নারায়ণগঞ্জবাসীর হাসপাতাল ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর ফাঁদে আটকে গেছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩২ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার

নারায়ণগঞ্জবাসীর হাসপাতাল ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর ফাঁদে আটকে গেছে

‘সদ্য গ্রেফতারকৃত টেন্ডার মুঘল খ্যাত যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ঠিকাদার জিকে শামীম ইস্যুতে অশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করণ প্রকল্পের কাজ‘ নিউজ নারায়ণগঞ্জে এ সংক্রান্ত খবর আপলোডের পর বক্তব্য এসেছে এমপি সেলিম ওসমানের কাছ থেকে।

৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের সস্তাপুর এলাকায় অবস্থিত নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে ৯টি জাতীয় ভিত্তিক ও ৩৫টি জেলা ভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির ভাষণ দেন সেলিম ওসমান।

নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ পরিচালনা পর্ষদ (২০১৯-২০২১) নির্বাচনে টানা পঞ্চম বারের মত সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় এমপি সেলিম ওসমান ও পর্ষদের নেতৃবৃন্দদের উক্ত সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

খানপুর ৫০০ শয্যা হাসপাতালের ব্যাপারে ওই সময়ে সেলিম ওসমান বলেন, আমি অনেক পরিশ্রম করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাছ থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে খানপুর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা এবং মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করতে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলাম। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে কাজ শুরু হয়ে ছিল। আজকে একটি অনলাইন পত্রিকায় দেখলাম আমার নারায়ণগঞ্জবাসীর হাসপাতাল ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর ফাঁদে আটকে গেছে। আমি সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ রাখবো আপনারা এই বিষয়টি আরো গুরুত্ব সহকারে প্রচার করেন। যাতে বিষয়টি উপর মহল পর্যন্ত পৌছায়। একজন ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর জন্য নারায়ণগঞ্জের মানুষ বঞ্চিত হতে পারেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে জাপানের অর্থায়ন ও প্রযুক্তিতে নির্মিত হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ দুই’শ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল। এর পর সেটি বর্তমান সরকারের প্রথমদিকে ২০১৩ সালে তিনশ শয্যায় উন্নীত হয়। তিনশ শয্যায় উন্নীত হলেও দুই’শ শয্যার জনবল দিয়েই এতো দিন চলানো হয়েছে চিকিৎসা সেবা। এছাড়াও হাসপাতালে বর্তমানে বেড সংখ্যা রয়েছে ২৭১টি। তবে ২০১৭ সালের ২১ মার্চ একনেকের বৈঠকে খানপুর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করতে ৯০ কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২১ মার্চ একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা হাসপাতালে রূপান্তরিত করণে আধুনিক ১৫ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজের অনুমোদন দেন। প্রথম ধাপে ১৫ তলা ফাউন্ডেশনে ভবনটি ৭তলা পর্যন্ত নির্মিত হবে। যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা। পরে হাসপাতালের উন্নয়নে ৭ তলা ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। ২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে সরকারী অর্থায়নে শুরু হয়। নতুন ভবনের সঙ্গে সেবায় যুক্ত হবে রেডিওলজি, আইসিইউ, কার্ডিওলজি ও বার্ন ইউনিট। নির্মিত হতে যাওয়া নতুন ৭ তলা ভবনের নিচতলায় থাকবে গাড়ি পার্কিং, জরুরি বিভাগ, রেডিওলজি এবং সার্ভিস ব্লক, দ্বিতীয় তলায় কনসালন্টেন্ট প্যাথলজি, তৃতীয় তলায় প্রশাসনিক কার্যালয় ও প্যাথলজি, চতুর্থ তলায় অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউ, পঞ্চম তলায় কার্ডিওলজি ইউনিট, যষ্ঠ ও সপ্তম তলায় রোগীদের ওয়ার্ড, কেবিন, চিকিৎসকদের কক্ষ। এছাড়াও থাকবে মুমুর্ষ রোগী ও সাধারণ রোগীদের ব্যবহারের জন্য পৃথক লিফট। দ্বিতীয় ধাপে ভবনটি বাকি অংশ নির্মিত হলে সেখানে আরো অন্যান্য বিভাগ চালু করা হবে।

এদিকে নির্মাণ কাজ শুরুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি হাসপাতালটির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। পাইলিং এর কাজ শেষ হলেও অদ্যাবধি অবকাঠামো নির্মাণ শুরুই হয়নি।

এই ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা হাসপাতালে রূপান্তরিত করণ প্রকল্পটি কাগজে কলমে পেয়েছে ঢালি কনস্ট্রাকশনের মালিক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। তবে তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন বর্তমানের আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীম। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ১৩ শতাংশ।

যে কারণে প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ জিকে শামীমের গণপূর্তের যে ১২টি প্রকল্পের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে এই নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা হাসপাতালে রূপান্তরিত করণ প্রকল্পটিও রয়েছে। প্রকল্পটির কাজ এক বছরের অধিক সময় পূর্বে শুরু হলেও নির্মাণ কাজ চলেছে অনেক ধীরগতিতে। যে কারণে হাসপাতালটির কর্মকর্তা কর্মচারী ও রোগীদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। এছাড়া বিগত দিনে ঠিকাদার জিকে শামীমের দাপটে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন হাসপাতালের সুপারকেও ঠিকমতো পাত্তা দিত না।

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ডা. আবু জাহের জানান, সাধারণত যেকোন প্রকল্পের পরিচালক সাধারণত ওই বিভাগের একজন কর্মকর্তা থাকেন। তবে আমাদের এই হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রকল্প পরিচালক গণপূর্তের প্রকৌশলী। যে কারণে আমাদের সঙ্গে প্রকল্পের ঠিকাদারের সমন্বয় খুবই কম। এই প্রকল্পটি ঢালি কনস্ট্রাকশনের রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন। তবে তার সঙ্গে জিকে শামীমের কোন সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ খুবই মন্থর গতিতে চলছে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে কিনা সেটা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় আছি। আর জিকে শামীমের কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেলে রোগীরা অনেক দুর্ভোগে পড়বে।

নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা হাসপাতালে রূপান্তরিত করণ প্রকল্পটির মূল ঠিকাদার ঢালি কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। জিকে শামীমের জেকেবি কনস্ট্রাকশন ছিল সহযোগী লিফট পার্টনার। আমরা এ বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকারকে অবহিত করেছি। এখন সরকার যেটা সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। প্রকল্পের ধীরগতির বিষয়ে তিনি জানান, প্রকল্পটির নকশার কিছুটা পরিবর্তন করতে হয়েছে। প্রকল্পে একটি র‌্যাম্প ছিল। কিন্তু জায়গার সঙ্কটের কারণে র‌্যাম্প দেয়া যাচ্ছিলনা। যে কারণে র‌্যাম্প চেঞ্জ করে সেটার স্থলে ৮টি লিফট লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারী সিদ্ধান্ত হলে শীঘ্রই ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও