জেলখানায় আসামীর থেকেও অবহেলিত ৩০০ শয্যার রোগীরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৮ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার

জেলখানায় আসামীর থেকেও অবহেলিত ৩০০ শয্যার রোগীরা

নারায়ণগঞ্জে খানপুরে অবস্থিত ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নামমাত্র মূল্যে অত্যাধুনিক সব চিকিৎসা সেবা পাওয়ার কথা। অথচ অপরাধ করে জেলখানায় বন্দি আসামীদের থেকেও বেশি অবহেলিত এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। দালালের উৎপাত, স্টাফ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে যেমন ব্যর্থ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তেমনি ন্যূনতম সেবা সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানি সরবরাহ করতেও ব্যর্থ তাঁরা।

হাসপাতালটিতে থাকা দুটি জেনারেটর নষ্ট। যে কারণে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) থেকে আসা বৈদ্যুতিক সংযোগে কোন সমস্যা হলে অন্ধকার নেমে আসে হাসপাতালটিতে। জেনারেটর না থাকায় অন্ধকারেই থাকতে হয় রোগীদের। জরুরি বিভাগ ও বহিঃবিভাগ অন্ধকারেই খোলা থাকলেও অপারেশন ও পরীক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্ধ থাকে। এমন অবস্থায় অসুস্থ রোগীদের বিদ্যুতের অপেক্ষা কাতরাতে হয় অন্ধকার বেডে।

গত ২৩ নভেম্বর ডিপিডিসির পূর্বঘোষিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী খাঁনপুর এবং পঞ্চবটি বিসিক ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সমিটার, আউটডোর/ইনডোর সার্কিট ব্রেকার, বাস, সিটি, পিটি প্রভৃতি মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য খানপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকে। যে কারণে হাসপাতালটিতেও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় যথারীতি নেমে আসে অন্ধকার। অন্ধকারে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান থাকলেও বন্ধ ছিল অপারেশন ও পরীক্ষা। দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের অন্ধকার ওয়ার্ডে দিনভর কাতরাতে হয়েছে রোগীদের।

হাসপাতালটিতে পানি সরবরাহের জন্য রয়েছে একটি মাত্র পাম্প। এছাড়া পানি সরবরাহের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে কোনো কারণে হাসপাতালটির একমাত্র পাম্পটি নষ্ট হয়ে গেলে কারবালায় পরিণত হয় হাসপাতালটি। বিকল্প কোন ব্যবস্থা করতেও ব্যর্থ হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত ১ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে পরবর্তি প্রায় ৩০ঘন্টা বন্ধ ছিল হাসপাতালের পানি সরবরাহ। হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, পাম্প নষ্ট হওয়ার কারণে সকাল ৯টা থেকে হাসপাতালে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে। কিন্তু হাসপাতালের রোগীদের ব্যবহারে জন্য তো দূরের কথা খাবার পানির সরবরাহও করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যে কারণে টানা ৩০ঘণ্টা পানিবিহীন ছিল হাসপাতালটি।

অপরদিকে পানি না থাকায় ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও আত্মীয় স্বজনদের। পানি না থাকায় টয়লেটে ব্যবহারের জন্য পানিটুকুও রোগীর সাথে থাকা আত্মীয়দের বাইরে থেকে আনতে হয়েছে। কিন্তু যারা একটু সুস্থ্য ছিলেন তাঁরা অনেকেই বাসায় গিয়ে গোসল সহ প্রয়োজনীয় কাজ করে এসেছিলেন। অথচ এত দুর্ভোগ পোহাতে হলেও বাইরে থেকে পানি সরবরাহের কোন ব্যবস্থাই করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপরন্তু ছুটির দিনের দোহাই দিয়ে পাম্প ঠিক করতে বাড়তি সময় নিয়েছিল তাঁরা।

এমতাবস্থায় হাসপাতালটিকে ৩০০শয্যা থেকে ৫০০শয্যায় উন্নিত করা হলেও সেবার মান কতটুকু বাড়বে এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন নগরবাসী। নগরবাসীর দাবি শুধু শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করে লাভ নেই। রোগীদের সেবার মান উন্নয়ন না করলে বরাবরের মতই রোগীরা প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালের দিকে ছুটতে থাকবে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও