পাম্প নষ্টে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল কারবালা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১২:২১ এএম, ২ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

পাম্প নষ্টে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল কারবালা

বলা হয়ে থাকে পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া এক মুহূর্তও চলা খুবই দুস্কর। বিশেষ করে হাসপাতাল সহ কয়েকটি জায়গায় পানি কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা বলার অপেক্ষায় রাখে না। সেই জায়গায় যদি পূর্ণ একদিন পানি না থাকে তাহলে কি অবস্থা হতে পারে সেটা সহজেয় অনুমেয়। কারাবালার চেয়ে কোন অংশেও কম হবে না সেই হাসপাতাল। তেমনিভাবে পানির অভাবে কারাবালাতে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল।

শুক্রবার ১ নভেম্বর সকাল হতেই পুরো হাসপাতাল জুড়েই পানির জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়। সেখানে স্থাপিত পাম্প বিকল হওয়ার কারণে এ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। ফলে রোগী ও রোগীর সাথে থাকা স্বজনদের সৃষ্টি হয় অসহনীয় ভোগান্তি। অথচ এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই।

শুক্রবার রাতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের প্রায় প্রত্যেকটি বেডই পূর্ণ রয়েছে রোগীদের দ্বারা। সেই সাথে একেক জনের সাথে তিন থেকে ৪ জনের মতো আত্মীয় স্বজন রয়েছে। যারা নিয়মিত যাতায়াত করছেন। কিন্তু শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকেই খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের পানি নেই। ফলে রোগী ও রোগীর স্বজনদের সৃষ্টি হয় সীমাহীন ভোগান্তি। তাদের প্রকৃতির কাজ করা থেকে শুরু করে সবকিছুই বন্ধ হয়ে যায়। কেউ কেউ বাহির থেকে বোতল কিনে নিয়ে এসে প্রকৃতির কাজ সাড়ছেন। আবার কেউ কয়েক কিলোমিটার দূূরে বাসা থেকে প্রকৃতির ডাকের কাজ সেরে এসে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ইমরান হোসেন নামে এক রোগী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমি বুকের ব্যাথার কারণে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছিলাম। সকাল থেকেই হাসপাতালে পানি নাই। আমাদের খুবই কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে। হাসপাতালের লোকদের জিজ্ঞাসা করা তারা বলে পানির মোটর নাকি নষ্ট হয়ে গেছে। শনিবারের আগে নাকি ঠিক হবে না। নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি বড় হাসাপাতাল হচ্ছে এই হাসপাতাল। আর এখানে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আমরা কোথায় যাবো। দোয়া করি কাউকে যেন চিকিংসা নিতে হাসপাতালে না আসতে হয়।

একই কথা বলেন নূরে আলম একজন। তিনি তার বাবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। তার বাবা প্রশ্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তাই হাসপাতালে গত কয়েকদিন ভর্তি হয়ে রয়েছেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, বাবার এই অবস্থায় হাসপাতালে পানি নাই। আমাদের কি পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সেটা বলে বোঝানো মতো না। সকাল থেকে হাসপাতালে পানি নাই, অথচ এ ব্যপারে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার সকাল থেকে হাসপাতালের মোটর নষ্ট হয়ে গেছে। তাই পানি নাই। সকালের আগে আর ঠিক হবে না। কর্মকর্তারা আসলে মোটর ঠিক হবে তারপর পানি আসবে।

খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু জাহেরের কথা বলতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় শুনার সাথে সাথেই বলেন, সকালে আসেন কথা বলবো বসে লাইনটি কেটে দেন।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল হচ্ছে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। নারায়ণগঞ্জের আপামর জনতা যে কোনো সমস্যায় এই হাসপাতালেই ছুটে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোন বিকল্প রাস্তা নেই। আর সেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগী ও রোগীর স্বজনদের সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হয়।  হাসপাতালের ডাক্তারদের থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। তবে এত অভিযোগের মাঝেও আশার বাণী শুনিয়েছিলেন খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু জাহের। তিনি যোগদান করেই স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সেই আশ্বাস অবশেষে ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে। বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও