৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:২২ পূর্বাহ্ণ

UMo

রাজনীতি কারাগার-৬

রিমান্ড থাকায় মেয়েকে স্কুলে নিতে পারি নাই : রফিক


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৯ পিএম, ২২ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার


রিমান্ড থাকায় মেয়েকে স্কুলে নিতে পারি নাই : রফিক

গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করছে দলটি। খালেদা জিয়ার সাজা হবার আগে প্রায় নিয়মিতই বিভিন্ন মামলায় বকশিবাজারে অস্থায়ী আদালতে তিনি হাজিরা দিতেন। তার হাজিরা ও রায়কে কেন্দ্র করে জড়ো হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরপাকড় করে পুলিশ। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হন।

গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের অনেকেই জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে একেবারেই নীরব অবস্থায় রয়েছেন। আবার কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়েই আবারো খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে যোগ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনে মাঠে থেকে কারাগারকে বরণ করতে তাদের কোন আপত্তি নেই বলেও জানাচ্ছেন তারা। তবে কারাগার থেকে বের হয়ে নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে এবং পুনরায় কারাগার এড়াতে মুক্ত থাকছেন দলীয় কর্মসূচীগুলো থেকে।

গত ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার সময় তার গাড়িবহরের সামনে থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম ভূইয়া। পরে তাকে রমনা ও শাহবাগ থানার একাধিক নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় আসামী হিসেবে দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। প্রায় তিন মাস কারাগারে থাকার পর ১৮ মার্চ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জের ‘রাজনীতি ও কারাগার’ শীর্ষক ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের ষষ্ঠ পর্বে থাকছে কারাগার ও রাজনীতি নিয়ে রফিকুল ইসলামের সাথে আলোচনার কিছু চুম্বক অংশ।

প্রশ্ন : আপনি গ্রেফতার হলেন কবে এবং কিভাবে ?
রফিকুল ইসলাম : আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা ছিল ৫ ডিসেম্বর। আমরা বরাবরের মত সেদিনও ছিলাম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর থেকে। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সাথে থাকা অবস্থায় হটাত করেই দেখলাম পুলিশ ও ডিবি ধরপাকড় শুরু করলো, কোন কারণ ছাড়াই অনেক নেতাকর্মীদের সাথে আমাকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হলো।

প্রশ্ন : কোন মামলাতে গ্রেপ্তার হলেন?
রফিকুল ইসলাম : কোন মামলাতেই গ্রেফতার হইনি তবে গ্রেফতার হয়ে মামলা খেয়েছি। একের পর এক নাশকতার মামলায় ১৪ দিন রিমান্ডেও নেয়া হয়েছিল আমাকে। রমনা, শাহবাগ থাকার নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় আসামী করা হয় আমাদের। অথচ নাশকতা ও বিস্ফোরণ তো দূরের কথা বরং পুলিশই আমাদেরকে নাশকতা করতে উস্কানি দিয়েছিল আমরা সব সময় শান্তিপূর্ণ ছিলাম।

প্রশ্ন : কারাগার থেকে বের হয়ে নিস্ক্রিয় মনে হচ্ছে আপনাকে, কারণ কি?
রফিকুল ইসলাম : কারাগার থেকে তো মাত্র বের হলাম। অসুস্থ কিছুটা, ক্লান্ত। তিন মাস পর একমাত্র ছোট্ট মেয়ের সাথে কিছুটা সময় কাটাচ্ছি। রাজপথের কর্মী আমরা, রাজপথেই চিরদিন ছিলাম আবার রাজপথেই ফিরবো।

প্রশ্ন : কারাগারের দিনগুলি কেমন ছিল?
রফিকুল ইসলাম : খুব যে সুখকর ছিল তা নয়। কারাগারে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারন সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরাও ছিলেন। অনেক কষ্ট করেছি কারাগারে তবে যখন আমাদের নেত্রীকে কারাগারে নিয়েছে তখন আর নিজের কষ্টকে কষ্টই মনে হয়নি। যেখানে আমার নেত্রীই কারাগারে রয়েছে সেখানে কারাগারকে আর কারাগার মনে হয়নি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে কষ্টের সময় ছিল রিমান্ডের দিনগুলো। বিশেষ করে শাহবাগ থানায়, একেবারে বাজে অবস্থা। বড় বড় গর্ত, এক রুমে ১০ জনের স্থান হলেও ৭০ থেকে ৮০ করে রাখতো। খুবই কষ্টকর। এবার আমাদের সারাদিন আদালতে রেখে সন্ধ্যায় কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে গেলে সেখানে গিয়ে দেখি এক মামলায় রিমান্ডে নেয়ার জন্য মামলার আইও বসে আছেন। আমাদেরকে তিনি বলেন, জলদি চলেন সময় নেই, আমরা কারাগারের কাছে তখন আমাদের দুপুরের খাবারের জন্য অন্তত ৩০ মিনিট চেয়েছিলাম। কষ্টের আরো ব্যাপার ছিল। আমাদেরকে রিমান্ড দেয়া হলেও রিমান্ডে নেয়া হতো ১৫ দিন ২০ দিন পরে।

কান্নাজড়িত কন্ঠে রফিক বলেন, আমাকে যেদিন গ্রেফতার করে সেদিন আমার একমাত্র মেয়ে আমাকে দেখতে মায়ের সাথে থানায় আসে। তখন পুলিশ আমাকে বলে এই ছোট্ট মেয়েকে এখানে এনেছেন কেন, আমি অনেক অনুরোধ করি একটি লকাপটা খুলে দেন আমি আমার মেয়েকে আদর করবো। তখন আমি তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করি। এই তিনমাসের মধ্যে তার সাথে আমার আর দেখা হয়নি। মেয়ের জন্য মনটা সবচেয়ে খারাপ লাগতো। আমাকে সে বলেছিল বাবা এবার কিন্তু চতুর্থ শ্রেণিতে উঠবো তুমি আমাকে প্রথম দিন স্কুলে নিয়ে যাবা। আমি যেতে পারিনি। (কথাগুলো বলতে বলতে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রফিক।)

প্রশ্ন : রাজনীতি নিয়ে আপাতত ও আগামী পরিকল্পনা কি?
রফিকুল ইসলাম : পরিকল্পনা দল ও দেশের স্বার্থে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া, আমার নেতা মাসুকুল ইসলাম রাজীব ভাই, আমার বড় ভাই নজরুল ইসলাম আজাদ ভাই যেই নির্দেশনা দেবেন সেটিই পালন করে রাজপথে সক্রিয় থাকা।

প্রশ্ন : রাজপথে কি দেখা পাওয়া যাবে আপনার ও আপনাদের সহকর্মীদের?
রফিকুল ইসলাম : অবশ্যই পাওয়া যাবে। মাত্র তো বের হয়েছি। কিছুদিনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে ফিরবো এবং আবারো সক্রিয়রুপে নেত্রীর মুক্তির ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় হবো।

প্রশ্ন : নারায়ণগঞ্জে তো খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কোন মিছিলও হয়নি, কারণ কি বলে মনে করছেন?
রফিকুল ইসলাম : হয়নি তবে হবে। আমরা করবো। মুক্তির মিছিলে দেখা যাবে নারায়ণগঞ্জের তরুণ সমাজকে। সরকার নিজেদের অবস্থানকে যদি চিরস্থায়ী মনে করে তবে তারা ভূল করছে।

প্রশ্ন : বিরোধী দলের রাজনীতিতে কারাগারে যেতেই হয়, আবারো যদি কারাগারে যেতে হয় সেক্ষেত্রে দলের হয়ে, দলের জন্য, দলের পক্ষে কাজ করবেন তো নাকি নিস্ক্রিয়ই থাকবেন?

রফিকুল ইসলাম : কারাগারে যেতে হবে যাবো। কারাগারে যেতে আপত্তি নেই। কিন্তু অন্যায়ভাবে আমাদেরকে যেভাবে কারাগারে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে তার ফলাফল কি ইতিহাসের আঙ্গিকে এই সরকারকে একদিন পেতে হবেনা? ইতিহাস ফিরে ফিরে এসে তাদেরকে একই ধরনের খারাপ অবস্থায় ফেলতে পারে, মনে রাখতে হবে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ