৬ কার্তিক ১৪২৫, রবিবার ২১ অক্টোবর ২০১৮ , ৫:২০ অপরাহ্ণ

UMo

রাজনীতি ও কারাগার-৯

ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করার আহবান মামুনের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৪ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করার আহবান মামুনের

গত ৮ ফেব্রয়ারি থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করছে দলটি। খালেদা জিয়ার সাজা হবার আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে সিলেট যান। তার সফর ও রায়কে কেন্দ্র করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। এতে দলের প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন।

গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের অনেকেই জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে একেবারেই নীরব অবস্থায় রয়েছেন। আবার কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়েই আবারো খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে যোগ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনে মাঠে থেকে কারাগারকে বরণ করতে তাদের কোন আপত্তি নেই বলেও জানাচ্ছেন তারা। তবে কারাগার থেকে বের হয়ে নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে এবং পুনরায় কারাগার এড়াতে মুক্ত থাকছেন দলীয় কর্মসূচীগুলো থেকে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁয়ের ইউমেন্স কলেজের সামনে থেকে গ্রেফতার হন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মামুন মাহমুদ। পরে তাকে বিভিন্ন থানার নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলাসহ একাধিক মামলায় আসামী হিসেবে দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। ৫৩ দিন কারাগার ও বিভিন্ন মেয়াদের একাধিকবার রিমান্ড শেষে ৪ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান মামুন মাহমুদ।

নিউজ নারায়ণগঞ্জের ‘রাজনীতি ও কারাগার’ শীর্ষক ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের নবম পর্বে থাকছে কারাগার ও রাজনীতি নিয়ে মামুন মাহমুদের সাথে আলোচনার কিছু চুম্বক অংশ।

প্রশ্ন : আপনি গ্রেফতার হলেন কবে এবং কিভাবে ?
মামুন মাহমুদ : আমি ১০ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁয়ে যাবার পথে সেখনা আগে থেকে উৎ পেতে থাকা প্রশাসন আমাকে কলেজের সামনে থেকে গ্রেফতার করে।

প্রশ্ন : কোন মামলাতে গ্রেপ্তার হলেন?
মামুন মাহমুদ : কোন মামলায় গ্রেফতার হইনি গ্রেফতারের পরে মামলায় জড়িয়েছি। আমাকে নিয়ে প্রথমে কিছুক্ষন সোনারগাঁও থানায় রাখা হলো, পরে আমাকে সারাদিন সারারাত ডিবি অফিসে পাঠানো হলো। তারপর বিভিন্ন থানায় সাজানো মামলায় আমাকে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা হয়েছে।

প্রশ্ন : কারাগার থেকে বের হয়ে নিস্ক্রিয় মনে হচ্ছে আপনাকে, কারণ কি?
মামুন মাহমুদ : মাত্র ৪ দিন হলো বের হয়েছি, এর মধ্যে কোন কেন্দ্রীয় কর্মসূচী ছিলনা। আর আমি বের হয়ে নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছি এবং যারা কারানির্যাতিত তাদের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি। নিস্ক্রিয় মনে হবার কোন কারণ নেই।

প্রশ্ন : কারাগারের দিনগুলি কেমন ছিল?
মামুন মাহমুদ : কারাগার তো বন্দিজীবন। সেখানে আমাকে ফাঁসির আসামীদের সেলে রাখা হয়েছিল। সেখানে চিহ্নিত অপরাধীদেরকেও বিচরণ করতে দেয়া হয় কিন্তু আমাকে ৫৩ দিন কোথায় বিচরণ করতে দেয়া হয়নি। নির্ধারিত সেলেই রাখা হয়েছে এবং করা হয়েছে কঠোর নজরদারি।

প্রশ্ন : রাজনীতি নিয়ে আপাতত ও আগামী পরিকল্পনা কি?
মামুন মাহমুদ : দলের চেয়ারপারসন মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের যেন জনগণের অংশগ্রহণমূলক হয় সেজন্য বিএনপির চলমান আন্দোলনকেও বেগবান করতে হবে। আমি নারায়ণগঞ্জের সকল নেতাকর্মীদের এই সরকারকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকল ভেদাভেদগ্রুলে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানাই।

প্রশ্ন : রাজপথে কি দেখা পাওয়া যাবে আপনার ও আপনাদের সহকর্মীদের?
মামুন মাহমুদ : অবশ্যই দেখা যাবে। রাজপথেই মানুষ আমরা রাজপথই আমাদের ঠিকানা।

প্রশ্ন : নারায়ণগঞ্জে তো খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কোন মিছিলও হয়নি, কারণ কি বলে মনে করছেন?
মামুন মাহমুদ : দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলো বিএনপির ব্যানারে করার চেষ্টা করা হয়েছে। আসলে কর্মসূচী প্রণয়ন করে কেন্দ্র, কেন্দ্র থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী দেয়া হচ্ছে আমরা নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবেই রাজপথে থাকতে বলছি।

প্রশ্ন : বিরোধী দলের রাজনীতিতে কারাগারে যেতেই হয়, আবারো যদি কারাগারে যেতে হয় সেক্ষেত্রে দলের হয়ে, দলের জন্য, দলের পক্ষে কাজ করবেন তো নাকি নিস্ক্রিয়ই থাকবেন?
মামুন মাহমুদ : আমি বর্তমান সরকারের আমলেই এর আগেও তিনবার কারাগারে গিয়েছি। কারাগারে যেতে হলে যাবো আমি প্রস্তুত তবুও বর্তমান অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে আমাদেরকে পিছে হটানো যাবেনা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

সাক্ষাৎকার -এর সর্বশেষ