সংবাদের পর ভিক্টোরিয়ার টয়লেটে নতুন দরজা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২১ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার

সংবাদের পর ভিক্টোরিয়ার টয়লেটে নতুন দরজা

সংবাদ প্রকাশের পর ৫দিনের মধ্যে ১০০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের পুরুষ টয়লেটে নতুন দরজা লাগিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। সংবাদ প্রকাশের জন্য ‘দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ’ পত্রিকা ও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী।

৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেদককে ফোন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন একজন রোগী। এসময় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পত্রিকাটির সাফল্য কামনা করেন। এর আগে উক্ত রোগীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ জানুয়ারি সরেজমিনে হাসপাতাল পরির্দশন করে ‘ভিক্টোরিয়ার টয়লেটই যেন রোগাক্রান্ত’ শিরোনামে নারায়ণগঞ্জের পাঠক প্রিয় ‘দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ’ পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রকাশিত সংবাদটি নিম্নরূপ:
নারায়ণগঞ্জের প্রধান দুইটি সরকারি হাসপাতালের একটি হচ্ছে ১০০শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু হাসপাতালটির বহির্বিভাগে পুরুষদের জন্য রয়েছে মাত্র চারটি টয়লেট। আবার দির্ঘদিন ধরেই দুইটি টয়লেটের দরজা নেই। এবং একটি টয়লেট হাসপাতালের স্টাফদের দখলে। বাধ্য হয়ে বিপুল সংখ্যক এই রোগী ও রোগীর সাথে আসা আত্মীয়দের একটিমাত্র টয়লেট দিয়ে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে হচ্ছে।

২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালটিতে সরেজমিনে দেখা যায় বহির্বিভাগে প্রবেশ করে হাতের ডানপাশে ডিসপেনসারির টিকিট কাউন্টারের পাশেই পুরুষদের জন্য চারটি টয়লেট রয়েছে। তবে  এর দুইটির দরজা নেই। একটি হাসপাতালের স্টাফদের ব্যবহারের জন্য আলাদা করে তালা লাগিয়ে রাখা হয়েছে। বাধ্য হয়ে একটি টয়লেটেই প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে যেতে হচ্ছে। কিন্তু যে একটি টয়লেটের দরজা আছে সেটিও নিয়মিত পরিষ্কার না করায় নোংড়া হয়ে পড়ে আছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এই টয়লেট ব্যবহারের ফলে নতুন রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি তৈরী হচ্ছে।

জানা যায়, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ১২০০ থেকে ১৩০০ রোগীর আগমন ঘটে। প্রতিটি রোগীর সাথে আরো এক বা একাধীক আত্মীয় আসে। সব মিলিয়ে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০০মানুষের যাতায়াত। এসব মানুষের অধিকাংশই শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্প কারখানার শ্রমিক। যাদের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ সীমিত। তবে ১০০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতলটিতে নামমাত্র মূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা পাওয়া যায় বিধায় নারায়ণগঞ্জের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের অন্যতম পছন্দের চিকিৎসার স্থান হচ্ছে এটি। কিন্তু বিপুল সংখ্যক এই মানুষের জন্য হাসপাতালটিতে নেই পর্যাপ্ত টয়লেট। ফলে প্রকৃতির ডাকে সারা দেওয়ার সময় হলে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অথবা বাইরে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আসতে হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও আত্মীয় স্বজনের।

হাসপাতালের টয়লেটগুলো ব্যবহারের উপযোগী না থাকায় এগুলো এড়িয়ে চালার কথা উল্লেখ করে শিপন মিয়া সময়ের নারায়ণগঞ্জকে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি রোগ ভালো হওয়ার জন্য। কিন্তু টয়লেটের যে অবস্থা এটা ব্যবহার করলে আরো রোগ হতে পারে। তাই মাঝে মাঝে হাসপাতালে আসলেও টয়লেট ব্যবহার না করার চেষ্টা করি। খুব বেশি প্রয়োজন হলে বাইরে গিয়ে কাজ সেরে আসি।

ভোগান্তি প্রসঙ্গে রাকিব সময়ের নারায়ণগঞ্জকে বলেন, হাসপাতালেও টিকিট কিনতে সিরিয়াল, ডাক্তারের চেম্বারের  সামনে সিরিয়াল। জায়গায় জায়গায় দালালতো আছেই। টয়লেটের দরজা নাই আবার নোংড়া পরিবেশ। কিন্তু গার্মেন্টে কাজ করে যে টাকা বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন কাজ। তাই বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালে আসতে হয়। যে রকম সেবা পাওয়ার কথা সেরকম সেবা আমরা পাচ্ছি না।

এ প্রসঙ্গে ১০০শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান সময়ের নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমি দেখেছি অনেকদিন ধরে দুইটি দরজা ভাঙ্গা। হাসপাতালের যে কোনো মেরামতের কাজ পি.ডব্লিউ.ডি অথবা এইচ.ই.ডি করে। আমরা বেশ কয়েকবার তাঁদের চিঠি দিয়েছি। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে ঠিক করে দিবে।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন সময়ের নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত বিভাগের সাথে কথা বলেছি। তাঁরা মৌখিক ভাবে বলেছে যে দুই দিনের মধ্যেই টয়লেটের দুইটি দরজাই ঠিক করে দিবে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও