কমেছে রোগীর সংখ্যা, নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা

হাফসা আক্তার, স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১৯ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার

কমেছে রোগীর সংখ্যা, নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় অবস্থিত ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বহিঃবিভাগের প্রবেশ পথে দু’টি আলাদা নোটিশ লাগানো হয়েছে। প্রথম নোটিশটির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ সকল দর্শনার্থীর হাসপাতালে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। এবং দ্বিতীয়টির মাধ্যমে হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহিঃবিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীর আগমন যেন পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

২৪ মার্চ মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ডাক্তাররা সরকার প্রদত্ত পিপিই (পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট) ব্যবস্থা গ্রহণ করে রোগী দেখছেন। তবে যে সকল রোগীরা সেবা নিতে এসেছেন তাদের নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্মীদের। তাছাড়া অভ্যন্তর বিভাগে ভর্তি থাকা রোগীরা ছাড়া কোনো দর্শনার্থীদের দেখা যাচ্ছে না। তবে নির্ভরশীল রোগীদের সাথে শুধুমাত্র একজন দর্শনার্থীকে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যে সামান্য উন্নতি হলেই ছুটি নিয়ে রোগীরা বাড়িতে চলে যাচ্ছে।

এছাড়া জরুরী বিভাগের পাশেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে কোনো রোগীকে সন্দেহ করা হলে তাকে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২ জন নারী এবং ২ জন পুরুষের জন্য মোট ৪টি বেডের ব্যবস্থা রয়েছে এ আইসোলেশন কক্ষগুলোতে। দুটি আলাদা কক্ষ নিয়ে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ সময় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মিনহাজ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের উচিত টেলি মেডিসিনের ব্যবস্থা করা। যে সকল সমস্যা নিয়ে বহিঃবিভাগে রোগীরা আসছেন তার সমাধান অনেকাংশেই ফোনে করা সম্ভব। এতে করে রোগী এব চিকিৎসক দুজনই করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকতে পারবে। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীকে শনাক্ত করার মতো ব্যবস্থা আমাদের নেই। আমরা শুধু সন্দেহ করতে পারি। যে সকল রোগীকে দেখে আমাদের সন্দেহজনক মনে হচ্ছে তাদের আমরা সাথে সাথেই আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। এবং তাদের করণীয় সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করছি।’

শিশু ওয়ার্ডের ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি। কারণ শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো প্রকার ঝুঁকি নেয়া যায়না। এই মুহূর্তে আমাদের ২৬ টি বেডের ১৬টিতে রোগী রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ একজনকে শিশুর সাথে থাকার অনুমতি দিচ্ছি। যেহেতু করো ভাইরাস ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে, সেহেতু অনেক অভিভাবকই শিশুর সামান্য উন্নতি দেখা দিলে সেচ্ছায় বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। আর আমরাও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ডিওআর (ডিসচার্জ অন রিস্ক) দিচ্ছি। অনেকে আবার রিস্ক বন্ডে সই করে নিজের রোগীকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।’

ব্রোঙ্কাইটিজের শিশু রোগী আকৃতির মা শিলা বিশ্বাস প্রতিবেদকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের যেই অবস্থা! সম্ভব হলে বাচ্চাকে বাসায় নিয়ে চিকিৎসা করতাম। কিন্তু ডাক্তার বললো এই পরিস্থিতিতে বাচ্চাকে হাসপাতালে রাখাই বেশি নিরাপদ। তাই মনে ভয় নিয়েও গত ৪দিন ধরে বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালেই আছি। ইতোমধ্যে বাচ্চার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছে। শীঘ্রই ডাক্তার ছুটি দিবে বলেছে।’

এ্যাজমায় আক্রান্ত শিশু সাজিদের মা রুমি বলেন, ‘আমার ছেলে ৬ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিল, তবে আজ চলে যাচ্ছি। তবুও মনে ভয়ংকর আতঙ্ক বিরাজ করছে। আপাতত এ অসুখ থেকে বাঁচলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ছেলেটার জন্য কি অপেক্ষা করছে কে জানে!’


বিভাগ : স্বাস্থ্য


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও