৭ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ

UMo

ওসির হাতের গলার চিপায় মৃত্যুও হতে পারতো : তৈমূর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:১৯ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার


ওসির হাতের গলার চিপায় মৃত্যুও হতে পারতো : তৈমূর

সদ্যকারামুক্ত অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, আমি এপিলেড ডিভিশনের একজন আইনজীবী। ওয়ান এলিভেনে কঠিন রাজনীতির সময়ও আমি পালাইনি। অনেক মামলার আসামি হলেও আমি পালাইনি। আত্মসমর্পন করেছি।’

তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, সেই আমাকে কোর্টপাড়ায় এভাবে নাজেহাল করা এটা পুলিশের নিয়মের মধ্যে পড়ে কিনা? পুলিশ যে জনগণের বন্ধু সেই বন্ধুর মধ্যে এ আচরন পড়ে কিনা?’

নিউজ নারায়ণগঞ্জকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তৈমূর বলেন, ‘ওসি আমাকে বললেই হতো আপনার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে আপনি চলেন। আমি চলে যেতাম। পুলিশ আমার বাসা থেকে এরেস্ট করলেও পারতো। আইনজীবীদের প্রোগ্রামে ওসি কামাল আমাকে গলার মধ্যে চিপ দিছে। আমার গলায় এখনও ব্যাথা আছে। সে যেভাবে চিপ দিলো এতে আমার মৃত্যুও হতে পারতো।’

নিজের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের জানুয়ারীর ওয়ারেন্ট প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখন আমি জানি যে আমার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে তা মিথ্যা মামলায় আসামি। পরে ওয়ারেন্ট হয়। আমরা নাশকতা করিনি। বিস্ফোরক ঘটাইনি। হেফাজতের সিদ্ধিরগঞ্জে যে মামলা হয়েছে এটাও আমার নেতৃত্বে হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগে আসামি করা হলো। একই সময়ে সোনারগাঁয়ে মামলা হয়েছে সে মামলায়ও আমাকে আসামি করা হয়েছে আমি সেখানেও নাকি নেতৃত্ব দিয়েছি। সে মামলাতেও আমি পালাইনি। আমি আত্মসমর্পন করেছি। আদালত আমাকে জামিন দিয়েছেন। এখন এ মামলায় পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে সেটা তাদের অধিকার আছে।’

গত ২৩ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার বাইরে আগামী ৩০ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেল প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণার সময়ে তৈমূরকে হেনস্থা করে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। তখন পুলিশ তৈমূরকে ধরতে তাকে ধাক্কা ও টেনে হিচড়ে গাড়িতে তুলতে দেখা যায়। ওই ঘটনা প্রসঙ্গে তৈমূর এও বলেন, ‘পুলিশের প্রশিক্ষন এটা থাকা দরকার চোর ডাকাত বদমাশ খুনিরা যখন পালিয়ে গেলে পুলিশ যেভাবে গ্রেপ্তার করে সেভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মীকে গলায় চেপে ধরা পুলিশের আচরণ না। আমি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এপিলেট ডিভিশনের একজন আইনজীবী। আগের সরকারের সময়ে আমি বিআরটিসির চেয়ারম্যান হয়ে সরকারের সেবা দিয়েছি । সরকার আমাকে ভোগাডা থেকে পরিবহনের উপর তখন সর্বোচ্চ ট্রেনিং দিয়ে আনায়। আমি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম। এডিশনালও করেছিল। একই সময়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান করায় আমি এডিশনালে যাইনি। আমাকে অ্যাম্বাসেডর করেছে। সাবেক প্রধামন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমি উপদেষ্টা। আমি কি পালিয়ে যাওয়ার মত লোক? এখন সেই লোকের গলায় কি পুলিশ এভাবে গলার মধ্যে চিপ দিয়ে ধরতে পারে? আমি সকল দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই আমাকে কি গলায় চেপে ধরতে পারে? যেভাবে আমার গলায় ধরেছিল আমি তো মরে যেতে পারতাম।

তিনি বলেন, আমি যদি যেতে না চাইতাম তাহলে আমার অনেক উকিল মার খাইতো। ধস্তাধস্তি হতো। আমার সামনেই লাঠিচার্জ করার জন্য ওয়ারলেসে বার্তা আসতেছিল। আমিও দেখলাম আমার গলা চেপে ধরায় আমি নিঃশ্বাস নিতে পারতেছিলাম না। তখন আমি সবাইকে বললাম তোমরা শান্ত হও আমি পুলিশের সাথে যাচ্ছি।

তৈমূর আলম কথা বলতে গিয়ে বারবার গলা ধরছিলেন আর কাশছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। আমার গলা ব্যথা করছে। আমার এখন সকলের কাছে প্রশ্ন পুলিশ কি আমাকে এভাবে গলা চেপে ধরতে পারে কিনা? আমি ৭৮ সনে আইন পেশায় নিয়োজিত হই। ৮৪ সালে হাইকোর্টের সনদ পাই। সর্বোচ্চ সনদ হলো এপিলেড ডিভিশনের আইনজীবী। আমার হাতে অনেক উকিল তৈরি হয়েছে যারা আজকে আইনজীবী সমিতিতে নেতৃত্বে দিচ্ছে। আমি আওয়ামীলীগ বিএনপি বিবেচনা করেও উকিল বানাইনি। সেই আমাকে কোর্ট পাড়ায় এভাবে নাজেহাল করা এটা পুলিশের নিয়মের মধ্যে পড়ে  কিনা? পুলিশ যে জনগণের বন্ধু সেই বন্ধুর মধ্যে এ আচরন পড়ে কিনা? পুলিশ আমাকে বললেই হতো আপনার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে আপনি চলেন। সে আমার বাসা থেকে এরেস্ট করলেও পারতো। আইনজীবীদের প্রোগ্রামে ওসি কামাল আমাকে গলার মধ্যে চিপ দিছে। আমার গলায় এখনও ব্যথা আছে। সে যেভাবে চিপ দিলো এতে আমার মৃত্যুও হতে পারতো। এটা পুলিশের ইথিকসের মধ্যে পড়ে কিনা?

আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের বিষয় টেনে তৈমূর আলম বলেন, আমি দীর্ঘদিন সমিতিতে প্যানেল দিয়ে আসছি। আমাকে টেলিফোনে একাধিকবার বলা হয়েছিল আপনি নির্বাচনে ইন্টারফেয়ার করবেন না। আমি বলেছি, না এটা হবে না। আমার মান অভিমান কষ্ট থাকতে পারে কিন্তু আমি তো এটা থেকে পিছপা হবো না। এতদিন গ্রেপ্তার করা হলো না নির্বাচন সামনে আবার দুদিন টকশো করার পরেই আমাকে নাজেহাল করে গ্রেপ্তার করা হলো।



তিনি বলেন, আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। দলমত নির্বিশেষে সকলে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। আদালতের কাছে ন্যায্য বিচার পেয়েছি। তাই আদালতকে ধন্যবাদ। নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ভুমিকায় আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারীর মত গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা তৈমূর আরো বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি রাজনীতিতে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা থাকবেই। এটার নামই গণতন্ত্র। কিন্তু গণতন্ত্র তো পুুলিশের বুটের তলায় পিষ্ট হয়ে গেছেই। এখন রাজনৈতিক কর্মী রাজনীতিবিদ তাদের ব্যক্তিগত মান সম্মান আজকে পুলিশের বুটের তলায় পিষ্ট হচ্ছে।’

তৈমূর আলম বলেন, এব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনীতিবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি। এর আগেও আমি বহুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলাম। নারায়ণগঞ্জে যখন তোলারাম কলেজ, মহিলা কলেজ, ইসলামিয়া মাদরাসা, নারায়ণগঞ্জ সরকারি গার্লস স্কুল এবং তোলারাম কলেজের হোস্টেল থাকাবস্থাতেই নারায়ণগঞ্জ স্টেডিয়ামে মাসের পর মাস অশ্লীল নৃত্য আর জুয়া খেলা হতো। প্রশাসনের ব্যানারে হতো। তাদের পৃষ্টপোষকতায় এসব হতো। নাচ গান করে টাকা সংগ্রহ করতো। এটা ৮০ সালের দিকের ঘটনা। তারা বলতো সাহিত্য সংস্কৃতি বিকাশে এসব করছে। তো ওই সময় এগুলো নারায়ণগঞ্জের তৌহিদী জনতা জ্বালিয়ে দেয়। তখন সরকার আমার বিরুদ্ধে মামলা করে দেয়। নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে মামলা করে দেয়। এরপরও অনেক মামলায় আসামি হয়েছিলাম। ওই সময়  আমি কোর্টে স্বেচ্ছায় গিয়ে আত্মসমর্পন করেছিলাম।

তিনি বলেন, এর আগে আমি ২২ মার্ডারের (২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলায় ২২ জন নিহত) মামলায় আসামি হয়েছিলাম। ২২ মার্ডারের ঘটনায় কেউ রাজি হয়নি আত্মসমর্পন করার জন্য। আমি বলেছি আমি আত্মসমর্পন করব। আমি বাকিদের বলেছি আমার অবস্থান বুঝে তোমরা আত্মসমর্পন করো। আমি আগে করব। আমি যখন আত্মসমর্পন করি তখন আদালতে আজকের যিনি অ্যাটর্নি জেনারেল তিনি তখন এডিশনাল অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তখন তিনি আদালতে বললো কোটালিপাড়া, রমনা বটমূল, সিপিবি হামলা এসব বোমা হামলায় তৈমূর আলম খন্দকার জড়িত। কোর্ট জানতে চাইলো তৈমূর আলমের নাম কি এসব মামলায় আছে? বা ১৬৪ ধারায় বা ১৬১ ধারায় কারো জবানবন্ধি আছে? বা আলামত সিজার লিস্ট কোথাও তৈমূর আলমের নাম আছে কিনা? তখন তিনি আদালতের কাছে একদিন সময় চান। আমার আইনজীবীরা দাঁড়িয়ে বললো তৈমূর আলম খন্দকার বের হয়ে গেলে তাকে মেরে ফেলবে। সে ২২ মার্ডারের প্রধান আসামি। আমি ওই মামলায় আত্মসমর্পন করে জামিন পাই। এছাড়াও অনেক মামলা হয়েছে যেগুলোর মধ্যে আমি পালাইনি।

তিনি বলেন, ১৯৮০ সালের পরে নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন পুলিশ যিনি ওসি ছিলেন কিছুদিন আগে মঞ্জুর কাদের ও শাহআলম বিশাল টিম নিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমার বাসায় আসে। আমাকে বলছে আপনি গ্রেপ্তার। তখন আমি বলছি আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যান বাবা যাতে  ঘুম থেকে না ওঠেন এবং আমার দুটা মেয়ে আছে তারা যেনো সজাগ না হয়। তখন আমি পুলিশের সাথে স্বেচ্ছায় চলে যাই। যদিও শ্রমিকদের আন্দোলনে আমাকে রাখতে পারে নাই।

তৈমূর বলেন, সবচেয়ে বড় সাক্ষী হলো ওয়ান এলিভেন। ওই সময় আমি পালিয়ে যাইনি। আমি জোটের আহ্বায়ক ছিলাম। জেলা বিএনপির সেক্রেটারি ছিলাম। বিআরটিসির চেয়ারম্যান ছিলাম। কিন্তু ১/১১ এর সময় তো আমি পালাইনি। আমি তারেক জিয়ার জন্য মামলায় লড়েছি। ৫দিনের দিন আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো। আমার বাসায় গিয়ে আমাকে ফোন করলো। আমি বলেছি আমার পরিবারের কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না। আমি বাসায় আসতেছি। আমি স্বেচ্ছায় গিয়ে গ্রেপ্তার হই। তারা বাসায় গিয়ে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছবিটা ভেঙ্গে ফেললে তর্কে জড়াইয়ে যাই। আমাকে ধরে এনে কিছু পায়নি পরে আমার বিরুদ্ধে একটা চাকরি দেয়ার মামলা দিয়েছে। অভিযোগ করেছে কোটা ব্রেক করে নারায়ণগঞ্জের মানুষদের চাকরী দিছি। তখনও আমি পালাইনি। ওয়ান এলিভেনের সময় আমি পালাইনি।

 

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ