতও করে না। কথা বলতে গেলে উল্টো বলে, আসেন কেন সরকারি হাসপাতালে? বেসরকারি হাসপাতালে যান ফ্যান এসি সব আছে। এসব কথা শোনে কে আর কথা বলবে। এখানে বেশি রোগী আসুক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেটা চায় না। তারা চায় হাসপাতালে রোগী না এসে তাদের চেম্বারে যাক। তাহলে তারা বেশি টাকা পাবে। মানুষের প্রতি তাদের মায়া দয়া নেই বললেই চলে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক নার্স বলেন, ১২টা ফ্যান চলে। কিন্তু এগুলো প্রায় সময় নষ্ট হয়ে থাকে। সেটাই অনেক বলে কয়ে ঠিক করাতে হয়। এখন আবার নতুন ফ্যান কে লাগবে। আমরাই যখন রোগীদের কষ্ট দেখে স্যারকে (তত্ত্বাবধায়ক) বলি তখন তিনি বলে বরাদ্দ কই? ফ্যান যে লাগবো। তাছাড়া অনেক কথাও শোনতে হয়। আমাদের কিছু করার নেই পরিচালনা কমিটিরাই যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে সম্ভব হবে। মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

এ বিষয়ে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু জাহেরের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও