৬ আশ্বিন ১৪২৫, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ

শহরের কলেজগুলোতে নেই ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান!


|| নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৯ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৭ শনিবার


শহরের কলেজগুলোতে নেই ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান!

নারায়ণগঞ্জের ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাস্থান নাই। অনেক ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কমিটি না দিতে পারার পেছনে রাজনৈতিক হেনস্থাকে দায়ি করেছে দলটি। অপরদিকে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের ক্যাম্পাস ভিত্তিক কমিটি থাকলেও তাদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। সব অভিযোগ অস্বউকার করলেও সহাবস্থানের কোন দৃষ্টান্ত দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ। তবে সাবেক ছাত্রনেতারা আশাবাদি এ সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারবে সংগঠনগুলো। হতাশাও ব্যাক্ত করেন কোন কোন ছাত্র নেতা।

মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বলেছেন, সহাবস্থান না থাকায় সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় বেপরোয়া হয়ে গেছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িয়ে যাচ্ছে দলটি। ভর্তি বাণিজ্যেসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন। বর্তমানে নেতৃত্ব সংকটে পড়ছে সংগঠনগুলো। ক্ষমতার বাইরে থাকায় নানা মামলা হামলায় জড়িয়ে ফেলছে আমাদের।

তোলারাম কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও আওয়ামী লীগের মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল হতাশা ব্যাক্ত করে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো দ্রুত কাউন্সিল করলে ক্যাম্পাসে নেতৃত্বে ফিরে আসবে।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, ছাত্র রাজনীতি বিচ্ছিন্ন কিছু না। মুক্ত রাজনীতির সৌন্দর্য গণতন্ত্র। এই ছাত্ররাই জাতীকে নেতৃত্ব দেয়। দুঃখজনক হলেও সত্য দেশে এখন মুক্ত রাজনীতির চর্চা নাই। ছাত্র রাজনীতি রাজনীতিতে শিশু। যখন রাজনীতি কলুষিত হয়ে যায় তখন শিশুরা কীভাবে বেড়ে উঠে।

আবুল কাউসার আশা বলেন, ছাত্রদল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। তখন সহাবস্থান ছিল। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময় ছাত্রলীগ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছে। পোস্টারিং হয়েছে। তারা তখন সহাবস্থানে ছিলেন। অথচ এখন তারা সহাবস্থান মেনে নিচ্ছে না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান নান্নু বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেন যারা তাদের কিভাবে ঢুকতে দিব। এ ক্ষেত্রে আমরা সুযোগ দিতে পারবো না।

জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া আক্তার সেতু বলেন, ছাত্রদলের বন্ধু সহাবস্থান করতে পারছে না, আমরা যারা ছাত্র রাজনীতি করি তারা আমাদের হয়রানি করছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরী করার জন্য যে স্বারকলিপি দিতে যাব তখনি আমাদের উপর হামলা হয়েছে। ভর্তি বাণিজ্যসহ নেয্য দাবির জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে আহত হলাম সেখানে পুলিশ দাড়িয়ে থাকলেও আমাদের সহায়তা করেনি। একক আধিপত্য থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বের করে আনতে না পারলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসবে না বলে মত দেন তিনি।

হামলার যে ঘটনা ঘটেছে তা কলেজের বাইরে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ছাত্র লীগ নেতা নান্নু। তিনি বলেন, পুলিশ সে সময় যাকে এরেস্ট করেছে, তারকাছে পেথেড্রিন নেয়ার সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। এটা লজ্জার কথা। এরোকম দলগুলোকে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে দেয়া হবে না জানান তিনি।

ছাত্র দল নেতা আবুল কাউসার আশা বলেন, যখন ভিন্নমতের কেউ নাই তখন একদল থাকলে আধিপত্য চলে আসে। ভর্তি বাণিজ্য অনলাইন হওয়ার আগে করেছে বলে তার কথায় উঠে আসছে।

ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি জাহিদ সুজন বলেছেন, যে নেতাকে জড়িয়ে মাদকের অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। তার ব্যাগে ছাত্রলীগ মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে এমন অভিযোগ করছে। সেই নেতার মা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। ছাত্রলীগের এহেন কর্মকা-ের তখনো বিরোধীতা করছি। এখনো করছি। তারা কোন সংগঠনকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত বলেছেন,  ছাত্রদের ভুমিকা অস্বিকার করা যাবে না। ক্যাম্পাস ভিত্তিক রাজনীতি দরকার ছিল। এর মাধ্যমেই রাজনীতিতে নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে ছাত্র রাজনীতি থেকে নেতৃত্ব সৃষ্টি হউক। সেদিকে বর্তমান ছাত্র নেতারা লক্ষ্য রাখবে এমন আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় নারায়ণগঞ্জে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিউজ নারায়ণগঞ্জের বিশেষ লাইভ টক শো ‘নারায়ণগঞ্জ কথন’ এর আলোচনায় ক্যাম্পাসের বেহাল এ অবস্থা উঠে আসা আলোচকদের বক্তব্যে। সোয়া এক ঘন্টার পাল্টা পাল্টি অভিযোগে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ-ছাত্র ইউনিয়ন-ছাত্র ফেডারেশন কেউ কাউকে ছাড় দিতে দেখা যায়নি। তবে সাবেক ছাত্র নেতাদের সুর ছিল একই রকমের। তারা চায় আগের জৌলুশে ফিরে আসুক ক্যাম্পাস রাজনীতি।

’নারায়ণগঞ্জ কথনে’ এবারের বিষয় ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা সঙ্গে ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান নান্নু।
এর বাইরেও অনলাইনে যুক্তহন, তোলারাম কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও আওয়ামী লীগের মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, তোলারাম কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া আক্তার সেতু, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি জাহিদ সুজন, জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন, সাংবাদিক আবুল হাসান।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece