ধর্ষিতা নারীর সঙ্গে এক মাসে আগে সমঝোতা করেছিল ডা. আমিনুল!

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০১ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার

ধর্ষিতা নারীর সঙ্গে এক মাসে আগে সমঝোতা করেছিল ডা. আমিনুল!

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা নারীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের নাক, কান গলা বিভাগের রেজিস্টার ডা. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে তখন নিউজ নারায়ণগঞ্জের কাছে একটি ডকুমেন্ট এসেছে যাতে দেখা গেছে ডা: আমিনুল ইসলাম এক মাস পূর্বে ধর্ষিতা ওই নারীর সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন। ৩০০ টাকার একটি স্ট্যাম্প পেপারে আপোষনামায় ডা: আমিনুল ইসলামের নামের স্বাক্ষর ছাড়াও ধর্ষিতা ও তার স্বামীসহ কয়েকজন বিশিষ্টজনের স্বাক্ষরও রয়েছে।

জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারী বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ওই ভুক্তভোগী নারী এ মামলার আবেদন করেন। পরে শুনানী শেষে বিচারক মোঃ শাহীন উদ্দিন তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো ইনভিস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ নিয়েছেন আদালত।এতে অভিযোগ করা হয়, প্রথম দফায় তাকে খানপুর জোড়া পানির টাংকি সংলগ্ন ইউনিক ক্লিনিকে অচেতন করে ধর্ষণের পর সেই ভিডিও ধারণ করে সেটার ভয় দেখিয়ে পরবর্তীকে একাধিকবার চেকআপের নামে ধর্ষণ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ফতুল্লার কাশীপুর এলাকার এক নারী বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে থাইবোয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল। ফলে ওই নারী তার চিকিৎসার জন্য শহরের খানপুরে গ্যাস্ট্রেলিভ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালষ্টেশন সেন্টারে ডাঃ আমিনুল ইসলামের চেম্বারে যান। প্রাথমিক পর্যায়ে ডাঃ আমিনুল ইসলাম ওই নারীকে শারীরিক পরীক্ষার টেস্ট ও কিছু ওষুধপত্র দেন।

ওই নারী ডাঃ আনিনুল ইসলামের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকেন। চিকিৎসার একপর্যায়ে ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই খাঁনপুর জোড়া টাংকি এলাকার ইউনিক ক্লিনিকে ইমার্জেন্সি ইনজেকশন দিয়ে ওই নারীর শরীর অবশ করে ধর্ষণ করে ডাঃ আমিনুল ইসলাম। পরবর্তীতে আরও একবার ওই নারীকে ধর্ষণ করে আমিনুল ইসলাম। এই ঘটনায় থানায় মামলা নিতে না চাইলে ওই নারী আদালতের শরনাপন্ন হন। ইউনিকের মালিক বিকেএমইএ’র সাবেক সহসভাপতি (অর্থ) ও বর্তমান পরিচালক জিএম ফারুক এবং তার ছোট ভাই জিএম মারুফ বলে জানা গেছে।

এদিকে ডা: আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই নারীর ধর্ষণ মামলার আবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে না হতেই নিউজ নারায়ণগঞ্জের কাছে একটি ডকুমেন্ট এসেছে যাতে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারী উভয়পক্ষের মধ্যে আপোষ হয়েছে বলে উভয়পক্ষ স্বাক্ষর করেছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০৮ নিউ চাষাঢ়া জামতলাতে অবস্থিত আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাইউল ইসলাম হাবিব এর মধ্যস্থতায় সমঝোতা বা আপোষনামাটিতে উভয়পক্ষ সাক্ষর করে। এতে ডা: আমিুল ইসলাম ও ধর্ষণের শিকার ওই নারী ছাড়াও আরো ৪ জন স্বাক্ষর দেখতে পাওয়া যায়।

এদিকে ডা: আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার অভিযোগ ওঠার পরে খানপুর হাসপাতাল ও আশেপাশের এলাকায় বইছে বিরূপ সমালোচনার ঝড়। অনেকেই বলছেন ডা: আমিনুল ইসলামের মতো অনেক ডাক্তারের বিরুদ্ধেও এ ধরনের গর্হিত অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের তদ্বিরে অনেক ঘটনাই ধামাচাপা পড়ে যায়। কারণ অভিযোগকারী যে ঘটনাস্থলের কথা উল্লেখ করেছেন তার মালিক দুইজনই নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও