১২ বৈশাখ ১৪২৫, বুধবার ২৫ এপ্রিল ২০১৮ , ১০:২৯ অপরাহ্ণ

Kothareya1150x300

রাজনীতি ও কারাগার-৫

পুলিশের রূঢ় আচরণ কাম্য না : নজরুল ইসলাম আজাদ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৪ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০২:৫৪ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৮ বুধবার


পুলিশের রূঢ় আচরণ কাম্য না : নজরুল ইসলাম আজাদ

গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করছে দলটি। খালেদা জিয়ার সাজা হবার আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে সিলেট যান। তার সফর ও রায়কে কেন্দ্র করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। এতে দলের প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন।

গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের অনেকেই জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে একেবারেই নীরব অবস্থায় রয়েছেন। আবার কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়েই আবারো খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে যোগ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনে মাঠে থেকে কারাগারকে বরণ করতে তাদের কোন আপত্তি নেই বলেও জানাচ্ছেন তারা। তবে কারাগার থেকে বের হয়ে নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে এবং পুনরায় কারাগার এড়াতে মুক্ত থাকছেন দলীয় কর্মসূচীগুলো থেকে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার সিলেট যাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে নারায়ণগঞ্জে মিছিল করার প্রস্তুতি নিয়ে গিয়ে আড়াইহাজার থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। পরে তাকে আড়াইহাজার থানার একটি নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় আসামী হিসেবে দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। প্রায় ১৪ দিন কারাগারে থাকার পর ১৯ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জের ‘রাজনীতি ও কারাগার’ শীর্ষক ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের পঞ্চম পর্বে থাকছে কারাগার ও রাজনীতি নিয়ে নজরুল ইসলাম আজাদের সাথে আলোচনার কিছু চুম্বক অংশ।

প্রশ্ন : আপনি গ্রেফতার হলেন কবে এবং কিভাবে ?
নজরুল ইসলাম আজাদ : গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে সিলেট যাবার পথে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাদের নির্দেশ ছিল নেত্রীর যাত্রাপথে অবস্থান করার। আমারও গাড়িবহরের সাথে সিলেট যাবার কথা ছিল। এর মধ্যে আমি আড়াইহাজারের উপর দিয়ে নেত্রীর যাবার পথে নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান নিলে পুলিশ এসে আমাদের ফেস্টুন, ব্যানার কেড়ে নেয়। আমি নেতাকর্মীদের সারিবদ্ধভাবে সড়কে দাঁড় করাচ্ছিলাম।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে সংবাদ পাই নেত্রীর গাড়িবহর সাইনবোর্ডে প্রবেশ করেছে এবং পুরো সড়ক ফাঁকা কেউ নেই। তখন নেতাকর্মীদের নিয়ে সড়কে উঠার সময় পুলিশ এসে আমাকেসহ আমার কিছু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। একজন পুলিশের ওসি যিনি আড়াইহাজার থানার দায়িত্বে আছেন এম এ হক সাহেব তাকে আমি কখনো দেখিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না। তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ধরে নিয়ে গেলেন। এমন রূঢ় আচরণ একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে কখনই কাম্য নয়। আমরা তো মানুষ হতে পারি বিরোধী দলের রাজনীতি করি। মানুষকে নূন্যতম সম্মান দেখানোটা পুলিশের অবশ্যই উচিত।

তিনি আরো বলেন, এর মধ্যে আমাকে ধরার পর আমার নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পালটা ধাওয়া হলে পুলিশ সেখানে তাদের উপর গুলিও চালিয়েছে এবং ব্যাপক নির্যাতন করেছে। অনেকের বাড়ি বাড়ি গিয়েও তল্লাশি করার নামে পরিবারের মানুষকেও হয়রানি করেছে।

প্রশ্ন : কোন মামলাতে গ্রেপ্তার হলেন ?
নজরুল ইসলাম আজাদ : আমার নামে যত মামলা ছিল আমি সব কয়টায়ই জামিনে ছিলাম। কোন কারণ নেই আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে তারপর মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে। কিন্তু আমার নামে কোন মামলা কিন্তু ওয়ারেন্ট ছিলনা।

প্রশ্ন : কারাগার থেকে বের হয়ে নিস্ক্রিয় মনে হচ্ছে আপনাকে, কারণ কি ?
নজরুল ইসলাম আজাদ : নিস্ক্রিয় নয়, আমি কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচীগুলো পালন করছি কেন্দ্রের সাথে। অবস্থান, অনশন, বিক্ষোভে আমি ঢাকায় অংশ নিচ্ছি। এ ছাড়া আদালতেও নিয়মিত থাকছি। নারায়ণগঞ্জেও দলের প্রতিটি কর্মসূচী আড়াইহাজারে পালিত হয়েছে যা আপনাদের বিভিন্ন মিডিয়ায় আসছে।

তিনি বলেন, দলের প্রতিটি কর্মসূচী যেমন লিফলেট বিতরণ, বিক্ষোভ, অবস্থানসহ সকল কর্মসূচীই আড়াইহাজারে পালিত হচ্ছে। জেলা বিএনপির কর্মসূচী হোক কিংবা না হোক আমার নেতাকর্মীরা আড়াইহাজারে কর্মসূচী পালন করছেন। আর নারায়ণগঞ্জে তো জেলা বিএনপি কর্মসূচী আহবান করেনা, আমি নিজেও কয়েকবার যোগাযোগ করেছি যে কর্মসূচী কখন, কোথায় করবেন আমি আসবো কিন্তু আমাকে পরে আর কিছু জানানো হয়নি। সুতরং আমি ঢাকায় ও আড়াইহাজারে কর্মসূচী পালনে সক্রিয় রয়েছি, নিস্ক্রিয় নই।

প্রশ্ন : কারাগারের দিনগুলি কেমন ছিল ?
নজরুল ইসলাম আজাদ : কারাগারের দিনগুলি অনেক খারাপ ছিল। বলে বুঝানো যাবেনা। আমাকে কারাগারে যে ধরনের খাবার দেয়া হয়েছে তাতে আমি এখনো সুস্থ্য হইনি। আমার পেটে এখনো সমস্যা রয়েছে। আমাকে কারাগারে নেয়ার পর কনডেম সেলে রাখা হয়েছিল এবং কারো সাথেই আমার দেখা কিংবা যোগাযোগ করতে দেয়নি। আমি বার বার জিজ্ঞাসা করেছি আমাকে কেন ফাঁসির এই সেলে রাখা হয়েছে এবং কেন বের হতে দেয়া হচ্ছেন, তাদের উত্তর ছিল উপরের নির্দেশ।

কারাগারে সকলেই হাটাহটি করতে পারে, কথা বলতে পারে, বিভিন্ন কারাবন্দিদের সাথে দেখা হয় কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এমন সুযোগ ছিলনা, যোগ করেন তিনি।

প্রশ্ন : রাজনীতি নিয়ে আপাতত ও আগামী পরিকল্পনা কি ?
নজরুল ইসলাম আজাদ : আপাতত ও আগামীর পরিকল্পনা আমাদের মায়ের মত নেত্রী যাকে বিনা অপরাধে একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে সাজা দিয়ে তাকে মুক্ত করে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান যে নির্দেশনা দেবেন তা নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও পালন করা এবং খালেদা জিয়াকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী করে দেশের মানুষের মাঝে সুশাসন ফিরিয়ে দেয়া।

প্রশ্ন : রাজপথে কি দেখা পাওয়া যাবে আপনার ও আপনাদের সহকর্মীদের?
নজরুল ইসলাম আজাদ : বিগত সময়েই দেখা গেছে এবং আগামীতেও দেখা যাবে। আমি জিয়া পরিবারকে ভালোবাসি এবং এই পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ নিজের জীবনকেও উৎসর্গ করতেও আমার কোন আপত্তি নেই।

প্রশ্ন : নারায়ণগঞ্জে তো খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কোন মিছিলও হয়নি, কারণ কি বলে মনে করছেন?
নজরুল ইসলাম আজাদ : মিছিল হয়েছে, আমার নেতাকর্মীরা রায়ের পর তাৎক্ষনিক আড়াইহাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আমি কারাগারে ছিলাম ঠিকই কিন্তু আমার নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে মিছিল করেছে এবং ৮ তারিখে আমার নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার থেকে ঢাকায় গিয়েছিল এবং নেত্রীর গাড়িবহরেও ছিল। ৮ তারিখে ঢাকা থেকে আমার ৪ জন কর্মী গ্রেফতার হয়, এদের মধ্যে এখনো তিনজন কেরানীগঞ্জ কারাগারে আছে। আর সেদিন সানোয়ার নামে আমার কর্মীকে পিটিয়ে তার কোমর ভেঙ্গে দিয়েছিল র‌্যাব। সে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে গত পরশু বাড়ি ফিরেছে এখনো সে সোজা হয়ে দাড়াতে পারেনা। মিছিল হয়েছে একেবারেই যে হয়নি এটা বলা যাবেনা।

প্রশ্ন : বিরোধী দলের রাজনীতিতে কারাগারে যেতেই হয়, আবারো যদি কারাগারে যেতে হয় সেক্ষেত্রে দলের হয়ে, দলের জন্য, দলের পক্ষে কাজ করবেন তো নাকি নিস্ক্রিয়ই থাকবেন?
নজরুল ইসলাম আজাদ : যদি আমাকে আরো ২০ বারও কারাগারে যেতে হয় যাবো। যেখানে আমার মায়েরমত নেত্রীই কারাগারে রয়েছেন সেখানে আমার ভয় কিসের। কারাগার, মামলা, হামলা এসবে ভয় করিনা। জিয়া পরিবারের জন্য কোন কিছু করতেই আমার আপত্তি নেই। আর অন্ধকারের পরেই আলো আসে, আলো সন্নিকটে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ