৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের পরিকল্পনা জানালেন ডিসি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০২:১৮ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ মঙ্গলবার


নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের পরিকল্পনা জানালেন ডিসি

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বি গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত। আমি ডিসি হয়ে এখানে আসার পরে সরকারি কেবিনেটে জানতে পেরেছি নারায়ণগঞ্জ বি গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত। আমি ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলাকে এ গ্রেডে উন্নীত করার জন্য পত্র দিয়েছি। তবে এতে কয়েক বছর সময় লাগবে। কারণ এ গ্রেডে উন্নীত করতে হলে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরের জনবল বাড়াতে হবে। আর সেজন্য একাধিক কেবিনেট মিটিং করতে হবে। যেদি নারায়ণগঞ্জ এ গ্রেডে উন্নীত হবে সেদিন আমি নারায়ণগঞ্জে না থাকলেও শুনে খুবই খুশী হবো।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, মাত্র একটি সড়কের (বঙ্গবন্ধু) উপরে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ শহরটি দাড়িয়ে রয়েছে। এর জন্য একটি বিকল্প সড়কের প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে সরকারের কাছে প্রেরণ করেছি। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটি চার লেনে উন্নীত করার বিষয়ে পত্র প্রেরণ করেছি। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট ও জালকুড়িতে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণের জন্য পত্র প্রেরণ করেছি। চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত সড়কটি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমরা উদ্যোগ নিতে চেয়েছিলাম। এই সড়কের পাশে জেলা পরিষদের অনেক জমি রয়েছে যেগুলো লীজ দেয়া আছে। তবে ওই সড়কটি পদ্মা সেতুর কানেকটিং রোড হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। এছাড়া মেট্রো রেলের বিষয়েও নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে পত্র প্রেরণ করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি আরো জানান, পূর্বাচলে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

লাঙ্গলবন্দ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, লাঙ্গলবন্দের প্রকল্পের বিষয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান ইতিমধ্যে তৈরী করা হয়েছে। যা সম্পন্ন করতে অন্তত ১২০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। যাতে শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্যই নয় সকল ধর্মের সংমিশ্রন থাকবে। ওই প্রকল্পে ফাইভ স্টার মানের হোটেলও থাকবে। এটি বাস্তবায়ন হলে বন্দর সোনারগাঁয়ের পরে অন্যতম ট্যুরিষ্ট স্পট হবে। এমপি সেলিম ওসমান দেশে ফিরলে ওই মাস্টারপ্ল্যানের বিষয়ে আলোচনার পরে সরকারের কাছে প্রেরণ করা হবে। ইতিমধ্যে এলজিআরডি এর মাধ্যমে ১২০ কোটি টাকা এবং সড়ক ও জনপথের মাধ্য ১২০ কোটি টাকা অর্থাৎ সর্বমোট ২৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ডিএনডির ৫৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে।

কাশিপুরে ৩০ একরেরও বেশী জায়গার মধ্যে আইসিটি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কাশীপুরে ৩৬ একর জমি আইসিটি পার্ক নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। কাজটি দীর্ঘমেয়াদী, এটি হলে আশেপাশের জেলার আইসিটি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহন ও প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। এটি বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জের যুব সমাজের সামনে বিশাল সুযোগ আসবে।

গার্মেন্ট সেক্টর নিয়ে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জকে বিশ্বে নিটিং শিল্প হিসেবে চেনে। সেই নারায়ণগঞ্জে এখন অন্যান্য প্রজেক্টও নেয়া হচ্ছে যার ফলে নারায়ণগঞ্জ হবে অন্যতম একটি জেলা। বন্দরে ১০০ একর জায়গার মধ্যে নিট পল্লীর জন্য যে জায়গাটি আমরা চেয়েছি সেটা বেইজাকে দেয়া হয়েছে। এখন জায়গাটি আমাদের বেইজা থেকে কিনে নিতে হবে কিনা এ বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

আড়াহাজারের কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। যার মধ্যে ৫শ’ একর জায়গায় জাপানের সঙ্গে জেটুজে প্রকল্পটির কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে শুধু নারায়ণগঞ্জেরই নয় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এখানে কাজ করতে আসবে। এছাড়াও ব্যাক্তিগত পর্যায়েও আরো কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক) হচ্ছে। কালাপাহাড়িয়ায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা যায় কিনা সে বিষয়টিও পর্যালোচনায় রয়েছে। এসকল অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে নারায়ণগঞ্জের যুব সমাজের সামনে বিশাল সুযোগ আসবে।

২৩ অক্টোবর সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এর আওতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বিভিন্ন ই সেবা সম্পর্কে জনগণের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং এর এক পর্যায়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিসি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রধান সমস্যা মাদক ও ট্রাফিক। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ৫ হাজার বর্গফুটের পোশাক তৈরীর একটি কারখানা করা হচ্ছে যা বাংলাদেশের প্রথম। এটি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অর্থায়নে হচ্ছে এবং সরকারের সহযোগিতায় এখানে বিভিন্ন জিনিসপত্র আনা হয়েছে এবং দ্রুত এ কাজ চলছে। বিকেএমইএ আমাদের হেল্প করছে। ইতিমধ্যে আমরা মেশিন বরাদ্দ পেয়েছি।

যানজট প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা ইতোমধ্যে শহরে দিনের বেলায় ট্রাক চলাচল অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছি। এতে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা আমাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা এরপর রিকশার উপরে কাজ করবো। আমি ও এসপি সাহেব মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম অটোরিকশাগুলো বন্ধ করার। কিন্তু কয়েকদিন আগে অসংখ্য অটোরিকশা চালক আমার কার্যালয়ে এসে স্মারকলিপি দিয়েছেন হুট করে অটো রিকশা বন্ধ করে দিলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে বাধ্য হবে। আমরা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমরা ওই সকল শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কিছু করেই তারপর অটোরিকশার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ