১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, শুক্রবার ২৫ মে ২০১৮ , ৪:৫১ অপরাহ্ণ

রাজনীতি ও কারাগার-২

ছবি তুলে রাজনীতি করতে পারিনা : রাজীব


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:০৫ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৮:৩২ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার


ছবি তুলে রাজনীতি করতে পারিনা : রাজীব

গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করছে দলটি। খালেদা জিয়ার সাজা হবার আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে সিলেট যান। তার সফর ও রায়কে কেন্দ্র করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। এতে দলের প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার সিলেট যাত্রার আগের দিন বিকেলে গ্রেফতার হয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব। পরে তাকে সদর থানার একটি নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় আসামী হিসেবে দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। প্রায় ২৩ দিন কারাগারে থাকার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জের ‘রাজনীতি ও কারাগার’ শীর্ষক ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে থাকছে কারাগার ও রাজনীতি নিয়ে মাসুকুল ইসলাম রাজীবের সাথে আলোচনার কিছু চুম্বক অংশ।

প্রশ্ন : আপনি গ্রেফতার হলেন কবে এবং কিভাবে ?
মাসুকুল ইসলাম রাজীব : আমি গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাসায় প্রবেশ করে খেতে বসি। সেখান থেকে কোন কারণ ছাড়া পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যায়। বাসায় প্রবেশের পর ১০ মিনিটও হয়নি, আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো। আমি যেহেতু কোন আসামী নই এবং কোন অপরাধ করিনি তাই বাড়িতে থাকতে আমার কোন ভয় নেই। আমার নামে অনেক মামলা, কতগুলো আমি নিজেও জানিনা তবে সব মামলায় আমি জামিনে আছি। তারপরও আমাকে কোন কারণ ছাড়াই বিশেষ মহলের নির্দেশে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো।

প্রশ্ন : কোন মামলাতে গ্রেপ্তার হলেন?
মাসুকুল ইসলাম রাজীব : এটা একেবারেই হাস্যকর একটি মামলা। আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বক্তব্য দিলেন যে আমাকে বাড়ি থেকে খেতে বসা অবস্থায় গ্রেফতার করেছেন কিন্তু তারা নাশকতা ও বিস্ফোরকের একটি মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন এবং সেখানে উল্লেখ করেছেন যে আমরা নাকি নাশকতা করছিলাম, তাদের উপর হামলা ভাঙচুর করেছি এবং সেখান থেকে পালানোর সময় আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অতএব বুঝাই যায় এটা কেমন মামলায় আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাকে থানায় নেয়ার পর একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিজ্ঞাসা করলেন এক কর্মকর্তাকে কোন ক্যাটাগরি। ওই কর্মকর্তা উত্তর দিলেন এ ক্যাটাগরি পরে আমাকে গ্রেফতার দেখানো হলো এবং আমার সাথে কারো দেখা কিংবা যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি।

প্রশ্ন : কারাগার থেকে বের হয়ে নিস্ক্রিয় মনে হচ্ছে আপনাকে, কারণ কি?
মাসুকুল ইসলাম রাজীব : নিস্ক্রিয় নই তবে আমাদের দলের কিছু নেতা যারা মাঠে নামেন কিন্তু কখন কিভাবে কর্মসুচী সেটা দলের কেউ জানেন না। দলের এমন একজন নেতার নেতৃত্বে জেলা বিএনপির কর্মসূচী হয় যিনি আওয়ামীলীগের নেতাকে নিজের নেতা বলে পরিচয় দেন। এমন নেতার সাথে কর্মসূচী করতে গেলে আগে আমাদের ভাবতে হবে। ফটোসেশনের জন্য মাঠে নেমে লাভ নেই, লাভ হচ্ছেও না। মাঠে নামতে হবে এমনভাবে যেন আর পিছনে ফিরে তাকাতে না হয়। আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে নামতে রাজী কিন্তু আমার সাথে আমার যেসব সহকর্মী ছোটভাইরা মাঠে নামতে তাদের দায়িত্ব কে নেবে। এভাবে ছবি তুলে রাজনীতি করতে পারিনা আমি এটা লজ্জার কিছুনা। আর সংগঠিত হয়ে না নামলে তেমন লাভও হবেনা। তাই সবাইকে সংগঠিত করে আগামীতে মাঠে যখন নামবো তখন আর পেছনে যাবার কোন সুযোগ থাকবেনা। জিয়া পরিবারের যে কোন নির্দেশনা মানতে আমি প্রস্তুত।

প্রশ্ন : কারাগারের দিনগুলি কেমন ছিল?
মাসুকুল ইসলাম রাজীব : আমি সব সময় কারাগারে গিয়ে কারাগারকে এনজয় করেছি। এবার আমি তা পারিনি, কারণ প্রথম থেকেই আমাকে রাখা হয়েছে ফাঁসির সেলে। আমি সেখান থেকে বের হলেও আমার সাথে দুই তিনজন মিয়াসাহেব থাকতো। দলের অনেক নেতাকর্মী আছে যাদের সাথে এবার কথা বলারও সুযোগ হয়নি। এমন এবার যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। কারাগার থেকে এখন কেউ জামিন নিলেও চাইলেই বের হতে পারেনা। কারণ কারাগার থেকে বের হতে প্রতিটি সংস্থার ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। জামিন নিলেও ক্লিয়ারেন্স না পেলে কাউকে মুক্তি দেয়া হয়না। কারাগারেও এবার কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের।

প্রশ্ন : রাজনীতি নিয়ে আপাতত ও আগামী পরিকল্পনা কি?
মাসুকুল ইসলাম রাজীব : আগামীর পরিকল্পনা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছি। তবে সেটা দলের এসব নেতাদের কথায় নয় যারা আওয়ামীলীগের নেতাদের নিজের নেতা বলে পরিচয় দেয়। এখন আমাদের আশেপাশের সবকিছু আগে ঠিক করতে হবে। কারা আমাদের নিজের সেটা দেখতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী করতে নামলাম কিন্তু এমন দালাল নেতারা একটা নাশকতা করলো তখন আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে।

তিনি বলেন, দলের আন্দোলন কর্মসূচীতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছি। তবে সেটা হতে হবে জিয়া পরিবারের কারো নির্দেশনায়। অন্য কারো জন্য, অন্য কারো কথায় আমরা রাজপথে নেমে নিজেদের জীবন বাজী রাখবোনা। জিয়া পরিবারের নির্দেশে হাজারো কর্মী সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।

প্রশ্ন : রাজপথে কি দেখা পাওয়া যাবে আপনার ও আপনাদের সহকর্মীদের?
মাসুকুল ইসলাম রাজীব : অবশ্যই দেখা পাওয়া যাবে। আমরা মাঠে কাজের নেতাকর্মী। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমি দলের সিনিয়র নেতাদের আহবান জানাবো এখন এসব ছবির রাজনীতি বাদ দিয়ে সবাইকে নিয়ে বসে সংগঠিত করে মাঠে নামুন। এতে কাজ হবে, এভাবে কর্মসূচী করে কোন কাজ হচ্ছেনা।

তিনি বলেন, ৫টি আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। আপনারা সাদা মনে একসাথে বসে আলোচনা করে দলের সবাইকে নিয়ে রাজপথে নামুন। নির্বাচন করবেন আপনারা, দল থেকে সুবিধা নেবেন আপনারা আমরা নই। তবে আপনারা এক হয়ে আমাদের নিয়ে মাঠে নামুন। আপনাদের কিছুই করতে হবেনা কথা দিচ্ছি আপনারা শুধু রাজপথে আসুন যা করার আমরা হাজারো নেতাকর্মীরাই করবো।

প্রশ্ন : নারায়ণগঞ্জে তো খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কোন মিছিলও হয়নি, কারণ কি বলে মনে করছেন?
মাসুকুল ইসলাম রাজীব : দলের সিস্টেম, সংগঠিত হবার মন মানসিকতা না থাকাই এর কারণ। খালেদা জিয়া দলের সর্বোচ্চ নেত্রী তার জন্য দলের কেউ মিছিল করতে পারেনি এটা দলের শীর্ষ নেতাদেরই দোষ। দলের হাজার হাজার কর্মী প্রস্তুত কিন্তু তাদেরকে সংগঠিত করে মাঠে নামাতে ব্যর্থতার কারনেই এটি হয়নি।

প্রশ্ন : বিরোধী দলের রাজনীতিতে কারাগারে যেতেই হয়, আবারো যদি কারাগারে যেতে হয় সেক্ষেত্রে দলের হয়ে, দলের জন্য, দলের পক্ষে কাজ করবেন তো নাকি নিস্ক্রিয়ই থাকবেন?
মাসুকুল ইসলাম রাজীব : আমার বাড়ি, আমার রাজনৈতিক অবস্থান আমার সহকর্মী, ছোটভাই, বন্ধু স্বজন নেতাকর্মীরা সকলেই নারায়ণগঞ্জের এখানকার। আমরা রাজনীতি করি কোন অন্যায় নয়। আমাদের এখানে থাকবো এবং আমি আমার বাড়িতেই থাকবো। দলের জন্য যেকোন কাজ করতেই আমরা প্রস্তুত। গ্রেফতার কারাগারের ভয় করিনি আর করবোও না। যদি রাজপথে থেকে দলের জন্য আবারো গ্রেফতার হতে হয় সেটি হতে আপত্তি নেই। তবে একটি কথা মনে রাখা দরকার কোন কারণ ছাড়াই আজকে এভাবে আমাদের গ্রেফতার করে যে আচরণ আপনারা করছেন তার জবাবও একদিন আপনারা পাবেন এবং সেটি শিগ্রই।

প্রশ্ন : নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঠিকমত রাজপথে আন্দোলন করতে পারছে না অনেকের অভিমত আপনার কী ?
মাসুকুল ইসলাম রাজীব : এটা ঠিক তবে এবারের মত যেমন অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে তাও বিরল। আমরা সকলকে নিয়ে সংগঠিত হচ্ছি। আমরা সকলেই রাজপথে নামবো এবং এমনভাবেই নামবো যখন আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ থাকবেনা। আমাদের নেতাকর্মীরা যারা জেলে ছিলেন তাদের এবার দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, দলের সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন ও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সব সময় খোঁজ খবর রেখেছেন এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং তাদের মত সকলেই যার যার অবস্থান থেকে নেতাকর্মীদের জন্য এগিয়ে আসুক সেই প্রত্যাশা করি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ