৩০০ শয্যায় এবার ‘স্টাফ’ বাণিজ্য

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার

৩০০ শয্যায় এবার ‘স্টাফ’ বাণিজ্য

নারায়ণগঞ্জের মধ্যবিত্ত নি¤œবিত্ত মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য ভরসার একমাত্র জায়গা হচ্ছে খানপুর ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। হাসপাতালটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অভিযোগের শেষ নেই। এত কিছুর পরেও প্রতিদিন অসংখ্য রোগী অর্থের অভাবে শেষ আশ্রয় হিসেবে এখানেই আসেন চিকিৎসা নিতে। কিন্তু এতসব ভোগান্তির মাঝে নতুন করে হাসপাতালে যুক্ত হয়েছে ‘স্টাফ’ বাণিজ্য।

নিজেকে হাসপাতালের স্টাফ কিংবা স্টাফের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে লম্বা সারি ডিঙিয়ে চলে যাচ্ছে ডাক্তারের রুমে। এতে করে অন্যান্য রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ডাক্তার দেখাতে হচ্ছে। সম্প্রতি এই ‘স্টাফ’ বানিজ্য অত্যাধিক হারে বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া একাধীক রোগী।

সম্প্রতি রেজমিনে হাসপাতালে ঘুরে পাওয়া গেছে এই অভিযোগের সত্যতা। হাসপাতালটিতে একসময় নারী-পুরুষের টিকিট কাউন্টার এক সাথেই পাশাপাশি ছিল। যে কারণে রোগীদের একটি টিকিট সংগ্রহ করতেই দাঁড়িয়ে থাকতে হতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কাউন্টারে বসা কর্মীদের যোগসাজসে টিকিট কালোবাজারি করতো একটি চক্র। তাঁরা রোগীর অবস্থা অনুসারে ৫০ থেকে ১০০টাকার বিনিময়ে মিনিটেই টিকিট সংগ্রহ করে দিতো। আর একারণে টিকিট সংগ্রহ করতেই ঘণ্টা পেরিয়ে যেতো অন্যান্য রোগীদের। এভাবেই অসদুপায়ে রোগীদের জিম্মি করে পকেট ভারি করেছে হাসপাতালের কিছু স্টাফ ও দালাল চক্র।

কিন্তু সম্প্রতি নারী-পুরুষের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার করায় এই জটলা একেবারে কমে গেছে। এতে করে বন্ধ হয়ে গেছে টিকিট কালোবাজারি। এরই সাথে বন্ধ হয়ে গেছে টিকিট কালোবাজারির সাথে যুক্ত স্টাফ ও দালালদের আয়। কিন্তু এখন টিকিট কাউন্টারের সামনে জটলা না লাগলেও বড় ধরণের সিরিয়াল তৈরী হচ্ছে ডাক্তারের রুমের সামনে। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে এসব দালালরা। হাসপতালের কিছু স্টাফের সাথে যোগসাজসে নিজেদেরকে হাসপাতালের স্টাফ অথবা স্টাফের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে টাকার বিনিময়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে আগেই ডাক্তারের রুমে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আর এজন্য নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০টাকা। অপরদিকে আগের মতই অন্যান্য রোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ডাক্তারের রুমের সামনে লম্বা সিরিয়ালে।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গোলাম রোমানীয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমার সামনে হয়তো ২০-৩০ জন ছিল। যদি ৫মিনিটে একজন করে রোগী দেখে তাহলেও তো আমার সামনে আগানোর কথা। কিন্তু দেড় ঘণ্টা আগে যেখানে দাঁড়াইছিলাম দেড় ঘণ্টা পরেও দেখি সেখানেই আছি। বাধ্য হয়ে সামনে যাই কি সমস্যা দেখার জন্য। সেখানে গিয়ে দেখি এক লোক পাঁচজন করে টিকিট উঠায় আর তাদেরকে ভিতরে ঢুকতে দেয়। কিন্তু লাইনের বাইরে থেকেও টিকিট নিচ্ছে। যে কারণে লাইন সামনে আগায় না। প্রতিবাদ করলে বলে যে তাঁরা নাকি স্টাফ। তাই তাদেরটা আগে নেওয়া হইছে। এত মানুষ স্টাফ হয় কিভাবে প্রশ্ন করলে তাঁরা বলে যে, স্টাফ আছে আবার স্টাফের আত্মীয় আছে। তাদেরকে তো আর না করতে পারি না। হাসপাতালের নিয়ম এইটা। স্টাফ এবং স্টাফদের আত্মীয়দরকে আগে সুযোগ দিতে হয়।

অপর ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘এখানে কি পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে আজ নিজের চোখে দেখলাম। এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সিরিয়াল পাই না। ছোট মেয়েকে নিয়ে আসছি ও বিরক্ত হচ্ছিল। বাধ্য হয়ে সামনে গিয়ে দেখি টাকা নিয়ে আগে ঢুকতেছে। তাঁদের সাথে কথা বলে ১৫০ টাকা দিয়ে আমিও আগে ঢুকে মেয়েকে দেখাই।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা গরিব মানুষ তাই এখানে চিকিৎসা করাই। তারপরেও তাদেরকে টাকা দিয়েই চিকিৎসা নিতে হয়। এই টাকা যদি সরকার নিতো তাও একটা কথা ছিল। কিন্তু টাকা নেয় দালালেরা। এত বড় বড় নেতা নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু আমাদের দিকে তাঁদের তাকানোর সময় নাই। । গরিবরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে সীট থাকে না। ওষুধ নিতে গেলে অষুধ থাকে না। সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে গেলে বলে মেশিন নষ্ট। সব জায়গাতেই যত ভোগান্তি সব গরিবদের।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু জাহেরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও