২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৭:১৫ অপরাহ্ণ

কঠিন চ্যালেঞ্জে আবদুল হাই


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৬ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:৩৬ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার


কঠিন চ্যালেঞ্জে আবদুল হাই

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে এক বছর আগে সভাপতি হওয়ার পর যতটা না চ্যালেঞ্জে ছিলেন সভাপতি আবদুল হাই তার চেয়ে বেশী কঠিন পরীক্ষায় এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে। কারণ পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পর বেড়ে গেছে তাঁর দায়িত্ব। উন্নয়ন ও আর রাজনীতির পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁকে নিতে হবে কঠিন পথ পাড়ি।

অবশ্য আবদুল হাই এসব নিয়েও বেশ আশাবাদী। নিউজ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তুলে ধরেছেন রাজনীতির অনেক পরিকল্পনা।

নতুন কমিটি নিয়ে আবদুল হাই বলেন, নতুন কমিটি নিয়ে আমি আশাবাদী। দীর্ঘ দিন পর আমাদের এ কমিটি হয়েছে। ১৯৯৭ সালে যে কমিটি হয়েছে তারপর কোন কমিটি হয়নি। তারপর নির্বাচনে আমাদের বিপর্যয়ের পর একজনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তখন সভাপতি ছিলেন নাজমা রহমান। সেই সময় শামীম ওসমান অনুপস্থিত থাকায় অন্য আরেকজনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দেওয়া হয়। ২০০২ এসে কমিটি করা হয় তখন আকরাম ভাই আহবায়ক ও মফিজুল ইসলামকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। তারপর আর কোন কমিটি হয়নি। ওই কমিটির অর্ধেক আমাদের মধ্যে নেই। প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ৯ অক্টোবর আমাদের তিন সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করেন। তখন আমাকে সভাপতি, মেয়র আইভীকে সহ সভাপতি ও শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তারপর আমাদের সম্মেলন দেওয়ার টার্গেট দিয়েছিল কিন্তু আমরা সেটা করতে পারি নাই। কারণ সময় লাগে। আমরা অনেক আগেই কমিটি জমা দিয়েছি। দিপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক নওফেল দেখার পর সবশেষ প্রধানমন্ত্রী এ কমিটির অনুমোদন দেন।

এ কমিটির ভূমিকা কেমন হবে? সফল হবেন? প্রসঙ্গ আবদুল হাই বলেন, ‘যে কোন কর্মসূচি সফল করার মতো লোকজন এখানে আছে। প্রধানমন্ত্রী সব কিছু বিবেচনা করেই এ কমিটি দিয়েছেন। তবে এ মধ্যে একটু ভুল ত্রুটি থাকতেই পারে একেবারে ১০০ ভাগ কোন কিছুই সঠিক হয়না। কিছু ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। আর কোন কিছু হলে সেজন্য নেত্রী আছেনই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন প্রথম কাজ মেম্বারশীপ করা ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া। এটা তোমাদের জরুরী কাজ আর থানা পর্যায়ে কমিটিগুলো করবে। আমরা সকলে বসে যেভাবে কাজ করা যায় সেভাবে সিদ্ধান্ত নিবো। আমাদের নেত্রী যে প্রত্যাশা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ওনি যে ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ এর মধ্যে আমাদের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার যে স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন সেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অন্যান্য জেলার চেয়ে ব্যতিক্রম এটা। ঢাকার খুব কাছে হওযায় এর গুরুত্বও বেশি। সব থেকে কাছের জেলা এটা যার ফলে কোন সভা সমাবেশ হলে আগে আমাদের ডাক দেয়। এছাড়াও অন্যান্য দিক থেকেও আমাদের জেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। শিল্প সমৃদ্ধ জেলা এটি। তাই প্রধানমন্ত্রী যে আশা নিয়ে আমাদের কমিটি দিয়েছেন সেই আশা পূরণ করতে আমরা চেষ্টা করবো।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবেন? জানতে চাইলে আবদুল হাই বলেন, অবশ্যই করা হবে।

শামীম ওসমান, আইভী ও আপনি নিয়ে কোন মেরুকরণ হবে? প্রশ্নের জবাবে হাই বলেন, ‘আমি এগুলো হওয়ার কোন মনে করি না। বলয় রাজনীতির সব সময় বিরোধীতা করি। এগুলো পরিহার করে আমরা সবাই আওয়ামীলীগ করি। আমরা আওয়ামীলীগের সদস্য। আমাদের সকলের বক্তব্যে শেষে আমরা সকলই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলি। এ ইস্যুতে আমরা সবাই একমত।

তিনি আরো বলেন, ‘একটি বড় দলের নেতৃত্ব নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা থাকে। এটি বিশাল দল ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, বাসদ না। বিশাল দলের বিশাল কর্মী বাহিনী। বলয় মানে আমি মনে করি পার্টির জন্য ক্ষতি বয়ে আনা। বলয় মানে আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর বলয়ে আছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সবাই তার পিতার আদর্শের কর্মী।  আমাদের নেত্রী যেভাবে নির্দেশ দিবে সেই ভাবেই কাজ করবো।

আবদুল হাই বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ায় দলের গতি আরো বাড়বে। কেন্দ্রীয় ভাবে নির্দেশ দেওয়া আছে মাঠ পর্যায়ের প্রবীন ও অসুস্থ্য নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য। স্থানীয় ভাবে সহযোগিতা না করতে পারলেও কেন্দ্রীয় ভাবে সহযোগিতার জন্য জানানোর জন্য বলেছেন। আর আমাদের দলের সেক্রেটারী নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এতো দিন কমিটি ছিল না এখন হয়েছে তাই দলের গতি আরো বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে কারো সঙ্গে বিরোধ রাখতে চাই না। এমপি হিসেবে তার কর্মক্ষেত্রে আলাদা আবার দলের বিষয়ে তার কর্মক্ষেত্র আলাদা। অবশ্যই তিনি দলের ভালোর জন্য কাজ করবেন। আর এমপি হিসেবে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন আর করবেনও। আর একটি বড় পরিবারে থাকলে দেখা যায় ভাইয়ের সঙ্গে বোনের ঝগড়া হয়। শুধু ঝগড়া না অপ্রীতিকর ঘটনাও হয় কিন্তু পরে দেখা যায় সব কিছু ঠিক হয়ে যায়। আমাদের মধ্যে যা আছে তা নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা কিন্তু আদর্শ গত কোন দন্ধ নেই। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকা ভালো। নমিনেশনের জন্য সবাই বলে, আমি সবাই বলি চাও। দলে নৌকা তো ভাগ করে দেওয়া যাবে না। একজনই নৌকা পাবে। সেটা দল থেকে নির্ধারণ করে দিবেন। আর নেত্রী যাকে দায়িত্ব দিবেন তার পক্ষেই আমরা কাজ করবো।’

খাজা রহমত উল্লাহ মারা যাওয়ার পরও কমিটিতে আছেন? বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন ? জবাবে আবদুল হাই বলেন, তার মৃত্যুর আগেই কমিটি হয়েছিল। যেহেতু তিনি মারা গেছেন সেহেতু নতুন কেউ আসবেন। কমিটির নিয়মে আছেন যদি কেউ মারা যান কিংবা পদত্যাগ করেন সেখানে নতুন কেউ আসবেন।

মেয়র আইভী ও শামীম ওসমানকে নিয়ে এক মঞ্চে বসানো সম্ভব? জানতে চাইলে আবদুল হাই বলেন, আমি চেষ্টা করবো। ইতোমধ্যে সেলিম ওসমানের সঙ্গে আইভী বসেছেন। এখন বাকি আছে শামীম ওসমান। আমি চেষ্টা করবো দুই ভাই বোনকে এক সাথে বসানোর জন্য এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য। সামনে তো নির্বাচন এটার সঙ্গে ক্ষমতার প্রশ্ন এটা কোন সিটি করপোরেশন কিংবা পৌরসভা নির্বাচন না জাতীয় নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে ক্ষমতার প্রশ্ন জড়িত। যেখানে ক্ষমতার প্রশ্ন সেখানে আমি আশা করবো তারা সবাই দলের দিকে চেয়ে, দলের ভালো দিকে চেয়ে, নেত্রীর দিকে চেয়ে সবাই আমারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নেত্রীকে আমরা যারা নৌকার প্রার্থী হয়ে আসবেন তাকে বিজয়ী করে নেত্রীকে উপহার দিবো।

আগামী নির্বাচনে প্রত্যাশা কী জানতে চাইলে আবদুল হাই বলেন, আমরা মহাজোটে আছি। কিন্তু কিছুদিন আগে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে এক সভায় মতিয়া চৌধুরী এসেছিলেন তখন আমরা জানিয়েছি নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী চাই। আর যদি মহাজোট থাকে তাহলে নারায়ণগঞ্জ না দিয়ে অন্য জেলায় ছাড় দেওয়া হোক। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী চাই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ