স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পঁচাবাসী খাবার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩৫ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পঁচাবাসী খাবার

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবার নিয়ে চলছে নানা অনিয়ম। সরকারী এই হাসপাতালের রোগীদের খাওয়ানো হচ্ছে পঁচাবাসী খাবার। আবার অনেক সময় দেখা যায় হাসপাতাল সকালের নাস্তায় দেয়া হচ্ছে মেয়াদহীন পঁচা ও দুর্গন্ধ যুক্ত রুটি, নষ্ট ডিম ও পঁচা কলা।

রুটির অবস্থা এমন থাকে যে তা হাসপাতালের রোগীদের পক্ষে খাওয়া সম্ভব হয় না। শুধু সকালের নাস্তা নয় দুপুর ও রাতের খাবারে খাওয়ানো হচ্ছে বাসী খাবার। সকালের রান্না করা খাবারই দেওয়া হচ্ছে দুপুরে ও রাতে এবং দুপুর ও রাতে যদি কোন খাবার বেশি হয় তা আবার পরের দিনও পরিবেশন করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি অখিলউদ্দিন বলেন, ‘আমার বয়স প্রায় ৭০ বছর, আমি মুছাপুর থাকি। আমি শ্বাস কষ্টের কারণে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এই হাসপাতাল থেকে আমার বাড়ি অনেক দূরে বিধায় হাসপাতালের খাবারই আমার একমাত্র ভরসা। কিন্তু হাসপাতালের খাবারের মান এতটাই নাজুক যে আমি খেতে পারি না। সকালে দেওয়া রুটির এমন অবস্থা যে দু’জনে টেনে ছিরতে হয়, আর কলা কথা কী বলবো পুরোটাই নষ্ট খাবারের অযোগ্য। হাসপাতাল থেকে দুপুরে যে ভাত দেওয়া হয় তা অনেক শক্ত ও ঠান্ডা থাকে যেন মনে হয় চাউল।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে তরকারী বলতে শুধু থাকে আলু আর আলু আর মাছের টুকরোর এমন অবস্থা যা বলার মতো না আর ডাইল তো আর ডাইল না যেন হলুদ মেশানো পানি। হাসপাতালে সকালের রান্না করা খাবারই দুপুর ও রাতের বেলায় দেয়া হয়। এখন শীতের সময় বিধায় এমনেই অনেক ঠান্ডা আবহাওয়া থাকে এর মধ্যে যদি সকালের রান্না করা খাবার দুপুরে ও রাতে এই খাবার দেয়া হয় তাহলে খাবারের অবস্থা কী থাকে আপনারই ভাল জানেন ?’

হাসপাতালে ভর্তি রোগী আলী হায়দার বলেন, ‘আমি মদনগঞ্জ শান্তি নগর এলাকার বাসিন্দা। এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি গত সপ্তাহে। হাসপাতালের খাবার খুবই নি¤œমানের। আমার বাসা অনেক দূরে তাই তিন বেলা খাবার বাসা থেকে আনা সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতালের পঁচাবাসী খাবারই খেতে হয়। হাসপাতাল থেকে দুপুরে ও রাতে যে খাবার দেয়া হয় তা অনেক ঠান্ডা ও বাসী। অনেক সময় দেখা যায় খাবার হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয় তা পুরোপুরি খাবারের অযোগ্য। হাসপাতালের খাবার রান্নার মানও অনেক খারাপ যেন সবকিছু সিদ্ধ করে রাখে।’

হাসপাতালে রোগীর সাথে আসা মাসুমা বলেন, ‘আমি কলাগাছিয়া থেকে হাসপাতালে রোগী নিয়ে আছি গত সাত-আট দিন ধরে। আমার রোগীর হাপানীসহ ঠান্ডা জনিত রোগ। হাসপাতাল থেকে যে খাবার দেওয়া হয় তা খুবই নি¤œমানের। সকালের নাস্তার রুটি ও কলা একেবারই খাবার অযোগ্য। রুটির অবস্থা এমন যে খেতে হলে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়। আর দুপুর ও রাতের খাবারের ভাত অনেক শক্ত ও ঠান্ডা শীতল থাকে, সেই কারণে রোগীরা তা খেতে পারে না আর আমার রোগীর তো এমনেতেই হাপানীর সমস্যা। অনেকে আবার হাসপাতালের খাবার খেয়ে অসুস্থও হয়ে পরেছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে হাসপাতালে খাবার নিয়ে একটি কমিটি আছে যারা খাবার সরবরাহকারীর সাথে যোগাযোগ করে খাবার প্ররিবেশন করে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও