৩০০ শয্যা হাসপাতাল : অর্ধেক সময়ে শেষ মাত্র ২০ শতাংশ কাজ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৭ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার

৩০০ শয্যা হাসপাতাল : অর্ধেক সময়ে শেষ মাত্র ২০ শতাংশ কাজ

নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নিত করণের জন্য ভবন নির্মাণের কাজে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ধীরগতি। কাজ শুরুর ২৪ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও ১২মাসে শেষ হয়েছে মাত্র ২০শতাংশ কাজ । ফলে প্রকল্প মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিকে বিল্ডার্স ও ঢালি কন্সট্রাকশনকে টেন্ডারের মাধ্যমে ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য ভবন নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার ২৪মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এরই মধ্যে ১২ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পিলার বসানোর কাজই শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের মেয়াদের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও মাত্র ৭০শতাংশ পিলার বসানো হয়েছে। এছাড়া কিছু খোঁড়াখুড়ি কাজ শেষ করা হয়েছে। যা মোট কাজের মাত্র ২০ শতাংশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ভবনরে জন্য অধিকাংশ পিলার বসানো শেষ হয়েছে। হাসপাতালের বর্তমান ওটির পাশে পিলার ফেলে রাখা হয়েছে। এছাড়া ভেকু দিয়ে কিছু কিছু জায়গায় খোঁড়াখুড়ি করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বসানোর পিলার পিলারের জায়গা খুঁড়ে বের করা হচ্ছে। এছাড়া কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ভবন নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। হাসপাতালটির ৫০০ শয্যার জন্য নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হতে আরো সময় লাগতে নির্ধারিত সময়ের চাইতে বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে ঢালি কন্সট্রাকশনের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. শাহজালাল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছিনা। পাইল বসানো জন্য যে জায়গা প্রয়োজন সেই জায়গা ছিল না। জায়গা বের করার জন্য হাসপাতালের গাছ কাটার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমরা চাইলেই গাছ কাটতে পারি না। এর জন্য বনবিভাগের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। তাঁদের ছাড়পত্রের জন্য আমাদের ৬মাস দেরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভবন নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ পিলার বসানো প্রয়োজন এর ৭০ভাগ শেষ হয়েছে। এখন শুধু হাসপাতালের বর্তমান ওটির জায়গায় পিলার বসানোর কাজ বাকি আছে। কিন্তু ওটি স্থানান্তর করা হচ্ছে না। কিছুদিন আগে ওটি স্থানান্তরের জন্য আধাপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো তাঁরা ওটি স্থানান্তর করছে না। যে কারণে আমরাও কাজ করতে পারছি না। ফলে আরো দেরি হচ্ছে।

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়তে পারে জানিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, গাছ কাটার সময় ৬মাস দেরি হয়েছে। এখন ওটির জন্য দেরি হচ্ছে। যে কারণে প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যেই কাজ শেষ নাও হতে পারে। প্রকল্পের মেয়াদ ৬মাস বা আরো কম বেশি সময় বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২১ মার্চ একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা হাসপাতালে রূপান্তরিত করণে আধুনিক ১৫ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজের অনুমোদন দেন। প্রথম ধাপে ১৫ তলা ফাউন্ডেশনে ভবনটি ৭তলা পর্যন্ত নির্মিত হবে। যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩০কোটি টাকা। পরে হাসপাতালের উন্নয়নে ৭ তলা ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।

নতুন ভবনের সঙ্গে সেবায় যুক্ত হবে রেডিওলজি, আইসিইউ, কার্ডিওলজি ও বার্ন ইউনিট। নির্মিত হতে যাওয়া নতুন ৭ তলা ভবনের নিচতলায় থাকবে গাড়ি পার্কিং, জরুরি বিভাগ, রেডিওলজি এবং সার্ভিস ব্লক, দ্বিতীয় তলায় কনসালন্টেন্ট প্যাথলজি, তৃতীয় তলায় প্রশাসনিক কার্যালয় ও প্যাথলজি, চতুর্থ তলায় অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউ, পঞ্চম তলায় কার্ডিওলজি ইউনিট, যষ্ঠ ও সপ্তম তলায় রোগীদের ওয়ার্ড, কেবিন, চিকিৎসকদের কক্ষ। এছাড়াও থাকবে মুমুর্ষ রোগী ও সাধারণ রোগীদের ব্যবহারের জন্য পৃথক লিফট। দ্বিতীয় ধাপে ভবনটি বাকি অংশ নির্মিত হলে সেখানে আরো অন্যান্য বিভাগ চালু করা হবে।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও